hadith book logo

মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?

লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮৮

দার্শনিক জটিলতা নিয়ে মেতে থাকা

সেই পতন যুগে মুসলিম পণ্ডিত ও চিন্তানায়কগণ যেই পরিমাণ অধিবিদ্যা (Metaphysics) ও গ্রীকদের ধর্মতত্ত্বের (Theology) দিকে মনোেযোগ দেন সেই পরিমাণ প্রাকৃতিক বিজ্ঞান (Natural science) কার্যকর ফলপ্রসু জ্ঞান-বিজ্ঞানের দিকে দিকে নজর দেননি, অথচ এই গ্রীক দর্শন ও ধর্মতত্ত্ব গ্রীকদের দেবমালা বা প্রতিমাবিদ্যা (Mythology) বৈ কিছুই ছিল না যাকে তারা নিজেদের চাতুর্যরূপে দার্শনিকসুলভ শব্দসমষ্টি ও পরিভাষার আড়ালে একটি যুক্তিশাস্ত্রের পোশাকে পেশ করেছিল। তা ছিল স্রেফ কতিপয় অলীক কল্পনার সমষ্টি ও শব্দসমষ্টির এমন এক ইন্দ্রজাল যার পেছনে কোন বাস্তবতা ও মৌলিকত্ব ছিল না। আল্লাহ তা'আলা আপন অনুগ্রহ ও করুণায় মুসলমানদেরকে এই অহেতুক ও অর্থহীন। বিষয় থেকে মুক্ত করে দিয়েছিলেন এবং নবুওতের মাধ্যমে তাদেরকে আল্লাহর যাত ও সিফাত তথা তাঁর সত্তা ও গুণাবলীর সেই নিশ্চিত ও অকাট্য জ্ঞান দান করেছিলেন যার বর্তমানে সেই অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ এবং আল্লাহর যাত ও সিফাত সম্পর্কে সেই রাসায়নিক মিশ্রণ ও বিশ্লেষণের (যা ঐশী দর্শন ও বাণীর (পদ্ধতি) আদৌ প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু আফসোসের বিষয় এই যে, দার্শনিক ও কালামশাস্ত্রবিদগণ এই মহানেয়ামতের কদর না করে সেই সব আলোচনা সমালোচনার অর্থহীন কাজে, দুনিয়া ও আখিরাতে যেগুলোর কোনই লাভ নেই, শতাব্দীর পর শতাব্দী পর্যন্ত নিজেদের সর্বোত্তম যোগ্যতা ও মেধার অপচয় করেন। এই মগ্নতা তাদেরকে সেই সব জ্ঞান-বিজ্ঞান ও অভিজ্ঞতার দিকে মনোেযোগ দেবার সুযোগ দেয়নি যা তাদের জন্য বিশ্বজগতের সমূহ প্রাকৃতিক শক্তিকে বশীভূত ও অধীনস্থ করে দিত এবং এরপর সে এসব শক্তিকে ইসলামের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কল্যাণকর উপাদানের অনুগত ও সেবক বানিয়ে ইসলামের বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক একচ্ছত্র শাসনকে তামাম পৃথিবীর ওপর কায়েম করে দিতে সমর্থ হতো। ঠিক তেমনি তারা নিউ প্লেটোনিক দর্শন তথা অধিবিদ্যার আলোচনা-সমালোচনা ও ওয়াহদাতুল উজুদ মতবাদ নিয়েও প্রয়োজনাতিরিক্ত সময় ও শক্তি ব্যয় করে।