hadith book logo

মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?

লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১১৬

পাদ্রীদের দুর্নীতি ও অবাধ ভোগ-বিলাস

বৈরাগ্যবাদ ও ধর্মের এই নেতিবাচক ব্যবস্থা অনিবার্যভাবেই স্বভাব ও প্রকৃতি-বিরুদ্ধ ছিল। কিন্তু নতুন ধর্মের প্রভাব ও এর আধ্যাত্মিক ক্ষমতা স্বভাব ও প্রকৃতিকে দাবিয়ে রেখেছিল। কিন্তু অল্প দিন পরেই স্বয়ং ধর্মীয় কেন্দ্র ও হালকাগুলোর ভেতর সেই সমস্ত দোষ-ত্রুটি ও ভোগ-বিলাস শুরু হয়ে যায় যার বিরুদ্ধে বৈরাগ্য ও সন্ন্যাসবাদের আন্দোলন শুরু হয়েছিল, এমন কি তা নৈতিক অবক্ষয় ও অধঃপতন এবং স্বীয় প্রাচুর্য ও বিলাস পূজার ক্ষেত্রে নির্ভেজাল দুনিয়াদার লোকদের থেকেও অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছিল। ফলে হুকুমতকে বাধ্য হয়েই ঐসব ধর্মীয় দাওয়াতের ধারা বন্ধ করে দিতে হয় যার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল খ্রিস্টানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও প্রেম-প্রীতি সৃষ্টি করা। ঠিক তেমনি শহীদ ও ওলী-আওলিয়ার ওরস ও মৃত্যু বার্ষিকী পালনের অনুষ্ঠানাদিও নিষিদ্ধ ঘঘাষিত হয়। কেননা এই সব নির্ভেজাল ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনাচার, পাপাচার ও নির্লজ্জতার আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। বড় বড় পাদ্রীর বিরুদ্ধে বিরাট রকমের নৈতিক স্খলন ও চারিত্রিক অধঃপতনের অভিযোগ ছিল। সেন্ট জারূম বলেন, গির্জাধিপতি পাদ্রীদের ভোগ-বিলাসিতার সামনে আমীর-উমারা ও বিত্তবানদের ভোগ-বিলাসও লজ্জা পেত। স্বয়ং পোপও নৈতিক ও চারিত্রিক দোষে দুষ্ট ছিলেন এবং সম্পদের মোহ ও বিত্তের প্রতি আকর্ষণ তাকে এতটা পেয়ে বসেছিল যে, তিনি পদ ও পদমর্যাদা মামুলী বাণিজ্যিক পণ্যের ন্যায় বিক্রি করতেন, এমন কি কখনো কখনো তা নীলামেও তুলতেন। স্বর্গের পরওয়ানা জমি জিরাতের মামুলী দলীল-দস্তাবেযের ন্যায় পাপ মুক্তির পরওয়ানা, ক্ষমার সার্টিফিকেট, আইন লঙ্নের অনুমোদন বা সনদ অবাধে বিক্রি হত। ধর্মীয় পদাধিকারীরা ছিল ভীষণ ঘুষখোর ও সুদখোর। বাহুল্য খরচ ও অপচয়ের অবস্থা এরূপ ছিল যে, পোপ ৭ম। ইনোসেন্ট পোপের মুকুট বন্ধক রেখেছিলেন এবং পোপ ১০ম লিউ সম্পর্কে কথিত আছে, তিনি তিন জন পোপের আয়-আমদানী বাহুল্য খরচ করে উড়িয়ে ” দিয়েছিলেন অর্থাৎ তার পূর্বের পোপেরা যেসব বিত্ত-সম্পদ রেখে গিয়েছিলেন প্রথমে সেসব খরচ করেন। এরপর নিজের উপার্জিত সম্পদ খরচ করেন। এও যখন যথেষ্ট হলো না তখন তার উত্তরাধিকারীদের আয়-আমদানী আগাম উশুল করে খরচ করে ফেলেন। বর্ণিত আছে, ফ্রান্সের সমগ্র রাজস্বও ঐসব পোপদের ব্যয় সংকুলানের জন্য যথেষ্ট ছিল না।১

[১. Draper, History of the Canftict between Religion and Science. P. ]

মোটকথা, গির্জার ইতিহাস, গির্জাধিপতিদের চরিত্র ও চালচিত্র কুরআনুল করীমের নিম্নোক্ত আয়াতের যেন সত্যিকার ব্যাখ্যা ছিলঃ

( یَـٰۤأَیُّهَا ٱلَّذِینَ ءَامَنُوۤا۟ إِنَّ كَثِیر ࣰ ا مِّنَ ٱلۡأَحۡبَارِ وَٱلرُّهۡبَانِ لَیَأۡكُلُونَ أَمۡوَ  ٰ⁠ لَ ٱلنَّاسِ بِٱلۡبَـٰطِلِ وَیَصُدُّونَ عَن سَبِیلِ ٱللَّهِۗ وَٱلَّذِینَ یَكۡنِزُونَ ٱلذَّهَبَ وَٱلۡفِضَّةَ وَلَا یُنفِقُونَهَا فِی سَبِیلِ ٱللَّهِ فَبَشِّرۡهُم بِعَذَابٍ أَلِیم ࣲ)

[Surah At-Tawbah 34]

“হে মুমিনগণ! পণ্ডিত ও সংসারবিরাগীদের মধ্যে অনেকেই লোকের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করে থাকে এবং লোককে আল্লাহ্র পথ থেকে নিবৃত্ত করে।” (সূরা তাওবাঃ ৩৪)।