hadith book logo

মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?

লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৩৬

জাতীয়তাবাদী অহংবোধ

জাতীয়তাবাদের যারা পূজারী তাদের অভ্যাস হলো, তারা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ও দুর্বল জাতিগুলোর মধ্যেও জাতীয়তাবাদের প্রচার চালিয়ে থাকে। তার সাহিত্য, তার ভাষা ও সভ্যতার অনুকূলে প্রশংসার ফুলঝুরি ছড়ায় এবং তার অতীত শান-শওকতকে কল্পনার রঙ চড়িয়ে অতিরঞ্জিত করে প্রকাশ করে, এমন কি একদিন সে সব জাতিগোষ্ঠী জাতীয়তাবাদের আবেগের কাছে পরাভূত এবং এর নেশায় উন্মাতাল হয়ে ওঠে। তাদের ভেতর তখন নিজেদের ওপর অন্যায় ও ভুল আস্থা, গর্ব ও অহংকার সৃষ্টি হয়ে যায় এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে জাতীয়তাবাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বৃত্তের মধ্যে আবদ্ধ ও বন্দী হয়ে যায় এবং কোন আন্তর্জাতিক শক্তি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কেরই আর তারা পরওয়া করে না। তারা নিজেদের উপায়-উপকরণ, সম্পদ ও শক্তির ওপরই কেবল নির্ভর করে। ফল হয় এই, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা কোন বৃহৎ শক্তির ঘাসে পরিণত হয়ে যায় এবং পৃখিবী দূর থেকে এর তামাশা দেখতে থাকে এবং মৌখিক সহানুভূতি ব্যতিরেকে সে সময়মত কোন সাহায্যই পায় না। জাতীয়তাবাদের দুর্গ বেষ্টনীর প্রতিষ্ঠা করে এবং নিজেদেরকে বিশ্ব থেকে আলাদা ও বিশিষ্ট হিসাবে অভিহিত করে তারা যেন বৃহৎ শক্তিগুলোর লোলুপ দৃষ্টিকেই আহ্বান জানায়।

মধ্য য়ুরোপের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যের এই যুদ্ধে যেই পরিণতির সম্মুখীন হতে হয় সারা বিশ্ব তা জানে। কিন্তু আফসোসের বিষয়, সেই মুসলিম দেশগুলো যারা এক বিশ্বজয়ী দাওয়াত ও আন্দোলনের অধিকারী, যাদের কাছে এমন শক্তি আছে যা (যদি তাদের ভেতর এ থেকে উপকৃত হবার ও ফায়দা হাসিলের সামর্থ্য থাকে) য়ুরোপের জাতীয়, দেশীয় ও রাজনৈতিক দর্শন ও আহ্বানের চাইতে অধিকতর শক্তিশালী, সুদূরপ্রসারী ও সাধারণ আহ্বান ও আন্দোলন, তাদের ঝোঁকও সীমিত জাতীয়তাবাদের দিকেই, অথচ তারা নিজেদের উপায়-উপকরণ, সমরসম্ভার ও সংখ্যা শক্তির দিক দিয়ে য়ুরোপের খণ্ড খণ্ড রাজ্যের তুলনায় খুব বেশি ভাল অবস্থায় নেই। এজন্য এই আশা করা বাতুলতা বৈ নয় যে, তারা নিজেদের ঐসব সীমিত উপায়-উপকরণ ও জাতীয়তাবাদের সীমারেখার ভেতর কোন বিপদে বেশি দিন ধরে মুকাবিলা করতে পারবে।