hadith book logo

মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?

লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৭

ভারতীয় সমাজে নারীর অবস্থান ও মর্যাদা

ব্রাহ্মনী যুগে নারীর সেই মর্যাদা ছিল না যা বৈদিক যুগে ছিল। মনুর সংহিতায় (গুস্তাভ-লী বন-এর মতে) নারী সর্বদাই দুর্বল ও অবিশ্বাসী বিবেচিত হয়েছে এবং নারী ঘৃণা ও অবজ্ঞার সঙ্গেই উল্লিখিত হয়েছে।৭

স্বামী মারা গেলে স্ত্রী জীবতের ন্যায় হয়ে যেত এবং জীবিত থাকতেই মৃতের দশায় উপনীত হতো। সে আর দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারত না। তার ভাগ্যে জুটত তীব্র ভৎসনা, লাঞ্ছনা-গঞ্জনা, ঘৃণা ও অবজ্ঞা। বিধবা হবার পর তাকে তার মৃত স্বামীর ঘরের চাকরানী এবং দেবরের সেবা দাসী হয়ে থাকতে হতো। অধিকাংশ বিধবাকে স্বামীর চিতায় সহমরণে যেতে হতো। ড. গুস্তাভ লী বন বলেন, “বিধবাদের তাদের স্বামীর লাশের সঙ্গে জ্বলন্ত চিতায় সহমরণে যেতে হবে, এ রকম বিধান মনুসংহিতায় নেই। মনে হয় এই প্রথার (সতীদাহ প্রথা) ভারতবর্ষে ব্যাপক প্রচলন ঘটেছিল। কেননা গ্রীক ঘটনাপঞ্জী লেখকগণ এর উল্লেখ করেছেন।”৮

মোটকথা, এই সবুজ শ্যামল দেশ যা প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর ছিল, সত্যিকার আসমানী ধর্মের শিক্ষামালা থেকে সুদীর্ঘ কাল থেকে বঞ্চিত থাকায় এবং ধর্মের নির্ভরযোগ্য উৎসের বিলুপ্তির দরুন কষ্ট-কল্পনা ও বিকৃতির শিকার এবং রসম-রেওয়াজ ও প্রথা পদ্ধতির পূজারীতে পরিণত হয়েছিল। সে সময়কার পৃথিবী তো অজ্ঞতা, মূখতা, কল্পনা-পূজা, নীচু স্তরের মূর্তিপূজা, প্রবৃত্তি পূজা ও শ্ৰেণীগত বৈষম্যের ব্যাপারে ছিল অগ্রগামী এবং পৃথিবীর নৈতিক ও আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব দেবার পরিবর্তে নিজেই ছিল অভ্যন্তরীণ নৈরাজ্য ও নৈতিক বিশৃঙ্খলার মাঝে নিমজ্জিত।

[৭. সুমন-ই হিন্দ, ২৩৬ পৃঃ ]

[৮, প্রাগুক্ত, ২৩৮ পৃ.। ]