hadith book logo

মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?

লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭

লেখক গ্রন্থের শেষ অধ্যায়ে বলেনঃ

“মুসলিম বিশ্বের পয়গাম আল্লাহ ও তাঁর রসূল এবং তাঁর নেতৃত্বের ওপর বিশ্বাস স্থাপনের দাওয়াত দেয়। এই দাওয়াত কবুলের বিনিময় হিসাবে এই বিশ্ব ঘনঘোর অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আলোর দিকে, মানুষের গোলামী ও দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগীর দিকে, দুনিয়ার সংকীর্ণতা থেকে বেরিয়ে উন্মুক্ত বিশ্বের প্রশস্ততা ও বিস্তৃতির দিকে এবং নানা ধর্মের জুলুম-নিপীড়ন থেকে নিষ্কৃতি পেয়ে ইসলামের ন্যায় ও সুবিচারের ছায়াতলে স্থান জুটবে। এ পয়গামের গুরুত্ব তুলনায় অনেক বেশি সহজ। আজ জাহেলিয়াত জনসমক্ষে অবমানিত। এর অবগুষ্ঠিত চেহারা আজ সবার সামনে উদ্ভাসিত। দুনিয়া আজ তার থেকে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করছে। অতএব জাহেলী নেতৃত্ব পরিত্যাগ করে ইসলামী নেতৃত্বের দিকে আসার এটাই প্রকৃষ্ট সময়। তবে এজন্য একটাই শর্ত আর তা হলো, মুসলিম বিশ্বকে এজন্য মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে হবে এবং এই পয়গামকে অটুট মনোবল, দৃঢ় সংকল্প, নিষ্ঠা, হিম্মত ও সাহসিকতার সঙ্গে আপন করে নিতে হবে এবং এ বিশ্বাসে এগিয়ে যেতে হবে যে, দুনিয়ার মুক্তি ও পরিত্রাণ এর মাঝেই নিহিত এবং দুনিয়াকে ধ্বংস ও অধঃপতনের হাত থেকে কেবল এই পয়গামই নাজাত দিতে পারে।”

পরিশেষে এই গ্রন্থের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, তাতে ইসলামী চেতনা ও ভাবধারা গভীরভাবে অনুধাবন করার জন্যে খুব স্পষ্ট করে তা আলোচনা করা হয়েছে। তাই আমরা বলতে পারি, এই গ্রন্থ নিছক ধর্মীয় ও সমাজ জীবনের ওপর একটি গবেষণা গ্রন্থই নয়, বরং ইসলামী দৃষ্টিকোণের প্রতিফলন ঘটিয়ে কীভাবে ইতিহাস লিখতে হবে তার একটি চমৎকার নমুনাও বটে। আর এ কাজ বড় জরুরী কাজ। কেননা আমরা অত্যন্ত বেদনার সাথে লক্ষ করে এসেছি। যে, ইতিহাস লেখার দায়িত্ব যেন শুধু য়ুরোপীয় ঐতিহাসিকদেরকেই দেওয়া হয়েছে। আমরা যেন ইতিহাস লিখতেই জানিনা। অথচ এই য়ুরোপীয়রা ইতিহাস লিখতে গিয়ে শুধু তাদেরই সভ্যতা-সংস্কৃতির জয়গান গেয়েছে। তাদের বস্তাপচা দর্শন ও স্বধর্ম-স্বজাতির পক্ষে বেসুরো জয়কীর্তন করেছে। আমরা জানিনা, এই একপেশে ইতিহাস লিখতে গিয়ে তারা নিজেদের বিবেকের চোখ রাঙানীর সম্মুখীন হয়েছে কিনা। হলেও নিঃসন্দেহে তারা বিবেকের ডাকে সাড়া দেয়নি। নইলে তাদের ইতিহাস এত বিভ্রান্তিকর, এতো বিকৃত ও এত ক্রটিপূর্ণ হতো না।

অবশ্য এতে দুঃখ পেলেও আমাদের অবাক হওয়ার কিছু নেই। কেননা পাশ্চাত্যের ঐতিহাসিকরা মানব জীবনের সত্যিকার মুল্যবোধ (যার দিকে ইসলাম দিক-নির্দেশ করেছে) সম্পর্কে ভীষণ গাফিলতি প্রদর্শন করে থাকে। অথচ এই বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে সত্যিকারের মানবেতিহাস রচনা এবং বিভিন্ন ঘটনাবলীর সঠিক ও ইনসাফপূর্ণ চিত্রাংকন ও তার ফলাফল নির্ণয় কিছুতেই সম্ভব নয়।

পাশ্চাত্য ঐতিহাসিকদের আরেকটি ব্যাধি হলো, তারা য়ুরোপকেই সব কিছুর কেন্দ্রভূমি মনে করে। তাই অন্য দেশের এবং অন্য সমাজের সভ্যতা-সংস্কৃতিকে (সে যত ভালোই হোক) তারা শুধু এ জন্যে এড়িয়ে যায় কিংবা স্বীকৃতি দিতে গড়িমসি করে যে, তার উৎপত্তিস্থল য়ুরোপ নয়। অপরদিকে কোথাও কোথাও ঠেকায় পড়ে যদি স্বীকৃতি দেয়ও তবু তা পরিবেশন করা হয় বিকৃতভাবে, গুরুত্বহীনভাবে।