১
মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?
লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩২
নারীর মর্যাদা
জাহিলী সমাজে সাধারণভাবে মহিলাদের প্রতি নির্দয়তা ও নিষ্ঠুরতা ছিল একটি সাধারণ ও বৈধ ব্যাপার। তাদের অধিকারকে পদদলিত করা হতো। তাদের সম্পদকে পুরুষেরা নিজেদের সম্পদ মনে করত। ওয়ারিশ হিসেবে মৃতের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে তারা কোন অংশ পেত না। স্বামী মারা গেলে কিংবা তালাক দিলে পছন্দ মাফিক দ্বিতীয় বিয়েরও অধিকার ছিল না।৭ অন্যান্য অস্থাবর সম্পত্তি ও জীব-জন্তুর মতই নারীও ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টিত ও হস্তান্তরিত হতো৮
পুরুষ তো তার অধিকার কড়ায় গণ্ডায় আদায় করে নিত, কিন্তু মহিলারা তাদের অধিকার নিতে পারত না। এমন অনেক খাদ্যদ্রব্য ছিল যেগুলো কেবল। পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট ছিল, মহিলারা তা খেতে পেতো না।”৯
[৭. সূরা বাকারার ২৩২ আয়াত। ]
[৮. সূরা নিসা, ১৯, আয়াত। ]
[৯. সূরা আল-আনআম, ১৪০ আয়াত। ]
পুরুষরা যত সংখ্যক ইচ্ছে নারীকে বিয়ে করতে পারত। কন্যা সন্তানের প্রতি ঘৃণা ও অবজ্ঞা এতটা বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, তাদের জীবন্ত প্রোথিত করারও রেওয়াজ ছিল। হায়ছাম ইবনে আদী উল্লেখ করেছেন যে, জীবন্ত প্রোথিত করার প্রথা আরবের সকল গোত্রেই প্রচলিত ছিল। একজন একে কার্যকর করত আর দশজন ছেড়ে দিত। ইসলামের আবির্ভাবের পূর্ব পর্যন্ত এই প্রথা চালু ছিল।১ কেউ লোকলজ্জা ও অপমানের কারণে, কেউবা খরচ জোগাতে অসমর্থতা ও দারিদ্র্যের ভয়ে নিজেদের সন্তানদেরকে হত্যা করত। আরবের কোন কোন শরীফ ও নেতৃস্থানীয় লোক এ সময় এ ধরনের শিশুদেরকে টাকা-পয়সার বিনিময়ে কিনে নিয়ে তাদের জীবন রক্ষা করত।২ সা’সা’আ ইবনে নাজিয়া বর্ণনা করেন যে, ইসলামের আবির্ভাবের সময় পর্যন্ত আমি জীবন্ত প্রোথিত হতে যাচ্ছে, এ ধরনের তিন শ' কন্যা সন্তানের জীবন অর্থের বিনিময়ে বাঁচিয়ে ছিলাম।৩ কোন কোন সময় কোন সফর কিংবা কাজে জড়িয়ে পড়ায় সময়াভাবে কন্যা বড় হয়ে গেলে এবং প্রোথিত করার অবকাশ না পেলে গোয়ার পিতা ধোঁকা দিয়ে কোন নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে অত্যন্ত নির্দয়ভাবে তাকে জীবন্ত কবর দিত। ইসলাম গ্রহণের পর অনেকে তাদের বিগত জীবনের এ ধরনের বেদনাদায়ক ও মর্মস্পর্শী ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন।৪
[১. ময়দানী; ]
[২. দ্র. বুলুগুল আরব ফী আহওয়ালিল আরব, আল্লামা আলুসীকৃত। ]
[৩. কিতাবুল আগানী; ]
[৪. দ্র. সুনান দারমী, ১ম খণ্ড, পৃ. ]
পুরুষ তো তার অধিকার কড়ায় গণ্ডায় আদায় করে নিত, কিন্তু মহিলারা তাদের অধিকার নিতে পারত না। এমন অনেক খাদ্যদ্রব্য ছিল যেগুলো কেবল। পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট ছিল, মহিলারা তা খেতে পেতো না।”৯
[৭. সূরা বাকারার ২৩২ আয়াত। ]
[৮. সূরা নিসা, ১৯, আয়াত। ]
[৯. সূরা আল-আনআম, ১৪০ আয়াত। ]
পুরুষরা যত সংখ্যক ইচ্ছে নারীকে বিয়ে করতে পারত। কন্যা সন্তানের প্রতি ঘৃণা ও অবজ্ঞা এতটা বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, তাদের জীবন্ত প্রোথিত করারও রেওয়াজ ছিল। হায়ছাম ইবনে আদী উল্লেখ করেছেন যে, জীবন্ত প্রোথিত করার প্রথা আরবের সকল গোত্রেই প্রচলিত ছিল। একজন একে কার্যকর করত আর দশজন ছেড়ে দিত। ইসলামের আবির্ভাবের পূর্ব পর্যন্ত এই প্রথা চালু ছিল।১ কেউ লোকলজ্জা ও অপমানের কারণে, কেউবা খরচ জোগাতে অসমর্থতা ও দারিদ্র্যের ভয়ে নিজেদের সন্তানদেরকে হত্যা করত। আরবের কোন কোন শরীফ ও নেতৃস্থানীয় লোক এ সময় এ ধরনের শিশুদেরকে টাকা-পয়সার বিনিময়ে কিনে নিয়ে তাদের জীবন রক্ষা করত।২ সা’সা’আ ইবনে নাজিয়া বর্ণনা করেন যে, ইসলামের আবির্ভাবের সময় পর্যন্ত আমি জীবন্ত প্রোথিত হতে যাচ্ছে, এ ধরনের তিন শ' কন্যা সন্তানের জীবন অর্থের বিনিময়ে বাঁচিয়ে ছিলাম।৩ কোন কোন সময় কোন সফর কিংবা কাজে জড়িয়ে পড়ায় সময়াভাবে কন্যা বড় হয়ে গেলে এবং প্রোথিত করার অবকাশ না পেলে গোয়ার পিতা ধোঁকা দিয়ে কোন নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে অত্যন্ত নির্দয়ভাবে তাকে জীবন্ত কবর দিত। ইসলাম গ্রহণের পর অনেকে তাদের বিগত জীবনের এ ধরনের বেদনাদায়ক ও মর্মস্পর্শী ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন।৪
[১. ময়দানী; ]
[২. দ্র. বুলুগুল আরব ফী আহওয়ালিল আরব, আল্লামা আলুসীকৃত। ]
[৩. কিতাবুল আগানী; ]
[৪. দ্র. সুনান দারমী, ১ম খণ্ড, পৃ. ]