hadith book logo

মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?

লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২৯

অর্থনৈতিক সর্বেশ্বরবাদ (ওয়াহদাতুল-ওজুদ)

বস্তুবাদী দৃষ্টিকোণ ও বস্তুবাদী চিন্তাপদ্ধতি য়ুরোপীয়দেরকে ইস্তিগরাক ও ফানা (আত্মবিলুপ্তি ও আত্মবিসর্জন)-এর এমন এক স্তরে পৌঁছিয়ে দিয়েছে যে, পাশ্চাত্যের লোকেরা ও চিন্তাশীল মহল এর বাইরের সব কিছু একেবারেই ভুলে যায়। সমাজতান্ত্রিক দর্শনের জনক কার্ল মার্কস (১৮১৮-৮৩} এর সর্বোত্তম উদাহরণ। তাঁর মতে, গোটা মানব জাতির ইতিহাস (তার অতি শৈশবকাল ব্যতীত) মানব সমাজের পারস্পরিক শ্রেণী সংগ্রামের ইতিহাস। তিনি মানব জীবনের অর্থনৈতিক দিক ভিন্ন আর সমস্ত দিকের গুরুত্ব ও প্রভাবকেই অস্বীকার করেছেন। তিনি অর্থাৎ কার্ল মার্কস ধর্ম, নীতি-নৈতিকতা, হৃদয়, আত্মা, এমন কি প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিবৃত্তিকেও আদৌ মূল্য দেন নি এবং তাঁর মতে এগুলোর মধ্যে কোনটারই মানব ইতিহাসে কোন বিশেষ গুরুত্ব নেই। ইতিহাসের বুকে সংঘটিত সমস্ত যুদ্ধ-বিগ্রহ, বিদ্রোহ ও বিপ্লব কেবল প্রতিশোধ গ্রহণের নিমিত্তই সংঘটিত হয়েছে যা একজন ক্ষুদ্র ও অন্নহীন ক্ষুধার্ত লোক একজন বিরাট ও ভরপেট লোক থেকে নিতে চায়। এটা ছিল কেবলই এক নিরন্তর সংগ্রাম ও সাধনা যা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার নবতর সংগঠন ও শিল্পোৎপাদনের বিভিন্ন পন্থার নবতর। সংগঠনের ধারাবাহিকতায় সামনে এসেছে। এরই ওপর ভিত্তি করে এই ফলাফলে উপনীত হওয়া ভুল হবে না যে, তাঁর মতে ধর্মীয় যুদ্ধ, জিহাদও বিভিন্ন অর্থনৈতিক শ্ৰেণীর মধ্যে পারস্পরিক সংগ্রাম বৈ আর কিছুই নয়। একদল সম্পদের উৎস ও উৎপাদনের উপায়-উপকরণগুলো নানা কৌশলে দখল করে বসেছিল আর অপর দল এসব সম্পদে অংশ দাবি করত এবং অপরিহার্য ভাগ নিতে চাইত কিংবা এসব সম্পদ ও উৎপাদনের উপকরণগুলো (যেমন জমি, মিল ও কল-কারখানা ইত্যাদি) নতুনভাবে সংগঠিত করতে ও ঢেলে সাজাতে চাইত। প্রথমোক্ত দল এর প্রতিরোধে এগিয়ে এলে সেসব যুদ্ধ-বিগ্রহ, হৈ-হাঙ্গামা, বিক্ষোভ ও বিপ্লব সংঘটিত হয়, ইতিহাস যেগুলোকে বিভিন্ন নামে স্মরণ করে। এই একতরফা ও একচোখা দর্শন কোন ধর্মীয় যুদ্ধ-জিহাদ, কোন ধর্মীয় সংস্কারমূলক আন্দোলন, কোন আধ্যাত্মিক সংগ্রাম ও চেষ্টা-সাধনাকেই তাদের এই ব্যাখ্যা থেকে আলাদা বা ভিন্নতর ভাবতে রাজী নয়। আর এই হলো পাশ্চাত্যের বস্তুবাদী তাসাওউফ ও মুররাপের অর্থনৈতিক সর্বেশ্বরবাদী দর্শন।