১
মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?
লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৩৭
জাতীয়তাবাদী সরকারের সম্মান ও মর্যাদার মাপকাঠি
জাতীয়তাবাদী সরকারের সম্মান ও মর্যাদার মাপকাঠি হলো বিরাট বিরাট আয়তনবিশিষ্ট ভূখণ্ডের ওপর তাদের ক্ষমতা ও আধিপত্য থাকবে, রাষ্ট্রের সীমা ও আয়তন বিশাল ও বিস্তৃত হবে, আয়ের উপায়-উপকরণ প্রচুর থাকবে, আপন ইচ্ছা ও মর্জি অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এবং প্রতিবেশী দেশ ও জাতি কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলোকে ভীত ও সন্ত্রস্ত করে তুলবার সম্পূর্ণ সামান তার কাছে থাকবে। রাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে জাতীয় শ্রেষ্ঠত্ব, বংশীয় প্রাধান্য, নিজেদের প্রাচীন সভ্যতা, সাহিত্য, ভাষা ও অতীত ইতিহাস নিয়ে গর্ব ও অহংকারের প্রেরণা ও আবেগ পাওয়া যায় এবং সমসাময়িক অন্য জাতিগোষ্ঠীগুলোর দুর্বলতা, সভ্যতা ও ভাষাগত অসহায়ত্বের ওপর দৃঢ় বিম্বাস থাকবে। তারা রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্যের সম্মান ও মর্যাদার খাতিরে বিরাট থেকে বিরাটতর অপরাধমূলক ও পাশবিক কাজ যেন অনায়াসে ও অবহেলায় করে ফেলতে পারে এবং নিজ জাতি ও জাতির লোকদের তুচ্ছ থেকে তুচ্ছতর ফায়দার জন্য বৃহৎ থেকে বৃহত্তর অন্যায়-অবিচার ও হক নষ্ট করতে তার মধ্যে যেন সাহসের সামান্যতম অভাবও ঘটে। এ ধরনের রাষ্ট্রের নৈতিক মানদণ্ড যত নিম্নই হোক, তার নাগরিক ও নৈতিক চেতনা মনুষ্যত্বের সম্মানের মৌল নীতিমালার পাবন্দী থেকে যত অজ্ঞ ও অপরিচিতই হোক, সেই রাষ্ট্র ও তার দায়িত্বশীলরা নৈতিক সীমা ও বাধ্যবাধকতা থেকে যত মুক্তই হোক না কেন, সেই রাষ্ট্র সম্মান ও মর্যাদার সমুন্নত মানদণ্ডের ওপর অধিষ্ঠিত এবং দুনিয়ার এক বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা লাভের যোগ্য। অধ্যাপক জোড় ঠিকই লিখেছেনঃ
“জাতীয় মর্যাদার অর্থ কেবল এই যে, জাতির কাছে এমন শক্তি থাকবে যার দ্বারা প্রয়োজনের মুহূর্তে নিজের ইচ্ছা-অভিরুচিকে অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায়। এই জাত্যাভিমান ঐসব জাতিগোষ্ঠীর কাছে আদর্শের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত। এর অযৌক্তিকতা এ দ্বারা প্রকাশিত যে, এই মাপকাঠি নৈতিক ও চারিত্রিক গুণাবলীর একেবারেই বিপরীত। যদি কোন দেশ এমন হয়, সে কেবল সত্যি কথাই বলে, প্রতিশ্রুতি পালন করে, দুর্বলদের সাথে মানবোচিত আচরণ করে তাহলে ঐ সব জাতির কাছে তার সম্মান নিম্ন পর্যায়ের। মি. বল্ডউইনের মতে সম্মান সেই শক্তির নাম যার সাহায্যে জাতি বিশেষ মর্যাদা ও আস্থার অধিকারী হয় এবং দৃষ্টিগুলোকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়। আর এটা তো জানা কথা, এমন শক্তি যার সাহায্যে জাতি এমনতরো সম্মান, গৌরব-বৈশিষ্ট্য লাভ করে তা অগ্নি উদ্গিরণকারী গোলা ও বোমার ওপর নির্ভরশীল, নির্ভরশীল সেই সব যুবকের বিশ্বস্ততা ও দেশপ্রেমের ওপর যাদের প্রিয় হবি বা নেশা শহর ও জনপদগুলোর ওপর গোলা নিক্ষেপ ও বোমা বর্ষণ। অনন্তর সেই সম্মানের জন্য কোন জাতির প্রশংসা করা হয় তা সেই সব গুণ চরিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত যার বুনিয়াদের ওপর ভিত্তি করে ব্যক্তির প্রশংসা করা হয়। আমার মতে তো সেই জাতিকে সেই পরিমাণ বন্য ও অসভ্য মনে করা দরকার, মনে করা উচিত যেই পরিমাণ সে এমনতরো সম্মানের মালিক হয়। ফেরেববাজি, দাগাবাজি, প্রতারণা ও জুলুম-নির্যাতনের সাহায্যে ইজ্জত হাসিল করা কোন মানুষ ও জাতির জন্য আদৌ সম্মানের ব্যাপার নয়।”১
[১. Guid to Mordern Wickness, p.152.3 ]
“জাতীয় মর্যাদার অর্থ কেবল এই যে, জাতির কাছে এমন শক্তি থাকবে যার দ্বারা প্রয়োজনের মুহূর্তে নিজের ইচ্ছা-অভিরুচিকে অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায়। এই জাত্যাভিমান ঐসব জাতিগোষ্ঠীর কাছে আদর্শের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত। এর অযৌক্তিকতা এ দ্বারা প্রকাশিত যে, এই মাপকাঠি নৈতিক ও চারিত্রিক গুণাবলীর একেবারেই বিপরীত। যদি কোন দেশ এমন হয়, সে কেবল সত্যি কথাই বলে, প্রতিশ্রুতি পালন করে, দুর্বলদের সাথে মানবোচিত আচরণ করে তাহলে ঐ সব জাতির কাছে তার সম্মান নিম্ন পর্যায়ের। মি. বল্ডউইনের মতে সম্মান সেই শক্তির নাম যার সাহায্যে জাতি বিশেষ মর্যাদা ও আস্থার অধিকারী হয় এবং দৃষ্টিগুলোকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়। আর এটা তো জানা কথা, এমন শক্তি যার সাহায্যে জাতি এমনতরো সম্মান, গৌরব-বৈশিষ্ট্য লাভ করে তা অগ্নি উদ্গিরণকারী গোলা ও বোমার ওপর নির্ভরশীল, নির্ভরশীল সেই সব যুবকের বিশ্বস্ততা ও দেশপ্রেমের ওপর যাদের প্রিয় হবি বা নেশা শহর ও জনপদগুলোর ওপর গোলা নিক্ষেপ ও বোমা বর্ষণ। অনন্তর সেই সম্মানের জন্য কোন জাতির প্রশংসা করা হয় তা সেই সব গুণ চরিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত যার বুনিয়াদের ওপর ভিত্তি করে ব্যক্তির প্রশংসা করা হয়। আমার মতে তো সেই জাতিকে সেই পরিমাণ বন্য ও অসভ্য মনে করা দরকার, মনে করা উচিত যেই পরিমাণ সে এমনতরো সম্মানের মালিক হয়। ফেরেববাজি, দাগাবাজি, প্রতারণা ও জুলুম-নির্যাতনের সাহায্যে ইজ্জত হাসিল করা কোন মানুষ ও জাতির জন্য আদৌ সম্মানের ব্যাপার নয়।”১
[১. Guid to Mordern Wickness, p.152.3 ]