hadith book logo

মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?

লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২০

আগুন পূজা এবং মানব জীবনে এর প্রভাব

আগুন যেহেতু না পারে তার পূজারীদেরকে পথ প্রদর্শন করতে, আর না পারে দিক-নির্দেশনা দিতে, আর তার ভেতর এই শক্তিও নেই যে, সে তার পূজারীদের জীবন সমস্যার সমাধান দেবে, এ ব্যাপারে তার ভূমিকা পালন করবে এবং অপরাধী, পাপী ও হাঙ্গামাবাজদের প্রতিরোধ করবে। ফলে অগ্নিপূজকদের ধর্ম কতিপয় প্রথা-পদ্ধতি ও আচার-অনুষ্ঠানে পর্যবসিত হলো। ওসব অনুষ্ঠান বিশেষ বিশেষ কতকগুলো সময় ও বিশেষ বিশেষ কতক জায়গায় পালন করা হতো। উপাসনাগৃহের বাইরে নিজেদের ঘরে ও বাজারে, প্রভাবাধীন গণ্ডির ভেতর এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়াদিতে তারা ছিল একেবারেই স্বাধীন ও বল্গাহীন। তাদের মন যা চাইত তাই করত। তারা তাদের খেয়াল-খুশি মত কিংবা উপযোগিতা ও সময়ের দাবি মাফিক কাজ করত। প্রতিটি যুগে ও প্রতিটি দেশে সাধারণভাবে কাফির ও মুশরিকদের অবস্থা ছিল এরকমই।

মোটকথা, ইরানের লোকেরা এমন একটি পরিপূর্ণ ও সামগ্রিক দীন থেকে বঞ্চিত ছিল যা তাদের সংস্কার-সংশোধন করতে, তাদের নৈতিক চরিত্রকে পরিশুদ্ধ ও পরিশীলিত করতে, তাদের প্রবৃত্তিজাত কামনা-বাসনাকে সংযত এবং সুকুমার বৃত্তিসমূহকে উৎসাহিত ও উজ্জীবিত করতে পারত, যে দীন খানদানের জীবন ব্যবস্থা আর রাষ্ট্রের সংবিধানরূপে শাসকদের যবরদস্তি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জুলুম ও বাড়াবাড়ির প্রতিরোধ করতে, অত্যাচারী জালিমদের নিবৃত্ত করতে এবং মজলুমের অনুকূলে ন্যায় ও ইনসাফ করতে সমর্থ হতো। কিন্তু অগ্নিপূজারী ইরানীদের ভাগ্যে এমন একটি দীন জোটেনি যা ওপরেই উক্ত হয়েছে। আর তাই ইরানের অগ্নিপূজক এবং দুনিয়ার অপরাপর ধর্মহীন ও বল্গাহীন উচ্ছংখল লোকের ভেতর নৈতিক চরিত্র ও কর্মের দিক দিয়ে কোন পার্থক্য ছিল না।