hadith book logo

মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?

লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭১

প্রেম ও ভালবাসার সঠিক স্থান

প্রকৃতিগত ও স্বভাবজাত সেই উপাদান যার মস্তকে মানব ইতিহাসের অধিকাংশ বিস্ময়কর অর্জন ও আশ্চর্যজনক কৃতিত্বের স্বর্ণমুকুট স্থাপন করেছে যাকে মানুষ প্রেম ও ভালবাসা নামে স্মরণ করে থাকে, বহুকাল থেকে চরম উপেক্ষিত ও নিষ্প্রাণ অবস্থায় পড়ে ছিল। বহু শতাব্দী অবধি এমন কেউ ছিল না, যে একে কাজে লাগাতে পারে, এমন কেউ জন্মেনি, যে এর থেকে প্রকৃত ফায়দা হাসিল করতে পারে। ব্যস! সে কেবল চাকচিক্য ও সৌন্দর্যের নশ্বর প্রদর্শনীর বেদীমূলে আত্মাহুতি দিয়ে চলেছিল। বহু কাল থেকে পৃথিবীর বুকে এমন কোন মানুষের জন্ম হয় নি যিনি তাঁর সৌন্দর্য ও কামালিয়াত তথা নিজের মহোত্তম গুণাবলী দ্বারা সমগ্র মানব জাতির ভালবাসার হকদার হবেন এবং আপন শক্তি ও চিত্তাকর্ষক ব্যক্তি দ্বারা এই ভালবাসা থেকে কাজ নিতে পারেন। আল্লাহ্র রসূল (ﷺ) -এর সত্তার মধ্যে মানবতা তার সেই হারিয়ে যাওয়া সম্পদটি পেয়ে যায়। তিনি ছিলেন সেই মানুষ যাকে আল্লাহ তাআলা সামগ্রিক গুণাবলী দান করেছিলেন। সব বৈধ সৌন্দর্য-সৌকর্যের সমাহার বানিয়ে ছিলেন। যারা তাঁকে দেখেছেন তাদের ভাষ্য হলোঃ তাকে যারা হঠাৎ করে দেখত- কী এক অজানা ভয়ে তাদের বুক দুরু দুরু করে কাঁপত। আবার যারা তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশার সুযোগ পেতেন, তারা তার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়তেন। তাঁর প্রশংসাকারীরা বলতেনঃ তাঁর মতো তার আগে না আর কাউকে দেখেছি , আর তার পরেই আর কাউকে দেখেছি। তাঁর আগমনের পর সত্যিকার ও পাক-পবিত্র ভালবাসা বাঁধভাঙা প্লবনের ন্যায় দুকূল উপচে পড়ে। মানুষের হৃদয়-মন এভাবে আকর্ষণ করে যেভাবে চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে অর্থাৎ মানুষের স্বভাব-প্রকৃতি ও হৃদয় আগে থেকেই তাঁর জন্য অধীর প্রতীক্ষায় ছিল। তার উম্মতের সদস্যেরা তাঁর প্রতি এমন অনুরাগ ও আনুগত্য প্রদর্শন করে যার নজীর প্রেম ও ভালবাসার ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাঁর আনুগত্য ও তাবেদারীর মাঝে নিজেকে সম্পূর্ণ বিলীন করার এবং নিজের ঘরবাড়ি ও ধন-সম্পদ লুটিয়ে দেবার এমন সব ঘটনা দেখতে পাওয়া যায় যা এর আগে আর কখনো দেখা যায়নি আর না ভবিষ্যতে দেখতে পাবার আশা করা যায়।