১
মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?
লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৭
সাহাবায়ে কিরাম (রা)-এর ঈমানী প্রশিক্ষণ
এরই সাথে সাথে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁদের কুরআন পাকের রূহানী খোরাক সরবরাহ করে যাচ্ছিলেন এবং ঈমানের মাধ্যমে তাঁদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন। তিনি তাঁদের দৈহিক পাক-পবিত্রতা ও অন্তরের ভয়-ভক্তি মিশ্রিত বিনয় শেখাতেন, তার শরীরী প্রকাশ ঘটাতেন এবং আল্লাহ রাব্বল আলামীনকে সর্বত্র হাজির-নাজির জ্ঞানে প্রত্যহ পাঁচবার তারই সমীপে মাথা ঝোকাতেন। তাদের মধ্যে উত্তরোত্তর রূহানিয়াত তথা আধ্যাত্মিকতার সমুন্নতি, দিলের পরিচ্ছন্নতা ও স্বচ্ছতা, নৈতিক ও চারিত্রিক পরিশুদ্ধি, প্রবৃত্তি পূজা থেকে মুক্তি লাভ হচ্ছিল। আসমান-যমীনের মালিকের প্রতি ইক ও অনুরাগ বৃদ্ধি পাচ্ছিল। তিনি তাদেরকে দুখ-কষ্টে ধৈর্য ধারণ, ক্ষমাশীলতা ও আত্মসংযমের শিক্ষা দিতেন। যুদ্ধ-বিগ্রহ তাদের অস্থিমজ্জায় মিশে ছিল। তলোয়ারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল তাদের মজ্জাগত। তাঁরা ছিলেন সে সব গোত্র ও সম্প্রদায়ের অন্তর্গত যাদের ইতিহাস ‘বস’, ‘দাহিস’ ও ‘গাবিয়া’ প্রভৃতি রক্তাক্ত কাহিনী দ্বারা ভরপুর। ইয়াওমুল ফিজার'-এর রক্তাক্ত যুদ্ধের স্মৃতিও তখনো অম্লান রয়েছে। কিন্তু রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁদের সেই সামরিক স্বভাব-প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন এবং তাদের আরবীয়। অহংবোধকে ঈমানী শক্তির নিয়ন্ত্রণাধীনে রেখেছিলেন। তিনি তাঁদের বলতেন, তোমাদের হাত সংবরণ কর এবং সালাত কায়েম কর (সূরা নিসাঃ ৭৭)। তারা রসূল (ﷺ) -এর হুকুমে মোমের মত হয়ে গিয়েছিলেন। সামান্যতম কাপুরুষতা না থাকা সত্ত্বেও তারা তাদের হাত গুটিয়ে নিয়েছিলেন। তারা সব কিছুই বরদাশত করছিলেন দুনিয়ার কোন সম্প্রদায় কিংবা জাতিগোষ্ঠী যা বরদাশত করেনি। ইতিহাস এমন একটি ঘটনাও পেশ করেনি যেখানে কোন মুসলমান নিজের পক্ষ থেকে প্রতিরোধ করেছে কিংবা জিঘাংসার আশ্রয় নিয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার এ এক অনন্য উদাহরণ।