hadith book logo

মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?

লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬৩

আমানত ও দিয়ানত (সততা ও আমানতদারী)

এই ঈমান ছিল মানুষের আমানত, সচ্চরিত্রতা ও মহত্ত্বের প্রহরীস্বরূপ। নির্জনে ও জনসমাবেশে তথা প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে যেখানে দেখার মত কেউ থাকত না, এমন জায়গা যেখানে একজন মানুষের যা খুশি করবার পূর্ণ সুযোগ থাকে, যেখানে কাউকে ভয় করার কিংবা কারোর থেকে ভয় পাবার ছিল না। এই ঈমান প্রবৃত্তির প্ররোচনা ও কামনা-বাসনার ওপর পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখত। ইসলামের বিজয়ের ইতিহাসে সততা, আমানতদারী ও ইখলাসের এমন সব ঘটনা বিদ্যমান যে, মানব ইতিহাসে এর নজীর মেলা ভার। এ কেবল সুদৃঢ় ঈমান ও আল্লাহর ধ্যান এবং সর্বত্র ও সর্বক্ষণ তাঁর অবগতির চেতনারই ফসল ছিল। ঐতিহাসিক তাবারী বর্ণনা করেন, মুসলমানরা যখন ইরানের রাজধানী মাদায়েনে পৌঁছল এবং মালে নীমত তথা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সংগ্রহ করতে লাগল তখন এক ব্যক্তি তার সংগৃহীত ধনরত্ন নিয়ে এল এবং কোষাধ্যক্ষের নিকট সোপর্দ করল। লোকেরা বলল, এমন মূল্যবান সম্পদ তো আমরা কখনো দেখি নি। আমরা যা সংগ্রহ করেছি এর তুলনায় সেগুলোর কোন মূল্যই নেই। এরপর লোকে তাকে জিজ্ঞেস করল, তুমি এর থেকে কিছু রেখে আসনি তো? লোকটি আল্লাহর কসম খেয়ে বলল, ব্যাপারটা যদি আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত না হতো তা হলে তোমরা এ সবের বিন্দুবিসর্গও জানতে পারতে না। লোকেরা বুঝতে পারল, এ কোন মামুলী লোক নন। তারা তার পরিচয় জিজ্ঞেস করল। লোকটি জানাল, আমি বলতে পারব না এজন্য যে, তোমরা আমার প্রশংসা করবে, অথচ প্রশংসা একমাত্র আল্লাহরই প্রাপ্য। তিনি এ কাজের জন্য যদি কোন ছওয়াব দিতে চান আমি কেবল তাতেই রাজী। তিনি চলে গেলে তার পরিচয় জানার জন্য তার পেছনে একজন লোক পাঠানো হয়। জানা গেল, তার নাম আমের, তিনি আবদে কায়স গোত্রের লোক।১

[১. তারীখে তাবারী, ৪র্থ খণ্ড, ১৬ পৃ. ]