hadith book logo

মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?

লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৮

বিশ্বব্যাপী অন্ধকার

মোদ্দা কথা, এই ঈসায়ী ৭ম শতাব্দীতে সমগ্র পৃথিবীতে এমন কোন জাতিগোষ্ঠী দৃষ্টিগোচর হচ্ছিল না যাদেরকে সুরুচিসম্পন্ন বলা যায়। সে যুগে না ছিল কোন উচ্চতর মূল্যবোধের ধারক-বাহক কোন সমাজ, না ছিল এমন কোন হুকুমত যার বুনিয়াদ ন্যায়নীতি ও প্রেমপ্রীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এমন প্রতিভাবান কোন নেতৃত্ব ছিল না এবং এমন কোন ধর্ম ছিল না যা সহীহশুদ্ধ এবং যা আম্বিঘা-ই কিরাম-এর দিকে সহীহভাবে সম্বন্ধযুক্ত আর তাদের শিক্ষামালা ও সমূহ বৈশিষ্ট্যের ধারক-বাহক। এই ঘনঘোর অন্ধকার মাঝে কোথাও কোন ইবাদতগাহ ও খানকাহর মাঝে কখনো যদিও বা যৎসামান্য আলোকরশ্মি চোখে পড়ত তার অবস্থাও ছিল এমন যেন বর্ষাঘন অন্ধকার রাত্রে জোনাকির আলো। সহীহ্ ইলম ও বিশুদ্ধ আমল এত দুর্লভ ও দুস্পাপ্য ছিল এবং আল্লাহর সোজা-সরল রাস্তার সন্ধান দানকারীর সাক্ষাৎ কদাচিৎ মিলত যে, ইরানের বুলন্দ হিম্মত, অস্থির ও চঞ্চল প্রকৃতির যুবক সালমান ফারসী যিনি আপন জাতিগোষ্ঠী ও বংশীয় ধর্ম (অগ্নি পূজা) থেকে অতৃপ্ত ও নিরাশ হয়ে সত্যের সন্ধানে ইরান থেকে শুরু করে সিরিয়ার শেষ সীমান্ত অবধি দীর্ঘ ও বিস্তৃত ভূভাগ চষে ফিরে মাত্র চারজন মানুষ এমন পেয়েছিলেন যাঁদের থেকে তাঁর অতৃপ্ত আত্মা তৃপ্ত এবং অশান্ত হৃদয় প্রশান্তি লাভ করেছিল এবং যারা তাদের নবী-রসূলদের কথিত ও প্রদর্শিত পথের ওপর কায়েম ছিলেন।

বিশ্বব্যাপী এই অন্ধকার ও অরাজকতার যেই চিত্র কুরআন মজীদ এঁকেছে এর থেকে সুন্দর চিত্র আঁকা আদৌ সম্ভব নয়।২

( ظَهَرَ ٱلۡفَسَادُ فِی ٱلۡبَرِّ وَٱلۡبَحۡرِ بِمَا كَسَبَتۡ أَیۡدِی ٱلنَّاسِ لِیُذِیقَهُم بَعۡضَ ٱلَّذِی عَمِلُوا۟ لَعَلَّهُمۡ یَرۡجِعُونَ )

[Surah Ar-Rum 41]

“মানুষের কৃতকর্মের দরুন জলে-স্থলে ফাসাদ (বিপর্যয়) ছড়িয়ে পড়ে যার ফলে ওদেরকে ওদের কোন কোন কর্মের শাস্তি তিনি আস্বাদন করান যাতে ওরা ফিরে আসে।” (আল-কুর-আন ৩০:৪১)

[২. হযরত সালমান ফারসী (রা.)-র চাহনিী ধারাবাহিক সূত্রে বর্ণিত হওয়ায় এবং বর্ণনাকারীদের বিশ্বস্ততার নিরীখে উৎরে যাবার দরুন তা ইতিহাসের এক অমূল্য সম্পদ ও দলীল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইমাম আহমদ-এর মুসনাদ এবং হাকেমের মুস্তাদরাকে এর বিস্তৃত বিবরণ মিলবে।]