১
মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?
লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬২
আত্মজিজ্ঞাসা ও বিবেকের ভৎসনা
এই ঈমান ছিল নৈতিকতার একটি সফল মাদরাসা ও মানসিক প্রশিক্ষণ যা শিক্ষার্থীকে সর্বোচ্চ মানের ইচ্ছাশক্তি, আত্মসমালোচনা এবং স্বয়ং নিজের প্রতি সুবিচারের শক্তি দান করত। ইতিহাসে এমন কোন শক্তির সন্ধান পাওয়া যায় না যা মনের চাহিদা ও নৈতিক পদস্খলনের ওপর এরূপ সফলতার সঙ্গে জয়লাভ করেছে।
যদি কোন সময় পাশবিক শক্তি ও পশুপ্রবৃত্তির প্রভাবে মানুষের দ্বারা ভুলভ্রান্তি সংঘটিত হয়েছে আর এর সুযোগ তখন ঘটে যখন কোন মনুষ্য চক্ষু তা দেখতে পায় না এবং সংশ্লিষ্ট লোকটিকে আইনের ধারা-উপধারা আটকাতে অক্ষম হয়, এই ঈমানই তখন তীব্র ভংসনাকারী নফসে লাওয়ামায় পরিণত হয়, দিলের ফাঁস তার পায়ে গিয়ে তাকে চলৎশক্তিহীন করে দেয়, পেরেশানকারী ধ্যান-ধারণ বন্যার বেগে তার মস্তিষ্কের ওপর আছড়ে পড়ে। গোনাহর স্মরণ ও স্মৃতি এমন পীড়াদায়ক হয়ে ওঠে যে, তার জীবন থেকে শান্তি ও স্বস্তি উবে যায়। এমন কি লোকটি শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয় নিজেকে প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেকে পেশ করতে। সে নিজেই কৃত অপরাধের স্বীকারোক্তি করে এবং কঠিন শাস্তির জন্য নিজেকে পেশ করে। এরপর নির্ধারিত শাস্তি সে সন্তুষ্টচিত্তে। মেনে নেয় এবং হাসিমুখে শাস্তি সইতে থাকে যাতে করে সে আল্লাহর অসন্তুষ্টির হাত থেকে বাঁচতে পারে এবং আখিরাতের স্থলে দুনিয়াতেই শাস্তিটা ভোগ করে নিতে পারে।
আমাদের সামনে বিশ্বস্ত ঐতিহাসিকগণ এ সম্পর্কে এমন সব বিস্ময়কর ঘটনা। তাদের লিখিত ইসলামের ইতিহাসে পেশ করেছেন যার নজীর ইসলামের ধর্মীয় ইতিহাস ছাড়া অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না। এসব ঘটনার মধ্যেই মাইয ইন মালিক আসলামীর ঘটনা অন্যতম। ঘটনাটি ইমাম মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন। মাইয রসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে বলতে থাকেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি অপরাধ করে ফেলেছি, আমি যেনা করেছি।
আমি চাই, আপনি আমাকে পরিশুদ্ধ করে দেবেন। তিনি তাকে ফিরিয়ে দিলেন। পরদিন আবার তিনি এলেন এবং বলতে লাগলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যেনার অপরাধে অপরাধী। আমাকে পরিশুদ্ধ করে দিন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাঁকে আবারও ফিরিয়ে দিলেন। অতঃপর তাঁর পরিবারের লোকদের থেকে জানতে চাইলেন তাঁর মাথায় কোনরকম ছিট বা গোলমাল আছে কিনা। তারা উত্তরে জানায় যে, তাদের জানামতে মাইয অত্যন্ত সমঝদার মানুষ ও বিশিষ্ট ব্যক্তি। এরপর মাইয় (রা) তৃতীয়বারের মত রসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর দরবারে আগমন করেন এবং ঐ একই কথার পুনরাবৃত্তি করে বলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমা দ্বারা যেনার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। আমাকে আপনি পাক করে দিন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) পুনরায় তার মানসিক সুস্থতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে একই রূপ তথ্য পেলেন। চতুর্থবার স্বীকৃতির পর তার অর্ধেক দেহ মাটিতে পুঁতে পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে হত্যার নির্দেশ দেন।১
[১. সহীহ মুসলিম, কিতাবুল-হুদূদ।]
এর পরবর্তী ঘটনা গামিদিয়া (রা) নামক মহিলা সাহাবী)-র। তিনি নবী করীম (ﷺ) -এর খেদমতে এসে বলতে থাকেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যেনা। করে ফেলেছি। আমাকে পরিশুদ্ধ করে দিন। তিনি তাকে ফিরিয়ে দিলেন। পরদিন মহিলা আবার আসেন এবং বলতে থাকেন, আপনি আমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন কেন? সম্ভবত সেভাবে ফিরিয়ে দিচ্ছেন যেভাবে মাইকে ফিরিয়ে দিতেন। হঁ্যা, আমি গর্ভবতীও বটে। আল্লাহর রসুল তাকে বললেন, তুমি এখন ফিরে যাও। সন্তান প্রসবের পর এস। সন্তান প্রসবের পর মহিলাটি পুনরায় আসলেন। শিশু কাপড়ে জড়ানো ছিল। তিনি শিশুটাকে দেখিয়ে বলেন, “এটাই আমার বাচ্চা।” নবী করীম (ﷺ) তাঁকে বলেন, “যাও, ওকে দুধ পান করাও গিয়ে। যখন সে খাবার খাওয়া শুরু করবে তখন এস।” এরপর কোলের শিশুটি যখন দুধপান ত্যাগ করল তখন মহিলা আবার এলেন। শিশুটির হাতে তখন রুটির টুকরা। তিনি বলতে লাগলেন, “হে আল্লাহর নবী! এই নিন, বাচ্চা আমার দুধপান ছেড়ে দিয়েছে আর আমি দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেয়েছি। সে এখন খাবার খেতে পারে।” আল্লাহর নবী শিশুটাকে একজন মুসলমানের হাতে তুলে দিলেন। এবং মহিলার ওপর শাস্তি প্রয়োগের নির্দেশ দিলেন। তাঁর বুক পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে ফেলা হলো। তিনি নির্দেশ দিতেই সকলে মিলে তাকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করল। খালিদ (রা) ইবনুল-ওলীদ একটি পাথর নিক্ষেপ করলে রক্তের ছিটা এসে তার মুখমণ্ডলে লাগে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি মহিলাটিকে কিছু অশোভন কথা বলেন। আল্লাহ্র নবী (ﷺ) একথা শুনতেই খালিদ (রা)-কে লক্ষ্য করে বলেন, “খালিদ! সেই পবিত্র সত্তার কসম যার কুদরতী হাতে আমার জীবন। সে এমন তওবা করেছে যদি এমন তওবা করত রাজস্ব আদায়কারীরা তাহলে তারা সকলেই ক্ষমা পেয়ে যেত।” এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নির্দেশে গামিদিয়া (রা)-এর জানাযা ও দাফন কাফন করা হয়।১
[১. সহীহ মুসলিম, কিতাবুল-হুদূদ।]
যদি কোন সময় পাশবিক শক্তি ও পশুপ্রবৃত্তির প্রভাবে মানুষের দ্বারা ভুলভ্রান্তি সংঘটিত হয়েছে আর এর সুযোগ তখন ঘটে যখন কোন মনুষ্য চক্ষু তা দেখতে পায় না এবং সংশ্লিষ্ট লোকটিকে আইনের ধারা-উপধারা আটকাতে অক্ষম হয়, এই ঈমানই তখন তীব্র ভংসনাকারী নফসে লাওয়ামায় পরিণত হয়, দিলের ফাঁস তার পায়ে গিয়ে তাকে চলৎশক্তিহীন করে দেয়, পেরেশানকারী ধ্যান-ধারণ বন্যার বেগে তার মস্তিষ্কের ওপর আছড়ে পড়ে। গোনাহর স্মরণ ও স্মৃতি এমন পীড়াদায়ক হয়ে ওঠে যে, তার জীবন থেকে শান্তি ও স্বস্তি উবে যায়। এমন কি লোকটি শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয় নিজেকে প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেকে পেশ করতে। সে নিজেই কৃত অপরাধের স্বীকারোক্তি করে এবং কঠিন শাস্তির জন্য নিজেকে পেশ করে। এরপর নির্ধারিত শাস্তি সে সন্তুষ্টচিত্তে। মেনে নেয় এবং হাসিমুখে শাস্তি সইতে থাকে যাতে করে সে আল্লাহর অসন্তুষ্টির হাত থেকে বাঁচতে পারে এবং আখিরাতের স্থলে দুনিয়াতেই শাস্তিটা ভোগ করে নিতে পারে।
আমাদের সামনে বিশ্বস্ত ঐতিহাসিকগণ এ সম্পর্কে এমন সব বিস্ময়কর ঘটনা। তাদের লিখিত ইসলামের ইতিহাসে পেশ করেছেন যার নজীর ইসলামের ধর্মীয় ইতিহাস ছাড়া অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না। এসব ঘটনার মধ্যেই মাইয ইন মালিক আসলামীর ঘটনা অন্যতম। ঘটনাটি ইমাম মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন। মাইয রসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে বলতে থাকেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি অপরাধ করে ফেলেছি, আমি যেনা করেছি।
আমি চাই, আপনি আমাকে পরিশুদ্ধ করে দেবেন। তিনি তাকে ফিরিয়ে দিলেন। পরদিন আবার তিনি এলেন এবং বলতে লাগলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যেনার অপরাধে অপরাধী। আমাকে পরিশুদ্ধ করে দিন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাঁকে আবারও ফিরিয়ে দিলেন। অতঃপর তাঁর পরিবারের লোকদের থেকে জানতে চাইলেন তাঁর মাথায় কোনরকম ছিট বা গোলমাল আছে কিনা। তারা উত্তরে জানায় যে, তাদের জানামতে মাইয অত্যন্ত সমঝদার মানুষ ও বিশিষ্ট ব্যক্তি। এরপর মাইয় (রা) তৃতীয়বারের মত রসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর দরবারে আগমন করেন এবং ঐ একই কথার পুনরাবৃত্তি করে বলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমা দ্বারা যেনার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। আমাকে আপনি পাক করে দিন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) পুনরায় তার মানসিক সুস্থতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে একই রূপ তথ্য পেলেন। চতুর্থবার স্বীকৃতির পর তার অর্ধেক দেহ মাটিতে পুঁতে পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে হত্যার নির্দেশ দেন।১
[১. সহীহ মুসলিম, কিতাবুল-হুদূদ।]
এর পরবর্তী ঘটনা গামিদিয়া (রা) নামক মহিলা সাহাবী)-র। তিনি নবী করীম (ﷺ) -এর খেদমতে এসে বলতে থাকেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যেনা। করে ফেলেছি। আমাকে পরিশুদ্ধ করে দিন। তিনি তাকে ফিরিয়ে দিলেন। পরদিন মহিলা আবার আসেন এবং বলতে থাকেন, আপনি আমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন কেন? সম্ভবত সেভাবে ফিরিয়ে দিচ্ছেন যেভাবে মাইকে ফিরিয়ে দিতেন। হঁ্যা, আমি গর্ভবতীও বটে। আল্লাহর রসুল তাকে বললেন, তুমি এখন ফিরে যাও। সন্তান প্রসবের পর এস। সন্তান প্রসবের পর মহিলাটি পুনরায় আসলেন। শিশু কাপড়ে জড়ানো ছিল। তিনি শিশুটাকে দেখিয়ে বলেন, “এটাই আমার বাচ্চা।” নবী করীম (ﷺ) তাঁকে বলেন, “যাও, ওকে দুধ পান করাও গিয়ে। যখন সে খাবার খাওয়া শুরু করবে তখন এস।” এরপর কোলের শিশুটি যখন দুধপান ত্যাগ করল তখন মহিলা আবার এলেন। শিশুটির হাতে তখন রুটির টুকরা। তিনি বলতে লাগলেন, “হে আল্লাহর নবী! এই নিন, বাচ্চা আমার দুধপান ছেড়ে দিয়েছে আর আমি দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেয়েছি। সে এখন খাবার খেতে পারে।” আল্লাহর নবী শিশুটাকে একজন মুসলমানের হাতে তুলে দিলেন। এবং মহিলার ওপর শাস্তি প্রয়োগের নির্দেশ দিলেন। তাঁর বুক পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে ফেলা হলো। তিনি নির্দেশ দিতেই সকলে মিলে তাকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করল। খালিদ (রা) ইবনুল-ওলীদ একটি পাথর নিক্ষেপ করলে রক্তের ছিটা এসে তার মুখমণ্ডলে লাগে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি মহিলাটিকে কিছু অশোভন কথা বলেন। আল্লাহ্র নবী (ﷺ) একথা শুনতেই খালিদ (রা)-কে লক্ষ্য করে বলেন, “খালিদ! সেই পবিত্র সত্তার কসম যার কুদরতী হাতে আমার জীবন। সে এমন তওবা করেছে যদি এমন তওবা করত রাজস্ব আদায়কারীরা তাহলে তারা সকলেই ক্ষমা পেয়ে যেত।” এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নির্দেশে গামিদিয়া (রা)-এর জানাযা ও দাফন কাফন করা হয়।১
[১. সহীহ মুসলিম, কিতাবুল-হুদূদ।]