hadith book logo

মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?

লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৪

যুদ্ধবিগ্রহপ্রিয় স্বভাব

আরবরা প্রকৃতিগতভাবেই যুদ্ধপ্রিয় জাতি। তাদের মরুচারী অসংস্কৃত জীবনের এটাই ছিল চাহিদা ও দাবি। যুদ্ধ তাদের জীবনের একটি অনিবার্য প্রয়োজনের চাইতেও বেশি ক্রীড়া-কৌতুক ও চিত্তবিনোদনের উপকরণে পরিণত হয়েছিল যা ছাড়া তাদের বেঁচে থাকাটাই ছিল কঠিন। তাদেরই জনৈক কবি গর্বভরে বলেনঃ

واحيانا على بكر اخينا - اذا مالم نجد الا اخانا

‘আমরা যদি প্রতিপক্ষ হিসেবে কোন কবিলা না পাই তাহলে আমাদের আকাঙক্ষা নিবৃত্তির জন্য আমরা আমাদের মিত্র গোত্রের ওপরই অগত্যা ঝাপিয়ে পড়ি।১

একজন আরব কবি এভাবে তার অভিলাষ ব্যক্ত করেন যে, আমার ঘোড়া আরোহণের উপযুক্ত হলে আল্লাহ তা'আলা যেন যুদ্ধের আগুন জ্বালিয়ে দেন যাতে করে আমি আমার ঘোড়ার ও তরবারির নৈপুণ্য প্রদর্শনের সুযোগ পাই।২

যুদ্ধ ও রক্তপাত তাদের কাছে ছিল নেহাত মামুলী ব্যাপার। যুদ্ধের আগুন জ্বালানোর জন্য মামুলী কোন ঘটনাই যথেষ্ট ছিল। ওয়াইল-এর বংশধর বকর ও তাগলিব গোত্রের মধ্যে চল্লিশ বছর যাবত যুদ্ধ চলেছিল যেখানে পানির মত বেদেরেগ রক্ত প্রবাহিত হয়েছিল। মুহালহিল নামক জনৈক আরব সর্দার উল্লিখিত যুদ্ধের চিত্র এভাবে এঁকেছেনঃ

“দু'টো খান্দানই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। মা হারিয়েছে তার সন্তান আর সন্তান হয়েছে পিতৃহীন ইয়াতীম। চোখের পানি শুকায় না, লাশও আর দাফন করা হয়।"৩ গোটা আরব উপদ্বীপ ছিল যেন শিকারীর পাতা জাল। কেউ জানত না যে, কোথায় তাকে লুট করা হবে। আর কেউ বলতে পারত না কখন তাকে ধোকা দিয়ে হত্যা করা হবে। কাফেলার মাঝে থেকে লোক ছোঁ মেরে উঠিয়ে নেওয়া হতো, এমন কি তজ্ঞালীন সুবিশাল রাষ্ট্রসমূহেরও তাদের কাফেলা ও দূতের নিরাপত্তার জন্য মজবুত চৌকি পাহারা এবং গোত্রের প্রধানদের জামানতের প্রয়োজন পড়ত।৪

[১. দীওয়ানে হামাসা; ]

[২. দীওয়ানে হামাসা। ]

[৩. দ্র. আয়্যামুল-আরব নামক পুস্তক।]

[৪. দ্র. তারীখে তাবারী, ২য় খণ্ড, ১৩৩ পৃ.। ]