১
মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?
লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬৭
সঠিক পরিচিতি ও বিশুদ্ধ অভিজ্ঞান
আম্বিয়া আলায়হিমুস-সালাম মানুষকে আল্লাহ্র যাত ও সিফাত তথা তাঁর পবিত্র সত্তা ও গুণাবলী ও তাঁর যাবতীয় কাজকর্মের সঠিক ও নিশ্চিত জ্ঞান দান করেছিলেন। এই বিশ্বজগতের সূচনা ও চূড়ান্ত পরিণতি এবং মৃত্যুর পর মানুষ যার মুখোমুখি হবে সে সবের জ্ঞান আম্বিয়া আলায়হিমুস-সালামের মাধ্যমে মানব জাতি পর্যন্ত কোনরূপ চেষ্টা-তদবীর ও আয়াস ছাড়াই পৌঁছেছে। আম্বিয়া ‘আলায়হিমুস-সালাম এমন সব জ্ঞানের ক্ষেত্রে তাদের পথ দেখিয়েছেন যে সবের মূলনীতি ও মূলভিত্তির প্রাথমিক জ্ঞানও তার ছিল না যার ওপর এই মানুষ তার গবেষণার প্রাসাদ দাঁড় করাতে পারে। আম্বিয়া আলায়হিমুস-সালাম মানুষের সময় ও শক্তি বাচিয়ে দিয়েছেন, অধিবিদ্যাগত সেই নিষ্ফল ও অর্জনাতীত অনুসন্ধান ও গবেষণার হাত থেকে মুক্তি দিয়েছেন যেক্ষেত্রে না তার ইন্দ্রিয় শক্তি তাকে কোনরূপ সাহায্য করতে পারত আর না দিতে পারত তার দৃষ্টি কোন পথের সন্ধান, আর না তার কাছে এ বিষয়ক কোন মৌলিক জ্ঞানই বিদ্যমান ছিল।
কিন্তু মানুষ এই নেয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেনি। সে এক অপ্রয়োজনীয় অভিযানের দায়িত্ব নিজের মাথায় তুলে নিল। যেই হাকীকত তথা। মৌলিক সত্য আম্বিয়া আলায়হিমুস-সালামের মাধ্যমে সে অনায়াসে ও বিনা প্রয়াসে লাভ করেছিল সে তা নিয়ে আবার গোড়া থেকে গবেষণা শুরু করল এবং সেই অজানা দ্বীপাঞ্চল ও ভূখণ্ড চষে বেড়াতে লাগল যার কোন পথ-প্রদর্শক তার সাথে ছিল না কিংবা এমন কেউ ছিল না যে এ পথ সম্পর্কে অবহিত। এ ব্যাপারে সে সেই অভিযাত্রীর চাইতেও বেশি দুর্ভাগা ও বাহুল্যপ্রিয় প্রমাণিত হয়েছে যে সে সব জ্ঞাত বিষয় ও গবেষণাতেই সন্তুষ্ট নয় যা ভূগোল ও মানচিত্র আকারে কয়েক প্রজন্মের ও শতাব্দীর পর শতাব্দীর শ্রমের ফসল। সে প্রয়াস চালাচ্ছে পাহাড়ের উচ্চতা ও সমুদ্রের গভীরতা নতুন করে মাপতে। প্রান্তর-ময়দান, দূর-দূরান্ত ও সীমান্তসমূহ তার এই সংক্ষিপ্ত বয়স ও সীমাবদ্ধ উপায়-উপকরণ নিয়ে আরেকবার। যুক্ত ও সম্পৃক্ত করতে। এই মানুষটির চেষ্টা ও শ্রমের পরিণতি এছাড়া আর কী হতে পারে যে, অবশেষে সে ক্লান্ত ও অবসন্ন হয়ে বসে পড়বে। তার অটুট সংকল্প ও মনোবল জওয়াব দিয়ে বসবে এবং সেই ব্যক্তি কেবল গুটি কয়েক স্মারক ও অপূর্ণ ইশারা-ইঙ্গিতের কিছু পুঁজি সংগ্রহ করবে। এর চেয়ে বেশি যে সমস্ত লোক খোদায়ী দর্শনের ময়দানে অন্তর্দৃষ্টি ও আলোকরশ্মি ব্যতিরেকেই পা রেখেছে তাদের জ্ঞানের এই ময়দানে পরস্পরবিরোধী মত, অপূর্ণ জ্ঞান ও তথ্য, আকস্মিক ধ্যান-ধারণা ও তাড়াহুড়ার দর্শন ছাড়া আর কিছু খুঁজে পাবে না। নিজেরাও পথ হারাল আর অন্যদেরও বিভ্রান্ত ও লক্ষ্যভ্রষ্ট করল।
সাহাবায়ে কিরাম (রা) দীন সম্পর্কে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান ও তৌফীকপ্রাপ্ত ছিলেন যে, দীন সম্পর্কে তারা রসূলুল্লাহ সো)-এর তা'লীম ও প্রদত্ত তথ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা স্থাপন করে আল্লাহ তাআলার পবিত্র সত্তা ও গুণাবলী সম্পর্কে ‘আকাশ কুসুম স্বর্গ তৈরির ব্যর্থ চেষ্টা থেকে বিরত থাকেন। তারা তাদের মেধা ও শক্তিকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখেন এবং নিজেদের যাবতীয় প্রয়াস, চেষ্টা-সাধনা ও সময়কে পূর্ণ সতর্কতার সাথে দীন ও দুনিয়ার উপকারী ক্ষেত্রে ব্যয় করেন। তাঁরা দীনের মযবুত বৃত্তকে আঁকড়ে থাকেন। ফল দাঁড়াল এই যে, যদি অন্যের কাছে দীন সম্পর্কিত বিষয়াদি ও বিস্তৃত বিবরণ থাকে, তবে তাঁদের কাছে ছিল দীনের মগজ ও এর সারাৎসার।
কিন্তু মানুষ এই নেয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেনি। সে এক অপ্রয়োজনীয় অভিযানের দায়িত্ব নিজের মাথায় তুলে নিল। যেই হাকীকত তথা। মৌলিক সত্য আম্বিয়া আলায়হিমুস-সালামের মাধ্যমে সে অনায়াসে ও বিনা প্রয়াসে লাভ করেছিল সে তা নিয়ে আবার গোড়া থেকে গবেষণা শুরু করল এবং সেই অজানা দ্বীপাঞ্চল ও ভূখণ্ড চষে বেড়াতে লাগল যার কোন পথ-প্রদর্শক তার সাথে ছিল না কিংবা এমন কেউ ছিল না যে এ পথ সম্পর্কে অবহিত। এ ব্যাপারে সে সেই অভিযাত্রীর চাইতেও বেশি দুর্ভাগা ও বাহুল্যপ্রিয় প্রমাণিত হয়েছে যে সে সব জ্ঞাত বিষয় ও গবেষণাতেই সন্তুষ্ট নয় যা ভূগোল ও মানচিত্র আকারে কয়েক প্রজন্মের ও শতাব্দীর পর শতাব্দীর শ্রমের ফসল। সে প্রয়াস চালাচ্ছে পাহাড়ের উচ্চতা ও সমুদ্রের গভীরতা নতুন করে মাপতে। প্রান্তর-ময়দান, দূর-দূরান্ত ও সীমান্তসমূহ তার এই সংক্ষিপ্ত বয়স ও সীমাবদ্ধ উপায়-উপকরণ নিয়ে আরেকবার। যুক্ত ও সম্পৃক্ত করতে। এই মানুষটির চেষ্টা ও শ্রমের পরিণতি এছাড়া আর কী হতে পারে যে, অবশেষে সে ক্লান্ত ও অবসন্ন হয়ে বসে পড়বে। তার অটুট সংকল্প ও মনোবল জওয়াব দিয়ে বসবে এবং সেই ব্যক্তি কেবল গুটি কয়েক স্মারক ও অপূর্ণ ইশারা-ইঙ্গিতের কিছু পুঁজি সংগ্রহ করবে। এর চেয়ে বেশি যে সমস্ত লোক খোদায়ী দর্শনের ময়দানে অন্তর্দৃষ্টি ও আলোকরশ্মি ব্যতিরেকেই পা রেখেছে তাদের জ্ঞানের এই ময়দানে পরস্পরবিরোধী মত, অপূর্ণ জ্ঞান ও তথ্য, আকস্মিক ধ্যান-ধারণা ও তাড়াহুড়ার দর্শন ছাড়া আর কিছু খুঁজে পাবে না। নিজেরাও পথ হারাল আর অন্যদেরও বিভ্রান্ত ও লক্ষ্যভ্রষ্ট করল।
সাহাবায়ে কিরাম (রা) দীন সম্পর্কে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান ও তৌফীকপ্রাপ্ত ছিলেন যে, দীন সম্পর্কে তারা রসূলুল্লাহ সো)-এর তা'লীম ও প্রদত্ত তথ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা স্থাপন করে আল্লাহ তাআলার পবিত্র সত্তা ও গুণাবলী সম্পর্কে ‘আকাশ কুসুম স্বর্গ তৈরির ব্যর্থ চেষ্টা থেকে বিরত থাকেন। তারা তাদের মেধা ও শক্তিকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখেন এবং নিজেদের যাবতীয় প্রয়াস, চেষ্টা-সাধনা ও সময়কে পূর্ণ সতর্কতার সাথে দীন ও দুনিয়ার উপকারী ক্ষেত্রে ব্যয় করেন। তাঁরা দীনের মযবুত বৃত্তকে আঁকড়ে থাকেন। ফল দাঁড়াল এই যে, যদি অন্যের কাছে দীন সম্পর্কিত বিষয়াদি ও বিস্তৃত বিবরণ থাকে, তবে তাঁদের কাছে ছিল দীনের মগজ ও এর সারাৎসার।