১
মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?
লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪০
পারসিক সাম্রাজ্যে রাজকোষ ও ব্যক্তিগত সম্পদ
জনগণের কল্যাণার্থে রাজকোষ থেকে ব্যয়িত অর্থের পরিমাণ খুব বেশি ছিল। পারস্য সম্রাটদের সব সময় এই নিয়ম ছিল যতটা সম্ভব রাজকোষে নগদ অর্থ-কড়ি ও মূল্যবান দ্রব্যাদি সঞ্চিত রাখা।২ সম্রাট ২য় খসরু ৬৩৭-৮ খ্রিস্টাব্দে তদীয় রাজকোষের অর্থ যখন তেসিফোনে (মাদায়েন-এ) নব নির্মিত অট্টালিকায় স্থানান্তরিত করেন সে সময় এতে রক্ষিত কেবল স্বর্ণের পরিমাণই ছিল ৪৬ কোটি ৮০ লক্ষ মিছকাল অর্থাৎ প্রায় ৩৭ কোটি ৫০ লক্ষ ফ্রাংক স্বর্ণমুদ্রা। রাজত্বের এয়োদশ বর্ষের পরে তার রাজকোষে স্বর্ণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে গিয়ে দাঁড়ায় ৮০ কোটি মিছকালে।৩ কেবল তার রাজমুকুটেই ১২০ পাউন্ড (প্রায় দেড় মণ), নিখাদ স্বর্ণ ছিল।৪
[১. সাসানী আমলে ইরান, ১৬৩ পৃ. ]
[২. প্রাগুক্ত, ১৬২ পৃ.। ]
[৩. প্রাগুক্ত, ৬১১ পৃ. ]
[৪. প্রাগুক্ত ৬২৭ পৃ. রাজমুকুটটি ছিল স্বর্ণ ও রৌপ্য নির্মিত এবং যমরূদ, ইয়াকৃত ও মণি-মুক্তা খচিত ছিল। সম্রাটের মাথার ওপর ছাদের সঙ্গে স্বর্ণের শেকল সহযোগে লটকে থাকত। স্বর্ণের শেকলটি এত সূক্ষ্ম হত যে, একেবারে সিংহাসনের কাছাকাছি গিয়ে গভীরভাবে লক্ষ্য না করলে তা চোখেই পড়ত না। দর্শক দূর থেকে দেখতে পেত রাজমুকুট সম্রাটের মস্তকেই শোভা পাচ্ছে। আসলে মুকুটটি এত ভারী ছিল যে, কারুর পক্ষেই তা মাথায় ধারণ করা সম্ভব ছিল না। কেননা এর ওজন ছিল ৯১ ১/২ কিলোগ্রাম (দ্র, সাসানী আমলে ইরান, ৫৩১ পৃ.)। ]
[১. সাসানী আমলে ইরান, ১৬৩ পৃ. ]
[২. প্রাগুক্ত, ১৬২ পৃ.। ]
[৩. প্রাগুক্ত, ৬১১ পৃ. ]
[৪. প্রাগুক্ত ৬২৭ পৃ. রাজমুকুটটি ছিল স্বর্ণ ও রৌপ্য নির্মিত এবং যমরূদ, ইয়াকৃত ও মণি-মুক্তা খচিত ছিল। সম্রাটের মাথার ওপর ছাদের সঙ্গে স্বর্ণের শেকল সহযোগে লটকে থাকত। স্বর্ণের শেকলটি এত সূক্ষ্ম হত যে, একেবারে সিংহাসনের কাছাকাছি গিয়ে গভীরভাবে লক্ষ্য না করলে তা চোখেই পড়ত না। দর্শক দূর থেকে দেখতে পেত রাজমুকুট সম্রাটের মস্তকেই শোভা পাচ্ছে। আসলে মুকুটটি এত ভারী ছিল যে, কারুর পক্ষেই তা মাথায় ধারণ করা সম্ভব ছিল না। কেননা এর ওজন ছিল ৯১ ১/২ কিলোগ্রাম (দ্র, সাসানী আমলে ইরান, ৫৩১ পৃ.)। ]