hadith book logo

মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?

লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯৩

সালাহুদ্দীনের পরে

৫৮৯ হিজরীর ২৭শে সফর

৪ঠা মার্চ, ১৯৯৩ খ্রি. তারিখে ইসলামের এই বিশ্বস্ত সন্তান দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণ করেন। সালাহুদ্দীনের জিহাদী প্রয়াস ও তাঁর সময়োপযোগী নেতৃত্ব মুসলিম জাহানকে ক্রুসেডারদের গোলামির ভয়াবহ বিপদ থেকে দীর্ঘ দিনের জন্য নিরাপদ করে দেয়। মুসলিম জাহানের ভাগ্যাকাশ পরিষ্কার হয়ে যায়। ক্রুসেডাররা কিন্তু এসব যুদ্ধ থেকে ঠিকই ফায়দা ললাটে। তারা নিজেদের ও মুসলিম জাহানের দুর্বলতাগুলো অধ্যয়ন ও অভিজ্ঞতার নিরিখে পর্যালোচনা করার পর নতুন ক্রুসেড যুদ্ধের (যার পরিণতি ঊনবিংশ। শতাব্দীতে এসে দেখা দেয়) প্রস্তুতিতে মগ্ন হয়ে পড়ে। কিন্তু মুসলিম জাহানের ওপর পুনরায় আলস্য ও গাফিলতির ভূত চেপে বসে। পারস্পরিক অনৈক্য ও হানাহানি পুনরায় মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। সালাহুদ্দীনের পর মুসলিম জাহান পুনরায় এরকম অকৃত্রিম নেতা ও পথ-প্রদর্শক পায়নি, যিনি নিঃস্বার্থভাবে ইসলামের খেদমতের জন্য অস্থির হয়েছেন, যার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ ছাড়া আর কিছু নয় এবং যিনি মুসলিম জাহানের এতটা আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছেন আর মুসলিম বিশ্বের নাড়ির সঙ্গে যিনি এতটা সম্পর্কিত ছিলেন যতটা ছিলেন সুলতান সালাহুদ্দীন। ফলে মুসলিম জাহান আরেকবার। স্বার্থপরতা, গৃহযুদ্ধ ও চক্রান্তের শিকার হয়ে যায় এবং তার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত পতন ও দুর্যোগের ঘনঘটায় ছেয়ে যায়।