hadith book logo

মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?

লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৬১

নবতর ঈমান

কিন্তু এই মহান দায়িত্ব ও কর্ম সম্পাদনের জন্য মুসলিম বিশ্বকে আত্মপ্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে, প্রয়োজন দেখা দেবে তার নিজের মধ্যে পরিবর্তন সৃষ্টির। প্রথম প্রস্তুতি হবে এই, মুসলিম বিশ্ব ইসলামের ওপর নতুন ও জীবন্ত ঈমান আনবে। মুসলিম বিশ্বের জন্য নতুন ধর্ম, নতুন জীবন-দর্শন, নতুন পয়গম্বর, নতুন শরীয়ত ও নতুন তালীম বা শিক্ষামালার আদৌ কোন প্রয়োজন নেই। ইসলাম চিরশাশ্বত। সেতো সূর্যের মত, না কখনো পুরানো ছিল আর না সে এখনই পুরানো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নবুওত চিরস্থায়ী এবং আখেরী নবুওত। তাঁর আনীত দীন সুরক্ষিত এধং তার প্রদত্ত শিক্ষামালাও জীবিত ও জীবন্ত। কিন্তু এতে কোন সন্দেহ নেই, মুসলিম বিশ্বের জন্য নতুন ঈমানের আবশ্যক। নতুন ফেতনা, নতুন শক্তি, নতুন উৎসাহ-উদ্দীপনা ও প্রেরণা। ও নতুন আহ্বান মুকাবিলা কমোের ঈমান ও কেবল রসম-রেওয়াজ ও আচার-অভ্যাস দিয়ে করা যাবে না। কোন জরাজীর্ণ ও দশাপ্রাপ্ত প্রাসাদ নতুন সাইক্লোন, ও নতুন কোন প্লাবনের ধাক্কা সইতে পারে না। অতঃপর যারা এর আহবায়ক হবেন, হবেন দাঈ তাদের জন্য অপরিহার্য হলো, তাকে তার আহ্বান তথা দাওয়াতের ওপর অটল ও স্থির প্রত্যয় থাকতে হবে। তার ভেতর এমন একজন মানুষের জোশ থাকবে যিনি কোন নতুন আকীদা-বিশ্বাসের ওপর নতুন। ঈমান এনেছেন। এমন এক মানুষের হাসিখুশী ও আনন্দ থাকবে যিনি কোন নতুন ধনভাণ্ডারের সন্ধান পেয়েছেন কিংবা নতুন দেশ আবিষ্কার করেছেন। মুসলিম বিশ্ব যদি মনুষ্য জগতে নতর রূহ ও নতুন জীবন সৃষ্টি করতে চায় এবং দুনিয়ার বর্তমানের বস্তুবাদিতা এবং সন্দেহ-সংশয় ও অস্থিরতার ওপর জয় লাভ করতে চায় তাহলে তাকে তার ভেতর নতুন ঈমানী রূহ, জীবন্ত একীন ও নতুন উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে হবে।