১
মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?
লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫২
আংশিক সংস্কারের ব্যর্থতা
এই খারাপ ও অধঃপতিত জীবনের প্রতিটি শাখা সংস্কারকের সমগ্র জীবনই কামনা করছিল। অরাজকতার প্রতিটি দিক এর হকদার ছিল যে, সে তার (সংস্কারকের) সমগ্র মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে এবং তাঁকে একটি মুহূর্তের জন্যও ফুরসৎ দেবে না। সংস্কারক যদি কোন সাধারণ মানুষ হতো, যে ওহী ও নবুওতীর পথ-নির্দেশের পরিবর্তে আপন জ্ঞান-বুদ্ধি দ্বারা কাজ করত তাহলে সে এই জীবনের একই দিকের উপর তার সমগ্র প্রয়াস নিয়োজিত করত এবং গোটা জীবন সমাজের কেবল একটি ব্যাধি নিরাময়ের জন্য উৎসর্গ করে দিত। কিন্তু এর দ্বারা বিরাট কোন লাভ হতো না এজন্য যে, মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপারটা খুবই জটিল ও নাযুক। এর ভেতর বহু চোরা দরজা রয়েছে এবং আশ্চর্য ধরনের সব ছিদ্র ও ফাঁক রয়েছে। এর আসল দুর্বলতা ও কেন্দ্রীয় সমস্যাটা ধরতে পারা সহজ নয়। যখন সামাজিক মানুষের রুচি বিকৃতি ঘটে যায় তখন তার কেবল একটি দোষ দূর করা কিংবা একটি মাত্র দুর্বলতার পেছনে লাগা ফলপ্রসূ নয়, তেমনি ফলপ্রসূ নয় কোন একটা অভ্যাস সংশোধন করা যতক্ষণ পর্যন্ত এর মোড় মন্দের দিক থেকে ফিরিয়ে ভালোর দিকে এবং খারাপের দিক থেকে ফিরিয়ে সঠিক দিকে না ফেরানো হবে এবং যিন্দেগীর ভেতর যেসব আগাছা জন্মেছে তা উপড়ে না ফেলা হবে, আর এর যমীন ঘাস ও আপন থেকেই উদ্গত চারা গাছ মুক্ত না করা হবে যাতে করে নেকী ও কল্যাণের প্রতি প্রেম ও ভালবাসা এবং আল্লাহ তা'আলার ভীতির চারা তার অন্তরে রোপণ করা যায়।
মানব সমাজের প্রতিটি দুর্বলতা ও প্রতিটি দোষ-ত্রুটি সংশোধনাৰ্থে সমগ্র জীবনের দাবি জানায়। কোন কোন সময় একটা আস্ত সংস্কারী দলের জীবন এর মুকাবিলায় নিয়োগ করেও এর সংশোধন হয় না। যদি কোন দেশে মদের কুঅভ্যাস জেঁকে বসে আর তা নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায় তাহলে তাদের মদ পান থেকে বিরত রাখা খুব সহজ নয়। মদ পান মানুষ কেন করে? এটা কিসের ফল? এটা এমন এক মানসিকতা ও মেজের ফল ফসল যা আনন্দ ফুর্তি ভালবাসে, চাই কি সেই আনন্দ-ফুর্তি বিষাক্তই হোক না কেন। তা আত্ম-বিলুপ্তি ও আত্মবিস্মৃতির দাবি জানায়, চাই কি এর জন্য হাজারো গোনাহই করতে হোক। এই মানসিকতাকে বক্তৃতা-বিবৃতি ও লেখনী দ্বারা মদের স্বাস্থ্যগত কুফল ও ক্ষয়-ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণ লিখে এবং কঠিন থেকে কঠিনতর আইন তৈরি করে ও তা কঠিনভাবে প্রয়োগ করে এবং জরিমানা করে তা প্রতিরোধ করা যায় না। একে কেবল গভীর মানসিক পরিবর্তনের দ্বারাই প্রতিরোধ ও প্রতিহত করা যায়। এছাড়া অপর কোন পন্থা আবিষ্কার করলে হয় অপরাধ অন্য কোন রূপে আবির্ভূত হবে এবং নিজের জন্য অন্য পথ সৃষ্টি করে নেবে।
মানব সমাজের প্রতিটি দুর্বলতা ও প্রতিটি দোষ-ত্রুটি সংশোধনাৰ্থে সমগ্র জীবনের দাবি জানায়। কোন কোন সময় একটা আস্ত সংস্কারী দলের জীবন এর মুকাবিলায় নিয়োগ করেও এর সংশোধন হয় না। যদি কোন দেশে মদের কুঅভ্যাস জেঁকে বসে আর তা নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায় তাহলে তাদের মদ পান থেকে বিরত রাখা খুব সহজ নয়। মদ পান মানুষ কেন করে? এটা কিসের ফল? এটা এমন এক মানসিকতা ও মেজের ফল ফসল যা আনন্দ ফুর্তি ভালবাসে, চাই কি সেই আনন্দ-ফুর্তি বিষাক্তই হোক না কেন। তা আত্ম-বিলুপ্তি ও আত্মবিস্মৃতির দাবি জানায়, চাই কি এর জন্য হাজারো গোনাহই করতে হোক। এই মানসিকতাকে বক্তৃতা-বিবৃতি ও লেখনী দ্বারা মদের স্বাস্থ্যগত কুফল ও ক্ষয়-ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণ লিখে এবং কঠিন থেকে কঠিনতর আইন তৈরি করে ও তা কঠিনভাবে প্রয়োগ করে এবং জরিমানা করে তা প্রতিরোধ করা যায় না। একে কেবল গভীর মানসিক পরিবর্তনের দ্বারাই প্রতিরোধ ও প্রতিহত করা যায়। এছাড়া অপর কোন পন্থা আবিষ্কার করলে হয় অপরাধ অন্য কোন রূপে আবির্ভূত হবে এবং নিজের জন্য অন্য পথ সৃষ্টি করে নেবে।