১
মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?
লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১১৯
ধর্ম গ্রন্থে সংযোজন, পরিমার্জন ও বিকৃতি সাধন
খ্রিস্ট ধর্মের ধারক-বাহকেরা অতঃপর সবচে’ বিপজ্জনক যেই ভুলটি করে যার ফলে তারা এই ধর্মকে, যেই ধর্মের তারা ছিল প্রতিনিধি, এমন কি নিজেরাই নিজেদেরকেই বিপদের সম্মুখীন ও ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল, তা ছিল এই যে, তারা তাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলোর মধ্যে সেই সব ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বিখ্যাত সব তত্ত্বগত দর্শন ঢুকিয়ে দেয় যেগুলো ঐ যুগের নিরিখে যথার্থ ও স্বীকৃত ছিল এবং মানুষের জ্ঞানের সীমারেখা ঐ যুগ পর্যন্ত অতদূরেই পৌঁছে ছিল। কিন্তু তা কখনোই মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধির সীমা ছিল না। আর যদি সেই যুগের নিরিখে তাকে সীমা মনেও করা হয় তবে তা চূড়ান্ত সীমা বা শেষ সীমা ছিল না। এজন্য যে, মানুষের জ্ঞান ক্রমিক হারে অগ্রসরমান, উন্নয়নমুখী ও তা ভ্রমণশীল, যার অবস্থান একান্তই সাময়িক। এর ওপর কখনোই স্থায়ী সৌধ নির্মাণ করা যায় না। কখনো কখনো তা বালির বাঁধের ন্যায় ধসে পড়ে। ফলে এর ওপর প্রাসাদ-সৌধ নির্মিত হলে তা যে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে তা নিতান্তই স্বাভাবিক। গির্জার লোকেরা সম্ভবত এরূপ খোশ-খেয়ালের বশবর্তী হয়ে এরূপ করে থাকবে এবং তাদের উদ্দেশ্য সম্ভবত এই ছিল, এর দ্বারা ঐসব আসমানী গ্রন্থের মাহাত্ম্য ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু পরবর্তীতে এগুলোই তাদের জন্য দুর্বহ বোঝা এবং ধর্ম ও বুদ্ধিবৃত্তির সেই অশুভ যুদ্ধের নিমিত্ত হয়ে দাঁড়ায় যার ভেতর ধর্ম (সেই ধর্ম যার মধ্যে মানবীয় জ্ঞান-বুদ্ধির মিশ্রণ তথা ভেজাল ছিল) পরাজিত হলো এবং য়ুরোপে ধর্মানুসারীদের এমন পতন ঘটল যার পর আর তারা মাথা উচু করে দাড়াতে পারেনি। এর চেয়েও বেশি দুঃখজনক ব্যাপার হলো, য়ুরোপ ধর্মহীন ও অবিশ্বাসী হয়ে গেল।
ধর্মের ধারক-বাহক এ সব পাদ্রী ও সাধু-সন্ন্যাসী এ সব সংযোজন-বিয়োজন ও বিকৃতির ওপরই থেমে থাকল না এবং সে সব ভৌগোলিক, ঐতিহাসিক ও বৈজ্ঞানিক তথ্যাদিকেও যেগুলো লোকের মুখে মুখে ফিরত এবং এভাবে মশহুর। হয়ে গিয়েছিল কিংবা বাইবেলের কোন কোন ভাষ্যকার ও ব্যাখ্যাতা যেগুলোকে তাদের ব্যাখ্যা-ভাষ্যে উল্লেখ করেছিলেন সেগুলোর ওপর ধর্মের আলখেল্লা পরিয়ে দিল এবং সেগুলোকে ধর্মীয় রঙে রঞ্জিত করে খ্রিস্টীয় শিক্ষামালা ও মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত করে নিল যার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা ছিল একজন খ্রিস্টানের জন্য অপরিহার্য। এ বিষয়ে তারা বই-পুস্তক লিখল এবং সেই সব ভৌগোলিক বিষয়গুলোকে, যার পেছনে কোন আসমানী সনদ ছিল না, Christian Topography নাম দিল এবং সেগুলো অবনত মস্তকে মেনে নিতে লোকজনকে বাধ্য করল। আর যারা তা মানল না তাদেরকে ধর্মদ্রোহী ও অবিশ্বাসী কাফির অভিধায় অভিহিত করল।
ধর্মের ধারক-বাহক এ সব পাদ্রী ও সাধু-সন্ন্যাসী এ সব সংযোজন-বিয়োজন ও বিকৃতির ওপরই থেমে থাকল না এবং সে সব ভৌগোলিক, ঐতিহাসিক ও বৈজ্ঞানিক তথ্যাদিকেও যেগুলো লোকের মুখে মুখে ফিরত এবং এভাবে মশহুর। হয়ে গিয়েছিল কিংবা বাইবেলের কোন কোন ভাষ্যকার ও ব্যাখ্যাতা যেগুলোকে তাদের ব্যাখ্যা-ভাষ্যে উল্লেখ করেছিলেন সেগুলোর ওপর ধর্মের আলখেল্লা পরিয়ে দিল এবং সেগুলোকে ধর্মীয় রঙে রঞ্জিত করে খ্রিস্টীয় শিক্ষামালা ও মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত করে নিল যার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা ছিল একজন খ্রিস্টানের জন্য অপরিহার্য। এ বিষয়ে তারা বই-পুস্তক লিখল এবং সেই সব ভৌগোলিক বিষয়গুলোকে, যার পেছনে কোন আসমানী সনদ ছিল না, Christian Topography নাম দিল এবং সেগুলো অবনত মস্তকে মেনে নিতে লোকজনকে বাধ্য করল। আর যারা তা মানল না তাদেরকে ধর্মদ্রোহী ও অবিশ্বাসী কাফির অভিধায় অভিহিত করল।