১
মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?
লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৯৭
মুসলমানদের মুকাবিলায় বিজয়ী, ইসলামের হাতে পরাজিত ও বন্দী
সে যা-ই হোক, তাতারীরা ইরাক থেকে নিয়ে ইরান ও তুর্কিস্তান পর্যন্ত সমগ্র এলাকা দখল করেছিল এবং স্বয়ং রাজধানী বাগদাদ ছিল তাদের দখলে। একটি অর্ধ-বন্য মূর্তিপূজারী জাতিগোষ্ঠীর পক্ষে মুসলিম জাহানের শিক্ষা ও সভ্যতা কেন্দ্রের ওপর দখল জমিয়ে বসে থাকা এমন একটি দুঃখজনক ঘটনা ছিল যার প্রভাব গোটা মুসলিম জাহান, সমগ্র জীবন-যিন্দেগী, সভ্যতা-সংস্কৃতি ও নৈতিকতার ওপর পড়ছিল। মুসলিম জাহানে কোন শক্তি এমন ছিল না যা তাদেরকে ইরাক থেকে বেদখল করতে পারে, উৎখাত করতে পারে। এ সময় ইসলামের আধ্যাত্মিক ও বশীকরণ শক্তির এক মুজিযা প্রকাশিত হয় এবং কতিপয় অজ্ঞাত পরিচয় মুসলিম দাঈ ও মুসলমান দরবারী আমীর-উমারার মনোযোগ ও চেষ্টার ফলে তাতারী সুলতান ও আমীর-উমারার মধ্যে ইসলামের প্রচার শুরু হয়ে যায়। আর এভাবেই এই অজেয় জাতিগোষ্ঠীকে জয় করে নেয় যারা সমগ্র মুসলিম জাহানকে একবার জয় করে নিয়েছিল। ঐতিহাসিক ইবন কাছীর ৬৯৪ হিজরীর ঘটনাবলী বর্ণনায় লিখেছেনঃ
“এ বছর চেঙ্গীয খানের প্রপৌঁত্র কাযান ইবন আরগন ইন ঈগা ইবন তূলী ইবন চেঙ্গীয় খান তাতারীদের বাদশাহ হন এবং আমীর ভূয়ূন (র.)-এর হাতে প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণ করেন। তাতারীরা প্রায় সকলেই বা বেশির ভাগই ইসলামে দীক্ষিত হন। যেদিন বাদশাহ ইসলাম কবুল করেন সেদিন মানুষের ওপর স্বর্ণ-রৌপ্য ও মোতি বর্ষণ করা হয়। বাদশাহ মাহমূদ নাম ধারণ করেন এবং জুমুআ ও খুতবায় শরীক হন। বহু পৌঁত্তলিক মন্দির তিনি ধ্বংস করেন এবং অমুসলিমদের ওপর জিয়া কর ধার্য করেন। বাগদাদ ও অপরাপর শহর থেকে লুটকৃত জিনিসপত্র ফেরত দেয়া হয়। লোকেরা তাতারীদের হাতে তসবীহমালা দৃষ্টে আল্লাহর অপার অনুগ্রহ ও বদান্যতার জন্য শুকরিয়া আদায় করে।”১
[১. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১৩ শ খন্দ,৩০৪ পৃ ]
“এ বছর চেঙ্গীয খানের প্রপৌঁত্র কাযান ইবন আরগন ইন ঈগা ইবন তূলী ইবন চেঙ্গীয় খান তাতারীদের বাদশাহ হন এবং আমীর ভূয়ূন (র.)-এর হাতে প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণ করেন। তাতারীরা প্রায় সকলেই বা বেশির ভাগই ইসলামে দীক্ষিত হন। যেদিন বাদশাহ ইসলাম কবুল করেন সেদিন মানুষের ওপর স্বর্ণ-রৌপ্য ও মোতি বর্ষণ করা হয়। বাদশাহ মাহমূদ নাম ধারণ করেন এবং জুমুআ ও খুতবায় শরীক হন। বহু পৌঁত্তলিক মন্দির তিনি ধ্বংস করেন এবং অমুসলিমদের ওপর জিয়া কর ধার্য করেন। বাগদাদ ও অপরাপর শহর থেকে লুটকৃত জিনিসপত্র ফেরত দেয়া হয়। লোকেরা তাতারীদের হাতে তসবীহমালা দৃষ্টে আল্লাহর অপার অনুগ্রহ ও বদান্যতার জন্য শুকরিয়া আদায় করে।”১
[১. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১৩ শ খন্দ,৩০৪ পৃ ]