১
মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?
লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১২
খ্রিস্ট ধর্ম ও ষষ্ঠ শতাব্দীতে
খ্রিস্ট ধর্মে এতটা বিস্তৃতি ও ব্যাপকতা কখনো ছিল না যার আলোকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর সমাধান করা যেত কিংবা এর ওপর ভিত্তি করে সংস্কৃতি গড়ে তোলা যেতে পারত অথবা তার দিক-নির্দেশনাধীনে কোন সালতানাত চলতে পারত। যা ছিল তা হযরত ঈসা মসীহ (আ) প্রদত্ত শিক্ষামালার একটা হালকা খসড়া চিত্রমাত্র যার ওপর তওহীদ তথা একত্ববাদের সহজ সরল বিশ্বাসের কিছুটা প্রলেপ ছিল। খ্রিস্ট ধর্মের এই বৈশিষ্ট্যও ততদিন পর্যন্ত কায়েম ছিল যতদিন এই ধর্ম সেন্ট পলের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত ছিল। সেন্ট পল এসে তো এই ছিটেফোঁটা অবশেষটুকুও মিটিয়ে দিলেন। নিভিয়ে দিলেন এর ক্ষীণ আলোকরশ্মিটুকুও। কেননা যেই পৌঁত্তলিক আবহে ও পরিবেশে তিনি লালিত-পালিত হয়েছিলেন এবং যেই সব জাহিলী অশ্লীলতা ও বাজে কথন থেকে বের হয়ে এসেছিলেন খ্রিস্ট ধর্মের মধ্যে তিনি সেই সব জিহালত (মূখতা, অজ্ঞতা ও পথভ্রষ্টতা) ও বাজে জিনিসের মিশ্রণ ঘটান। এরপর এল কনস্টানটাইনের শাসনামল। তিনি তাঁর শাসনামলে খ্রিস্ট ধর্মের অবশিষ্ট মৌলিকত্বটুকুও খুইয়ে দিলেন।
মোটকথা, খ্রি. ৪র্থ শতাব্দীতেই খ্রিস্ট ধর্ম একটি জগাখিচুড়িতে পরিণত হয় যার ভেতর গ্রীক পৌঁরাণিক কাহিনী, রোমান পৌঁত্তলিকতা, মিসরীয় নব্য-প্লেটোবাদ (Neo-Platonism) ও বৈরাগ্যবাদের যোগ ছিল। হযরত ঈসা মসীহ (আ)-র সহজ সরল শিক্ষামালার উপাদান এই জগাখিচুড়ির ভেতর। এইভাবে হারিয়ে গিয়েছিল যেভাবে বারিবিন্দু বিশাল সমুদ্র বক্ষে পতিত হয়ে আপন অস্তিত্ব হারিয়ে বসে। শেষ পর্যন্ত খ্রিস্ট ধর্ম কতিপয় নিষ্প্রাণ প্রথা ও নিরানন্দ আকীদা-বিশ্বাসে পরিণত হয়ে যায় যা না পারত আত্মার মাঝে উত্তাপ। সঞ্চার করতে আর না পারত জ্ঞান-বুদ্ধির বৃদ্ধির কারণ হতে। আবেগ-উদ্দীপনাকে তা সচল ও সক্রিয় করে তুলতে পারত না। তার মধ্যে এ যোগ্যতাও ছিল না যে, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সংকটে মানব কাফেলার নেতৃত্ব দেবে। এর ওপর ধর্মের বিকৃতি ও মনগড়া ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ছিল এর অতিরিক্ত যার পরিণতি হলো এই যে, খ্রিস্ট ধর্ম জ্ঞান-গবেষণা ও চিন্তা-চেতনার দ্বার উন্মুক্ত করার পরিবের্ত সে নিজেই এ পথে বাধার বিন্ধ্যাচল হয়ে দাঁড়িয়ে গেল এবং শতাব্দীর অব্যাহত অধঃপতনের দরুন কেবলই পৌঁত্তলিকতার ধর্মে পরিণত হলো। ইংরেজী ভাষায় কুরআন করীমের অন্যতম বিখ্যাত অনুবাদক জর্জ সেল (Sale) খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীর খ্রিস্টানদের সম্পর্কে বলেনঃ
"The worship of saints and images, in particular, was then arrived at such a scandalous pitch that it even surpassed whatever is now practised among the Romanists."
খ্রিস্টানরা সাধু-সন্ত ও হযরত ঈসা মসীহ (আ)-র মূর্তির পূজার ক্ষেত্রে এতটা বাড়াবাড়ি করেছিল যে, এ যুগের রোমান ক্যাথলিকরাও সেই সীমায় পৌঁছুতে পারেনি। ১
1.Sale's translation,.P. 62.(896)
মোটকথা, খ্রি. ৪র্থ শতাব্দীতেই খ্রিস্ট ধর্ম একটি জগাখিচুড়িতে পরিণত হয় যার ভেতর গ্রীক পৌঁরাণিক কাহিনী, রোমান পৌঁত্তলিকতা, মিসরীয় নব্য-প্লেটোবাদ (Neo-Platonism) ও বৈরাগ্যবাদের যোগ ছিল। হযরত ঈসা মসীহ (আ)-র সহজ সরল শিক্ষামালার উপাদান এই জগাখিচুড়ির ভেতর। এইভাবে হারিয়ে গিয়েছিল যেভাবে বারিবিন্দু বিশাল সমুদ্র বক্ষে পতিত হয়ে আপন অস্তিত্ব হারিয়ে বসে। শেষ পর্যন্ত খ্রিস্ট ধর্ম কতিপয় নিষ্প্রাণ প্রথা ও নিরানন্দ আকীদা-বিশ্বাসে পরিণত হয়ে যায় যা না পারত আত্মার মাঝে উত্তাপ। সঞ্চার করতে আর না পারত জ্ঞান-বুদ্ধির বৃদ্ধির কারণ হতে। আবেগ-উদ্দীপনাকে তা সচল ও সক্রিয় করে তুলতে পারত না। তার মধ্যে এ যোগ্যতাও ছিল না যে, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সংকটে মানব কাফেলার নেতৃত্ব দেবে। এর ওপর ধর্মের বিকৃতি ও মনগড়া ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ছিল এর অতিরিক্ত যার পরিণতি হলো এই যে, খ্রিস্ট ধর্ম জ্ঞান-গবেষণা ও চিন্তা-চেতনার দ্বার উন্মুক্ত করার পরিবের্ত সে নিজেই এ পথে বাধার বিন্ধ্যাচল হয়ে দাঁড়িয়ে গেল এবং শতাব্দীর অব্যাহত অধঃপতনের দরুন কেবলই পৌঁত্তলিকতার ধর্মে পরিণত হলো। ইংরেজী ভাষায় কুরআন করীমের অন্যতম বিখ্যাত অনুবাদক জর্জ সেল (Sale) খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীর খ্রিস্টানদের সম্পর্কে বলেনঃ
"The worship of saints and images, in particular, was then arrived at such a scandalous pitch that it even surpassed whatever is now practised among the Romanists."
খ্রিস্টানরা সাধু-সন্ত ও হযরত ঈসা মসীহ (আ)-র মূর্তির পূজার ক্ষেত্রে এতটা বাড়াবাড়ি করেছিল যে, এ যুগের রোমান ক্যাথলিকরাও সেই সীমায় পৌঁছুতে পারেনি। ১
1.Sale's translation,.P. 62.(896)