১
মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?
লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৮৭
রাষ্ট্রপরিচালকদের মধ্যে জাহিলিয়াতের প্রবণতা সৃষ্টি
. হুকুমতের সদস্যবৃন্দ, এমন কি স্বয়ং খলীফা নিজেও ধর্ম ও নৈতিক চরিত্রের পূর্ণ নমুনা ছিলেন না। এমন কি তাদের কারোর কারোর মধ্যে জাহিলী যুগের রোগ-জীবাণু ও প্রবণতা পাওয়া যেত। স্বাভাবিকভাবেই তাদের ব্যক্তিগত প্রবণতা ও মন-মানসিকতার প্রভাব জাতীয় জীবনের ওপর পড়ত এবং লোকে সাধারণত তাদেরই আচার-আচরণ ও প্রবণতার অন্ধ অনুকরণ করত। ধর্মের খবরদারি ও দেখাশোনা খতম হয়ে গিয়েছিল। তাদের জবাবদিহিতা উঠে গিয়েছিল। আমরু বিল-মারুফ ওয়া নাহী আনিল-মুনকার তথা সৎ কাজে আদেশ ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধের প্রাধান্য খতম হয়ে গিয়েছিল। কেননা এর পেছনে কোন শক্তি কিংবা রাষ্ট্রের সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা ছিল না। এ ছিল কেবল হাতে গোণা এমন কতিপয় লোকের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত আমূল যাদের কাছে কোন শক্তি এবং অমান্য ও অবাধ্যতার ক্ষেত্রে কাউকে শাস্তি দানের কোন অধিকার ছিল না, অথচ এর বিপরীতে লাগামহীন ও মুক্ত জীবনের লোভনীয় হাতছানি ছিল অনেক। ফলে মুসলিম জনপদগুলোর ভেতর জাহিলিয়াত শ্বাস গ্রহণের অবাধ সুযোগ পায় এবং ক্রমান্বয়ে তা মাথা তুলে দাঁড়ায়। আরাম-আয়েশ, ভোগ-বিলাস, সমৃদ্ধি কামনা ও আনন্দ উপভোগের জীবন ব্যাপক হয়ে যায়। খেলাধুলা ও ক্রীড়া-কৌতুকের বাজার হয়ে যায় গরম ও রমরমা। বিলাসব্যসন ও প্রবৃত্তিপূজার প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ভোগ-লিপ্সা বৃদ্ধি পায়। এই নৈতিক অধঃপতন ও ভোগবিলাসে মত্ত কোন জাতির পক্ষে ইসলামের দাওয়াত ও তাবলীগের দায়িত্ব পালন, 'আম্বিয়া আলায়হিমুস-সালাতু ওয়াস-সালামের প্রতিনিধিত্ব করা, আল্লাহ তাআলা ও পরকালকে স্মরণ করিয়ে দিতে থাকা, তাকওয়া ও দীনদারীকে উৎসাহিত করা এবং লোকের জন্য উন্নততর চারিত্রিক নমুনা কায়েম করা সম্ভব নয়, বরং এসব অবস্থায় জাতি তার নিজের অস্তিত্ব, সম্মান ও আযাদী বজায় রাখার শক্তিও খুইয়ে বসে।
( سُنَّةَ ٱللَّهِ فِی ٱلَّذِینَ خَلَوۡا۟ مِن قَبۡلُۖ وَلَن تَجِدَ لِسُنَّةِ ٱللَّهِ تَبۡدِیل ࣰا)
[Surah Al-Ahzab 62]
“ পূর্বে যারা অতীত হয়ে গেছে তাদের ব্যাপারে এটাই ছিল আল্লাহ্র রীতি। তুমি কখনও আল্লাহর রীতিতে কোন পরিবর্তন পাবে না।” (সূরা আহযাবঃ ৬২)
ইসলামের অপপ্রতিনিধিত্ব
অল্প দু'একটি ব্যতিক্রম ছাড়া এই সব লোক নিজেদের আমল-আখলাক ও পারস্পরিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়াদিতে ইসলামের শরঈ রাষ্ট্রনীতি, এর সামরিক আইন-কানুন, এর সাংস্কৃতিক ব্যবস্থা ও এর নৈতিক শিক্ষামালার খুব কমই প্রতিনিধিত্ব করত। এভাবে অমুসলিমদের দিল থেকে ইসলামের পয়গামের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও তার প্রভাব চলে যেতে লাগল এবং ওদের প্রতি তাদের আস্থায় ভাটা পড়ল। জনৈক য়ুরোপীয় ঐতিহাসিকের ভাষায়ঃ That the decline of Islam began when people stared to lose faith in the sincerity of its representatives. অর্থাৎ ইসলামের পতন সেদিন থেকে শুরু হলো যেদিন মানুষ ঐ সমস্ত লোকের সততার ব্যাপারে, তাদের আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করতে লাগল যারা নতুন ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করছিল।
( سُنَّةَ ٱللَّهِ فِی ٱلَّذِینَ خَلَوۡا۟ مِن قَبۡلُۖ وَلَن تَجِدَ لِسُنَّةِ ٱللَّهِ تَبۡدِیل ࣰا)
[Surah Al-Ahzab 62]
“ পূর্বে যারা অতীত হয়ে গেছে তাদের ব্যাপারে এটাই ছিল আল্লাহ্র রীতি। তুমি কখনও আল্লাহর রীতিতে কোন পরিবর্তন পাবে না।” (সূরা আহযাবঃ ৬২)
ইসলামের অপপ্রতিনিধিত্ব
অল্প দু'একটি ব্যতিক্রম ছাড়া এই সব লোক নিজেদের আমল-আখলাক ও পারস্পরিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়াদিতে ইসলামের শরঈ রাষ্ট্রনীতি, এর সামরিক আইন-কানুন, এর সাংস্কৃতিক ব্যবস্থা ও এর নৈতিক শিক্ষামালার খুব কমই প্রতিনিধিত্ব করত। এভাবে অমুসলিমদের দিল থেকে ইসলামের পয়গামের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও তার প্রভাব চলে যেতে লাগল এবং ওদের প্রতি তাদের আস্থায় ভাটা পড়ল। জনৈক য়ুরোপীয় ঐতিহাসিকের ভাষায়ঃ That the decline of Islam began when people stared to lose faith in the sincerity of its representatives. অর্থাৎ ইসলামের পতন সেদিন থেকে শুরু হলো যেদিন মানুষ ঐ সমস্ত লোকের সততার ব্যাপারে, তাদের আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করতে লাগল যারা নতুন ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করছিল।