১
মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?
লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৭২
শ্ৰেণী বৈষম্য ও অপচয়ের মুকাবিলা
পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রভাবে এবং অন্যান্য আরও অনেক কারণে আরবদের মধ্যে আরাম-আয়েশ ও ভোগ-বিলাস, জীবনের অনাবশ্যক ও অপ্রয়োজনীয় জিনিসের প্রতি সীমাতিরিক্ত গুরুত্ব প্রদান, অপচয়, ফুর্তি, প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণ, অহংকার ও সাজ-সজ্জার জন্য বাহুল্য খরচের অভ্যাস সৃষ্টি হয়ে গেছে। এই আরাম-আয়েশ, ভোগ-বিলাস ও প্রাচুর্য এবং বেদেরেগ খরচের পাশাপাশি সেখানে দারিদ্র, অনাহার ও বস্ত্রের অভাবও বিদ্যমান। একজন মানুষ যখন বড় বড় আরব শহরগুলোর দিকে চোখ তুলে তাকায় তখন তার চোখ অশ্রুপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং লজ্জায় মাথা নত হয়ে আসে। সে দেখতে পায় যে, একদিকে সেই সব মানুষ যাদের হাজারে বেজার নেই, প্রয়োজনাতিরিক্ত খাদ্য, বস্ত্র কোথায় রাখবে সেই চিন্তায় ব্যস্ত, অপরদিকে তার দৃষ্টি এমন সব বেদুঈনদের ওপরও পড়ে যাদের ঘরে এক বেলার খাবার নেই, পরনে নেই লজ্জা ঢাকার মত এক খণ্ড বস্ত্র। আরব ধনিক-বণিক ও ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠী যখন বায়ুবেগে ধাবমান মোটর যানে দীর্ঘ সফরে বের হয় ঠিক সে সময়ই হাডিডসার একদল শিশু চোখের সামনে, এসে দাঁড়ায় জীর্ণ শীর্ণ বস্ত্র পরিহিত, যেসব শিশু একটা পয়সার জন্য ওদের মোটরের পেছনে দৌড়চ্ছে।
যতদিন আরব দেশগুলোতে আকাশচুম্বী প্রাসাদ ও সর্বোত্তম মডেলের গাড়ির পাশাপাশি দীনহীন ঝুপড়ি, জীর্ণশীর্ণ বস্তি ও সংকীর্ণ পরিসরের অন্ধকারপূর্ণ কুটির চোখে পড়বে, যতদিন অনাহার ও দারিদ্রক্লিষ্ট হাড় লিকলিকে মানুষের। সারি একই শহরে দৃষ্টিগোচর হবে ততদিন কমুনিজমের জন্য দরজা উন্মুক্ত।১ হৈ-হাঙ্গামা, লড়াই-ঝগড়া তখন অবধারিতভাবে দেখা দেবেই। কোন প্রচার-প্রোপাগান্ডা ও শক্তি প্রয়োগের দ্বারাই তাকে রোখা যাবে না। সেখানে যদি ইসলামী জীবনাদর্শ তার সৌন্দর্য ও ভারসাম্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত না হয় তবে আল্লাহর শাস্তি ও এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে সেখানে জুলুম ও নিপীড়নের রাজত্ব অবধারিতভাবে কায়েম হবেই।
[১. মনে রাখতে হবে; যখন এ বই লেখা হয় তখন রাশিয়া ও চীনসহ বহু সংখ্যক দেশে প্রবল প্রতাপ নিয়ে কমুনিজম প্রতিষ্ঠিত। সে সময় একমাত্র কমুনিজমই প্রবল হুমকী হিসাবে বিরাজ করছিল। কম নিজমের ব্যর্থতার পর সেই হুমকী কেটে গেছে। বর্তমানে পুঁজিবাদী বিশ্বের মোড়ল আমেরিকা বিভিন্ন মুখরোচক শ্লোগানের আড়ালে মুসলিম বিশ্বের সামনে আখাব ও গযৰ হিসেবে দেখা দিতে যাচ্ছে।
-অনুবাদক। ]
যতদিন আরব দেশগুলোতে আকাশচুম্বী প্রাসাদ ও সর্বোত্তম মডেলের গাড়ির পাশাপাশি দীনহীন ঝুপড়ি, জীর্ণশীর্ণ বস্তি ও সংকীর্ণ পরিসরের অন্ধকারপূর্ণ কুটির চোখে পড়বে, যতদিন অনাহার ও দারিদ্রক্লিষ্ট হাড় লিকলিকে মানুষের। সারি একই শহরে দৃষ্টিগোচর হবে ততদিন কমুনিজমের জন্য দরজা উন্মুক্ত।১ হৈ-হাঙ্গামা, লড়াই-ঝগড়া তখন অবধারিতভাবে দেখা দেবেই। কোন প্রচার-প্রোপাগান্ডা ও শক্তি প্রয়োগের দ্বারাই তাকে রোখা যাবে না। সেখানে যদি ইসলামী জীবনাদর্শ তার সৌন্দর্য ও ভারসাম্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত না হয় তবে আল্লাহর শাস্তি ও এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে সেখানে জুলুম ও নিপীড়নের রাজত্ব অবধারিতভাবে কায়েম হবেই।
[১. মনে রাখতে হবে; যখন এ বই লেখা হয় তখন রাশিয়া ও চীনসহ বহু সংখ্যক দেশে প্রবল প্রতাপ নিয়ে কমুনিজম প্রতিষ্ঠিত। সে সময় একমাত্র কমুনিজমই প্রবল হুমকী হিসাবে বিরাজ করছিল। কম নিজমের ব্যর্থতার পর সেই হুমকী কেটে গেছে। বর্তমানে পুঁজিবাদী বিশ্বের মোড়ল আমেরিকা বিভিন্ন মুখরোচক শ্লোগানের আড়ালে মুসলিম বিশ্বের সামনে আখাব ও গযৰ হিসেবে দেখা দিতে যাচ্ছে।
-অনুবাদক। ]