১
মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?
লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৭১
অশ্বারোহণঃ সৈনিক জীবনে এর গুরুত্ব
এ এক দুঃখজনক সত্য যে, আরব জাতিগুলো তাদের বহু সৈনিকসুলভ বৈশিষ্ট্য নষ্ট করে ফেলেছে, বিশেষ করে অশ্বারোহণ তাদের জীবন থেকে একেবারে বিদায় নিয়েছে যা এক বিরাট বড় ক্ষতি এবং যুদ্ধ ক্ষেত্রে পরাজয় বরণ ও দুর্বলতার খুবই গুরতুপূর্ণ কারণ। এর ফল হয়েছে এই, ঐসব জাতিগোষ্ঠীর ফৌজী স্পিরিট যা তাদের অনন্য জাতীয় বৈশিষ্ট্য ছিল তা খতম হয়ে গেছে। শরীর দুর্বল ও শক্তিহীন হয়ে গেছে। লোকে নায-নেমতের মধ্যে জীবন যাপন করতে শুরু করেছে। ঘোড়ার স্থান দখল করেছে মোটর যান। ফলে যেই আরবীয় অশ্বের দুনিয়া জোড়া নাম তার অস্তিত্ব আজ আরব দেশগুলো থেকে মুছে যেতে বসেছে। মানুষ কুস্তি খেলা, অশ্বারোহণ, সামরিক অনুশীলন ও অন্যান্য দৈহিক ব্যয়াম ছেড়ে দিয়েছে এবং এমন সব খেলাধুলা গ্রহণ করেছে যার কোন উপকারিতা নেই। এজন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের জগতে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের জন্য জরুরী হলো, আরব তরুণ ও যুবকদের মধ্যে অশ্বারোহণ, সৈনিক জীবন, অনাড়ম্বর ও সহজ সরল জীবন, স্থৈর্য ও অটুট সংকল্প ও দুঃখ-কষ্টকে ধৈর্য ও স্থৈর্যের সঙ্গে মুকাবিলা করার যোগ্যতা সৃষ্টি করা।
আমীরুল মু'মিনীন হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা) অনারব দেশগুলোতে নিযুক্ত কর্মকর্তাদেরকে লিখেছিলেনঃ
اياكم والتنعم وزي العجم وعليكم بالشمس فانها حمام العرب وتمعددوا واخشوا شنوا واخلو لقوا واعطوا الركب اسنتها وانزوا نزوا وارموا الاغراض -
“অলস ও আরামপ্রিয় জীবন এবং অনারবীয় পোশাক-পরিচ্ছদ থেকে সব সময় দূরে থাকবে, বৌদ্রে বসা ও পথ চলার অভ্যাস বজায় রাখবে। কেননা তা আরবদের হাম্মাম। সহনশীলতা, সহজ সরল জীবন, ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা ও মোটাসোটা কাপড় পরিধানে অভ্যস্ত থেকো। লাফিয়ে অশ্বপৃষ্ঠে আরোহণ করার অভ্যাস রাখবে। নিশানাবাজিতে হতে হবে অব্যর্থ (বাগাবী)।”
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেন
ارموا بنی اسمعيل فان اباكم كان رامیا۔
“হে আরবের বন ইসমাঈল! তোমরা তীরন্দাযীর অনুশীলন কর। আর তা এজন্য যে, তোমাদের পিতৃপুরুষ হযরত ইসমাঈল তীরন্দায় ছিলেন (বুখারী)।”
অন্যত্র বলেনঃ
الا أن القوة الرمي الا أن القوه الرمی۔
“মনে রেখ, (কুরআন মজীদে যেই শক্তির প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে এবং তজ্জন্য তাকীদ দেওয়া হয়েছে। সেই শক্তি হলো তীরন্দাযী করা (মুসলিম)।”
শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের এও অপরিহার্য দায়িত্ব যে, তারা এমন প্রতিটি জিনিস ও বিষয়ের মুকাবিলা করবেন যা পৌঁরুষ ও শৌর্য-বীর্যের প্রাণ-সত্তাকে দুর্বল করে এবং দুর্বলতা ও কাপুরুষতা সৃষ্টি করে। নগ্ন সংবাদিকতা, অশ্লীল ও খোদাদ্রোহী সাহিত্যের প্রতিরোধ করবেন যা তরুণ ও যুবকদের মধ্যে কপটতা, নির্লজ্জতা, অনাচার, পাপাচার ও যৌনতা প্রচার করছে। ঐসব পেশাদার লোকদেরকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের ফৌজী ক্যাম্পে প্রবেশ করতে দেবে না যারা মুসলিম বংশধরদের হৃদয় ও চরিত্রে অনাচার ও অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায় এবং অন্যায় ও অশ্লীলতাপ্রিয়তাকে কতকগুলো তুচ্ছ পয়সার বিনিময়ে খুবসূরত ও সুসজ্জিত করে পেশ করে।
ইতিহাস সাক্ষী যে, যখন কোন জাতির মধ্যে শৌর্য-বীর্য ও মানবীয় মর্যাদাবোধের পতন ঘটেছে, নারীরা তাদের নারী ও মাতৃপ্রকৃতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ধ্বনি তুলেছে, পর্দাহীনতার পথ ধরেছে, প্রতিটি ক্ষেত্রে পুরুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামার কসরত চালিয়েছে, পারিবারিক জীবনের প্রতি ঘৃণা ও অলসতা বৃদ্ধি পেয়েছে, জন্ম নিয়ন্ত্রণের প্রতি উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে অমনি সেই জাতির সৌভাগ্য তারকা অস্তমিত হয়ে গেছে এবং ক্রমান্বয়ে সে জাতির নাম-নিশানা পৃথিবীর বুক থেকে মুছে গেছে, তাদের অস্তিত্ব শেষ হয়ে গেছে। গ্রীক, রোমক ও পারসিক জাতিগোষ্ঠীর পরিণতি এই হয়েছে। আজ য়ুরোপও সে পথেই অগ্রসর হয়েছে যা তাদেরকেও উল্লিখিত পরিণতির দিকেই টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আরব জাহানকে ভয় পাওয়া উচিত যেন তাদের অবস্থাও এমনটি না হয়।
আমীরুল মু'মিনীন হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা) অনারব দেশগুলোতে নিযুক্ত কর্মকর্তাদেরকে লিখেছিলেনঃ
اياكم والتنعم وزي العجم وعليكم بالشمس فانها حمام العرب وتمعددوا واخشوا شنوا واخلو لقوا واعطوا الركب اسنتها وانزوا نزوا وارموا الاغراض -
“অলস ও আরামপ্রিয় জীবন এবং অনারবীয় পোশাক-পরিচ্ছদ থেকে সব সময় দূরে থাকবে, বৌদ্রে বসা ও পথ চলার অভ্যাস বজায় রাখবে। কেননা তা আরবদের হাম্মাম। সহনশীলতা, সহজ সরল জীবন, ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা ও মোটাসোটা কাপড় পরিধানে অভ্যস্ত থেকো। লাফিয়ে অশ্বপৃষ্ঠে আরোহণ করার অভ্যাস রাখবে। নিশানাবাজিতে হতে হবে অব্যর্থ (বাগাবী)।”
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেন
ارموا بنی اسمعيل فان اباكم كان رامیا۔
“হে আরবের বন ইসমাঈল! তোমরা তীরন্দাযীর অনুশীলন কর। আর তা এজন্য যে, তোমাদের পিতৃপুরুষ হযরত ইসমাঈল তীরন্দায় ছিলেন (বুখারী)।”
অন্যত্র বলেনঃ
الا أن القوة الرمي الا أن القوه الرمی۔
“মনে রেখ, (কুরআন মজীদে যেই শক্তির প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে এবং তজ্জন্য তাকীদ দেওয়া হয়েছে। সেই শক্তি হলো তীরন্দাযী করা (মুসলিম)।”
শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের এও অপরিহার্য দায়িত্ব যে, তারা এমন প্রতিটি জিনিস ও বিষয়ের মুকাবিলা করবেন যা পৌঁরুষ ও শৌর্য-বীর্যের প্রাণ-সত্তাকে দুর্বল করে এবং দুর্বলতা ও কাপুরুষতা সৃষ্টি করে। নগ্ন সংবাদিকতা, অশ্লীল ও খোদাদ্রোহী সাহিত্যের প্রতিরোধ করবেন যা তরুণ ও যুবকদের মধ্যে কপটতা, নির্লজ্জতা, অনাচার, পাপাচার ও যৌনতা প্রচার করছে। ঐসব পেশাদার লোকদেরকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের ফৌজী ক্যাম্পে প্রবেশ করতে দেবে না যারা মুসলিম বংশধরদের হৃদয় ও চরিত্রে অনাচার ও অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায় এবং অন্যায় ও অশ্লীলতাপ্রিয়তাকে কতকগুলো তুচ্ছ পয়সার বিনিময়ে খুবসূরত ও সুসজ্জিত করে পেশ করে।
ইতিহাস সাক্ষী যে, যখন কোন জাতির মধ্যে শৌর্য-বীর্য ও মানবীয় মর্যাদাবোধের পতন ঘটেছে, নারীরা তাদের নারী ও মাতৃপ্রকৃতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ধ্বনি তুলেছে, পর্দাহীনতার পথ ধরেছে, প্রতিটি ক্ষেত্রে পুরুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামার কসরত চালিয়েছে, পারিবারিক জীবনের প্রতি ঘৃণা ও অলসতা বৃদ্ধি পেয়েছে, জন্ম নিয়ন্ত্রণের প্রতি উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে অমনি সেই জাতির সৌভাগ্য তারকা অস্তমিত হয়ে গেছে এবং ক্রমান্বয়ে সে জাতির নাম-নিশানা পৃথিবীর বুক থেকে মুছে গেছে, তাদের অস্তিত্ব শেষ হয়ে গেছে। গ্রীক, রোমক ও পারসিক জাতিগোষ্ঠীর পরিণতি এই হয়েছে। আজ য়ুরোপও সে পথেই অগ্রসর হয়েছে যা তাদেরকেও উল্লিখিত পরিণতির দিকেই টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আরব জাহানকে ভয় পাওয়া উচিত যেন তাদের অবস্থাও এমনটি না হয়।