১
মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?
লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৭০
ঈমানই আরব জাহানের শক্তি
ইসলাম আরব জাহানের জাতীয়তা, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম তার ইমাম ও নেতা আর ঈমান হলো তার শক্তির উৎস ও ভাণ্ডার যার ওপর ভরসা করে সে অপরাপর জাতিগোষ্ঠীর মুকাবিলা করেছে এবং বিজয়ী হয়েছে। তার শক্তির রহস্য, তার কার্যকর অস্ত্র ও মোক্ষম হাতিয়ার কাল যা ছিল, আজও তাই আছে যা নিয়ে সে শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারে, নিজের অস্তিত্ব রক্ষা করতে পারে এবং অন্যদের পর্যন্ত নিজের পয়গাম পৌঁছুতে পারে।
আরব জাহানকে যদি কম্যুনিজম ও ইয়াহুদীবাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয় কিংবা। অন্য কোন শত্রুর সঙ্গে মুকাবিলা করতে হয় তাহলে সে সেই সম্পদের ওপর নির্ভর করে যুদ্ধ করতে পারে না যা ব্রিটেন তাকে দেয় কিংবা আমেরিকা তাকে খয়রাত করে কিংবা পেট্রোলের বিনিময়ে সে লাভ করে। সে তার শত্রুর মুকাবিলা কেবল সেই ঈমান, সেই অর্থপূর্ণ শক্তি, সেই রূহ তথা প্রাণসত্তা ও স্পিরিটকে সাথে নিয়েই করতে পারে যেই স্পিরিটের সাথে কখনো তারা একই সঙ্গে রোম ও পারস্য সরকারকে যুদ্ধের আহ্বান জানিয়েছিল এবং জয় লাভ করেছিল। সে সেই হৃদয় নিয়ে যুদ্ধ করতে পারে না যে জীবনকে গভীরভাবে ভালবাসে এবং মৃত্যুকে ঘৃণা করে। সেই শরীর নিয়ে মুকাবিলা করতে পারে না যা আরাম-আয়েশ ও বিলাস-ব্যসনে প্রিয় ও অভ্যস্ত। সেই বুদ্ধি-বোধ নিয়েও মুকাবিলা করতে পারে না যাতে সন্দেহ ও সংশয়ের ঘুন লেগেছে এবং যার চিন্তা-চেতনা ও কামনা-বাসনা পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষরত। তাকে মনে রাখতে হবে, দুর্বল ঈমান, সন্দেহযুক্ত দিল ও ময়দানের সঙ্গ পরিত্যাগকারী শক্তি সাথে নিয়ে আর যা-ই হোক, যুদ্ধের ময়দান কখনো জেতা যায় না। আরবের নেতৃবৃন্দ ও আরব লীগের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো, তারা আরবী ফৌজ, কৃষক, ব্যবসায়ী ও জনগণের প্রতিটি স্তরে ঈমানের বীজ বপন করুন, চারা রোপণ করুন। তাদের মধ্যে জিহাদী প্রেরণা, জান্নাতের প্রতি আগ্রহ এবং বাহ্যিক বসন-ভূষণ ও সাজ-সজ্জার প্রতি ঘৃণা ও অবজ্ঞা সৃষ্টি করুন। তাদেরকে প্রবৃত্তিজাত কামনা-বাসনা ও জীবনের কাঙ্ক্ষিত বস্তুসমূহের ওপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করা, আল্লাহর পথে বিপদ-আপদ ও দুঃখ-কষ্ট সহ্য করা এবং হাসিমুখে মৃত্যুকে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন ও মৃত্যুর মুখে পতঙ্গের ন্যায় ঝাঁপিয়ে পড়ার সবক দিন।
আরব জাহানকে যদি কম্যুনিজম ও ইয়াহুদীবাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয় কিংবা। অন্য কোন শত্রুর সঙ্গে মুকাবিলা করতে হয় তাহলে সে সেই সম্পদের ওপর নির্ভর করে যুদ্ধ করতে পারে না যা ব্রিটেন তাকে দেয় কিংবা আমেরিকা তাকে খয়রাত করে কিংবা পেট্রোলের বিনিময়ে সে লাভ করে। সে তার শত্রুর মুকাবিলা কেবল সেই ঈমান, সেই অর্থপূর্ণ শক্তি, সেই রূহ তথা প্রাণসত্তা ও স্পিরিটকে সাথে নিয়েই করতে পারে যেই স্পিরিটের সাথে কখনো তারা একই সঙ্গে রোম ও পারস্য সরকারকে যুদ্ধের আহ্বান জানিয়েছিল এবং জয় লাভ করেছিল। সে সেই হৃদয় নিয়ে যুদ্ধ করতে পারে না যে জীবনকে গভীরভাবে ভালবাসে এবং মৃত্যুকে ঘৃণা করে। সেই শরীর নিয়ে মুকাবিলা করতে পারে না যা আরাম-আয়েশ ও বিলাস-ব্যসনে প্রিয় ও অভ্যস্ত। সেই বুদ্ধি-বোধ নিয়েও মুকাবিলা করতে পারে না যাতে সন্দেহ ও সংশয়ের ঘুন লেগেছে এবং যার চিন্তা-চেতনা ও কামনা-বাসনা পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষরত। তাকে মনে রাখতে হবে, দুর্বল ঈমান, সন্দেহযুক্ত দিল ও ময়দানের সঙ্গ পরিত্যাগকারী শক্তি সাথে নিয়ে আর যা-ই হোক, যুদ্ধের ময়দান কখনো জেতা যায় না। আরবের নেতৃবৃন্দ ও আরব লীগের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো, তারা আরবী ফৌজ, কৃষক, ব্যবসায়ী ও জনগণের প্রতিটি স্তরে ঈমানের বীজ বপন করুন, চারা রোপণ করুন। তাদের মধ্যে জিহাদী প্রেরণা, জান্নাতের প্রতি আগ্রহ এবং বাহ্যিক বসন-ভূষণ ও সাজ-সজ্জার প্রতি ঘৃণা ও অবজ্ঞা সৃষ্টি করুন। তাদেরকে প্রবৃত্তিজাত কামনা-বাসনা ও জীবনের কাঙ্ক্ষিত বস্তুসমূহের ওপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করা, আল্লাহর পথে বিপদ-আপদ ও দুঃখ-কষ্ট সহ্য করা এবং হাসিমুখে মৃত্যুকে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন ও মৃত্যুর মুখে পতঙ্গের ন্যায় ঝাঁপিয়ে পড়ার সবক দিন।