১
মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?
লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১২২
বুদ্ধিজীবীদের তাড়াহুড়া ও পক্ষপাতমূলক গোঁড়ামি
এই সব প্রগতিবাদী বুদ্ধিজীবীর ভেতর এতটা ধৈর্য, ধীর-স্থির মাথায় অধ্যয়ন ও গভীর চিন্তা-ভাবনা করার শক্তি ছিল না, ছিল না আবিষ্কার-অনুসন্ধানের সামর্থ্য ও যোগ্যতা যে, তারা প্রকৃত ধর্ম ও এর প্রতিনিধিত্বের মেকী দাবিদারদের মধ্যে পার্থক্য করবে এবং অনুধাবন করতে পারবে, এসব ঘটনায় আসলে ধর্ম কতটা দায়ী ছিল আর কতটা দায়ী গির্জার পাদ্রী-পুরোহিতদের মূঢ়তা, মূর্খতা, জোর-যবরদস্তি ও ভ্রান্ত প্রতিনিধিত্ব। যদি দ্বিতীয় দল এর জন্য দায়ী হন এবং মূলত তারাই সকল অঘটনের জন্য দায়ী ছিল। তাহলে এর জন্য ধর্মকে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করানো, তাকে শাস্তি দেওয়া ও তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা কতটা সুবিবেচনাপ্রসূত? কিন্তু ক্রোধ, ধর্মের অনুসারীদের সঙ্গে শত্রুতা ও তাড়াহুড়াপ্রিয়তা এ বিষয়ে ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে দেখার অবকাশ তাদের দেয়নি যেমনটি সাধারণত বিদ্রোহ ও বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় হয়ে থাকে। তারা ধর্মের প্রতি কোনরূপ নমনীয়তা প্রদর্শন কিংবা সমঝোতা পসন্দ করেনি।
তাদের মধ্যে সত্যের প্রতি এতটুকু আগ্রহ ও আপন জাতির কল্যাণ কামনা ও উদার মনোভাব ছিল না, ছিল না এমত মন-মানসিকতা যে, তারা ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে অধ্যয়ন করবে যা ছিল তাদের সমসাময়িক বহু জাতির ধর্ম এবং যা খুবই সহজভাবে এই দ্বন্দ্ব-সংঘাত এবং ধর্ম ও বুদ্ধিবৃত্তির মধ্যকার এই অপ্রয়োজনীয় সংঘর্ষের হাত থেকে মুক্তি দিত যা যুক্তিগ্রাহ্য ও ভাল কিছুর দাবি করত, অযৌক্তিক ও অপসন্দনীয় বিষয় থেকে বাধা দিত, দুনিয়ার ক্ষতিকর নয় এমন নির্দোষ বিনোদন ও উপকারী জিনিসের ব্যাপারে তাদের অনুমতি দিত, ক্ষতিকর ও ঘৃণ্য বিষয়গুলোকে নিষিদ্ধ হিসাবে অভিহিত করত এবং অহেতুক শেকল ও পায়ের বেড়িগুলো কেটে দিত যা বিকৃত ধর্মগুলো এবং জোর-যবরদস্তকারী ধর্মানুসারী ও ক্ষমতাসীন লোকেরা শরীরে চাপিয়ে রেখেছিল।
( ٱلَّذِینَ یَتَّبِعُونَ ٱلرَّسُولَ ٱلنَّبِیَّ ٱلۡأُمِّیَّ ٱلَّذِی یَجِدُونَهُۥ مَكۡتُوبًا عِندَهُمۡ فِی ٱلتَّوۡرَىٰةِ وَٱلۡإِنجِیلِ یَأۡمُرُهُم بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَیَنۡهَىٰهُمۡ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ وَیُحِلُّ لَهُمُ ٱلطَّیِّبَـٰتِ وَیُحَرِّمُ عَلَیۡهِمُ ٱلۡخَبَـٰۤىِٕثَ وَیَضَعُ عَنۡهُمۡ إِصۡرَهُمۡ وَٱلۡأَغۡلَـٰلَ ٱلَّتِی كَانَتۡ عَلَیۡهِمۡۚ فَٱلَّذِینَ ءَامَنُوا۟ بِهِۦ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَٱتَّبَعُوا۟ ٱلنُّورَ ٱلَّذِیۤ أُنزِلَ مَعَهُۥۤ أُو۟لَـٰۤىِٕكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ )
[Surah Al-A'raf 157]
“যে তাদেরকে সৎ কাজের নির্দেশ দেয় এবং অসৎ কাজে বাধা দেয়, যে তাদের জন্য পবিত্র বস্তু হালাল করে এবং অপবিত্র বস্তু হারাম করে এবং যে মুক্ত করে তাদেরকে তাদের গুরুভার থেকে ও শৃঙ্খল থেকে যা তাদের ওপর ছিল” (সূরা আ'রাফঃ ১৫৭)।
কিন্তু ক্রুসেড যুদ্ধের ফলশ্রুতিতে সৃষ্ট অনুদার সম্প্রদায়প্রীতি, গোড়ামি এবং খ্রিস্টান পাশ্চাত্য ও মুসলিম প্রাচ্যের মাঝে সৃষ্ট সেই সব বিভেদের প্রাচীরের কারণে, সাথে সাথে গির্জাধিপতি পাদ্রী-পুরোহিতদের ইসলাম ও ইসলামের। পয়গম্বরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, অধিকন্তু অধ্যয়ন ও অনুসন্ধানের শ্রম স্বীকার না। করা এবং মৃত্যুপরবর্তী জীবন ও পারলৌকিক মুক্তি সম্পর্কে বেপরোয়া ও নিশ্চিন্ত হবার কারণে তারা ইসলামের প্রতি আদৌ কোন দৃকপাত করেনি।
এ ব্যাপারে স্বয়ং মুসলমানদের প্রয়োজনীয় তাবলীগি মানসিকতার অভাব ও অলসতাও ছিল। তারা কয়েক শত বছর য়ুরোপের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাদেশে ইসলামের প্রচার-প্রসার এবং এর অধিবাসীদেরকে ইসলামের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবার প্রতি মনোনিবেশ করেনি, অথচ ইসলামী হুকুমতের উত্থান এবং য়ুরোপের বিভিন্ন সাম্রাজ্যের সঙ্গে সমকালীন ও সমতাসূচক সম্পর্ক থাকার দরুন এর পুরো সুযোগ ছিল।
(মোটের ওপর য়ুরোপের লোকেরা এ রকম নাযুক মুহুর্তে ইসলামের নেতৃত্ব ও দিক-দর্শন থেকে বঞ্চিত থাকে)
তাদের মধ্যে সত্যের প্রতি এতটুকু আগ্রহ ও আপন জাতির কল্যাণ কামনা ও উদার মনোভাব ছিল না, ছিল না এমত মন-মানসিকতা যে, তারা ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে অধ্যয়ন করবে যা ছিল তাদের সমসাময়িক বহু জাতির ধর্ম এবং যা খুবই সহজভাবে এই দ্বন্দ্ব-সংঘাত এবং ধর্ম ও বুদ্ধিবৃত্তির মধ্যকার এই অপ্রয়োজনীয় সংঘর্ষের হাত থেকে মুক্তি দিত যা যুক্তিগ্রাহ্য ও ভাল কিছুর দাবি করত, অযৌক্তিক ও অপসন্দনীয় বিষয় থেকে বাধা দিত, দুনিয়ার ক্ষতিকর নয় এমন নির্দোষ বিনোদন ও উপকারী জিনিসের ব্যাপারে তাদের অনুমতি দিত, ক্ষতিকর ও ঘৃণ্য বিষয়গুলোকে নিষিদ্ধ হিসাবে অভিহিত করত এবং অহেতুক শেকল ও পায়ের বেড়িগুলো কেটে দিত যা বিকৃত ধর্মগুলো এবং জোর-যবরদস্তকারী ধর্মানুসারী ও ক্ষমতাসীন লোকেরা শরীরে চাপিয়ে রেখেছিল।
( ٱلَّذِینَ یَتَّبِعُونَ ٱلرَّسُولَ ٱلنَّبِیَّ ٱلۡأُمِّیَّ ٱلَّذِی یَجِدُونَهُۥ مَكۡتُوبًا عِندَهُمۡ فِی ٱلتَّوۡرَىٰةِ وَٱلۡإِنجِیلِ یَأۡمُرُهُم بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَیَنۡهَىٰهُمۡ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ وَیُحِلُّ لَهُمُ ٱلطَّیِّبَـٰتِ وَیُحَرِّمُ عَلَیۡهِمُ ٱلۡخَبَـٰۤىِٕثَ وَیَضَعُ عَنۡهُمۡ إِصۡرَهُمۡ وَٱلۡأَغۡلَـٰلَ ٱلَّتِی كَانَتۡ عَلَیۡهِمۡۚ فَٱلَّذِینَ ءَامَنُوا۟ بِهِۦ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَٱتَّبَعُوا۟ ٱلنُّورَ ٱلَّذِیۤ أُنزِلَ مَعَهُۥۤ أُو۟لَـٰۤىِٕكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ )
[Surah Al-A'raf 157]
“যে তাদেরকে সৎ কাজের নির্দেশ দেয় এবং অসৎ কাজে বাধা দেয়, যে তাদের জন্য পবিত্র বস্তু হালাল করে এবং অপবিত্র বস্তু হারাম করে এবং যে মুক্ত করে তাদেরকে তাদের গুরুভার থেকে ও শৃঙ্খল থেকে যা তাদের ওপর ছিল” (সূরা আ'রাফঃ ১৫৭)।
কিন্তু ক্রুসেড যুদ্ধের ফলশ্রুতিতে সৃষ্ট অনুদার সম্প্রদায়প্রীতি, গোড়ামি এবং খ্রিস্টান পাশ্চাত্য ও মুসলিম প্রাচ্যের মাঝে সৃষ্ট সেই সব বিভেদের প্রাচীরের কারণে, সাথে সাথে গির্জাধিপতি পাদ্রী-পুরোহিতদের ইসলাম ও ইসলামের। পয়গম্বরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, অধিকন্তু অধ্যয়ন ও অনুসন্ধানের শ্রম স্বীকার না। করা এবং মৃত্যুপরবর্তী জীবন ও পারলৌকিক মুক্তি সম্পর্কে বেপরোয়া ও নিশ্চিন্ত হবার কারণে তারা ইসলামের প্রতি আদৌ কোন দৃকপাত করেনি।
এ ব্যাপারে স্বয়ং মুসলমানদের প্রয়োজনীয় তাবলীগি মানসিকতার অভাব ও অলসতাও ছিল। তারা কয়েক শত বছর য়ুরোপের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাদেশে ইসলামের প্রচার-প্রসার এবং এর অধিবাসীদেরকে ইসলামের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবার প্রতি মনোনিবেশ করেনি, অথচ ইসলামী হুকুমতের উত্থান এবং য়ুরোপের বিভিন্ন সাম্রাজ্যের সঙ্গে সমকালীন ও সমতাসূচক সম্পর্ক থাকার দরুন এর পুরো সুযোগ ছিল।
(মোটের ওপর য়ুরোপের লোকেরা এ রকম নাযুক মুহুর্তে ইসলামের নেতৃত্ব ও দিক-দর্শন থেকে বঞ্চিত থাকে)