১
মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?
লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৩
পয়গম্বর ও রাজনৈতিক নেতার মধ্যে পার্থক্য
আরব দেশে কাজের খুবই বিস্তৃত ক্ষেত্র ছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম যদি কোন জাতীয় কিংবা দেশপ্রেমিক নেতা হতেন, এবং তার কর্মপন্থা ও কর্ম পদ্ধতি রাজনৈতিক ও দেশীয় নেতাদের মত হতো তাহলে তার সামনে সর্বোত্তম পন্থা ছিল এই যে, তিনি আরব ভূখণ্ডকে একটি দেশ বলে অভি হিত করে আরব গোত্রগুলোর একটি ঐক্যবদ্ধ প্লাটফরম প্রতিষ্ঠা করতেন এবং আরবদের সংহত ও সুদৃঢ় শক্তির সাহায্যে একটি পাকাপোক্ত ও যুদ্ধংদেহী ব্লক বানাতেন এবং একটি আরব রাষ্ট্র কিংবা প্রজাতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করতেন সহজেই যার তিনি প্রেসিডেন্ট বা রাষ্ট্রপ্রধান হতে পারতেন। এমতাবস্তায় আবু জাহল, ও প্রমুখ তার সঙ্গে পূর্ণ সহযোগতাি করত এবং তাকে আরবের নেতৃত্ব সমর্পণ করত। কেননা তারা তাঁর সততা ও আমানতদারী প্রত্যক্ষ করেছিল আর তাঁকে মক্কায় সব চাইতে জটিল মতানৈক্যের ক্ষেত্রে সালিশ মেনেছিল। কুরায়শদের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর সামনে আরবের নেতৃত্বের পদ দানের প্রস্তাব দিয়েছিল এবং বলেছিল, আপনি যদি নেতৃত্বের আকাক্ষী হয়ে থাকেন তাহলে এ ব্যাপারে আমাদের এতটুকু অমত নেই। আপনি আজীবন আমাদের নেতা থাকবেন। আর যদি এই রাজনৈতিক অবস্থানগত মর্যাদা লাভ করতেন তখন তার জন্য পারসিক কিংবা রোম সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে সেনা অভিযান পরিচালনা খুবই সহজ হয়ে যেত। তিনি আরবের অশ্বারোহীদের সাহায্যে পারস্য ও রোম সাম্রাজ্যের ওপর হামলা করতে পারতেন এবং অনারব শক্তিসমূহকে পদানত করে রোম ও পারস্যের ওপর আরবদের বিজয় ডংকা বাজাতে পারতেন। এটা কত বড় চিত্তাকর্ষক স্বপ্ন ছিল এবং আরবদের জাতিগত ও গ্রোত্রীয় অহমিকার পরিতৃপ্তির জন্য এর ভেতর কতটা খোরাক ছিল। আর এই উভয় সাম্রাজ্যের সঙ্গে একই সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়াকে যদি তিনি রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিপন্থী মনে করতেন তাহলে ইয়ামন ও আবিসিনিয়ার ওপর আক্রমণ চালিয়ে এ দুটোকে তার নবোথিত হুকুমতের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া তেমন কঠিন কিছুই ছিল না।
স্বয়ং আরবেই এত সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা বিদ্যমান ছিল যেগুলো সর্বোচ্চ রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতা, জাতীয় সংগঠন, ব্যবস্থাপনাগত যোগ্যতা ও সর্বোচ্চ ইচ্ছাশক্তির অপেক্ষা করছিল বছরের পর বছর ধরে। একজন সর্বোচ্চ মানের শক্তিশালী ইচ্ছাশক্তির অধিকারী নেতা আরবের স্থানীয় সংস্কার-সংশোধন ও সংগঠিত করত তাদেরকে দুনিয়ার এক বিরাট বড় শক্তি এবং এক মর্যাদাবান রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারতেন।
কিন্তু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এজন্য আবির্ভূত ও প্রেরিত হন নি যে, একটি বিকৃতি দূর করে তার স্থলে আরেকটি বিকৃতি আনবেন, একটি অন্যায় দূর করে আরেকটি অন্যায়ের জন্ম দেবেন, এক জিনিসকে এক জায়গায় বৈধ এবং অন্য জায়গায় সেটাকেই অবৈধ করবেন, এক জাতির স্বার্থপরতা ও স্বার্থান্ধতার বিরোধিতা করবেন এবং অন্য জাতির স্বার্থপরতা ও স্বার্থান্ধতাকে উৎসাহিত করবেন। তিনি দেশপূজারী লিডার ও একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আগমন করেন নি যে, একটি জাতিকে নিশ্চিহ্ন ও উজাড় করে দিতে অপর জাতিগোষ্ঠীকে আবাদ করবেন। অন্য জাতিগোষ্ঠীর সম্পদ ও স্বর্ণ-রৌপ্য দিয়ে আপন জাতি ও আপন সম্প্রদায়ের ভাণ্ডার পূর্ণ করবেন এবং মানুষকে রোম ও পারস্যের গোলামী থেকে মুক্ত করে আদনান বংশের ও কাহতান সন্তানদের গোলামীর জিঞ্জিরে আবদ্ধ করবেন।
তাঁর আবির্ভাবের উদ্দেশ্যই ছিল দুনিয়া ও দুনিয়াবাসীকে জান্নাতের সুখবর শোনানো এবং পরকালীন শাস্তির ভীতি প্রদর্শন। তিনি দাঈ ইলাল্লাহ তথা আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী, সিরাজাম মুনীরা তথা প্রদীপ্ত প্রদীপ হয়ে এসেছিলেন গোটা পৃথিবীকে আলোকোজ্জ্বল করে তুলতে। তাঁকে পাঠানো হয়েছিল দুনিয়াকে মানুষের গোলামী থেকে মুক্ত করে কেবল আল্লাহ্র গোলামীতে ন্যস্ত করতে, মানুষকে বস্তুগত জীবনের কাল কুঠরী থেকে বের করে দুনিয়া ও আখিরাতের বিস্তৃত ও প্রশস্ত অঙ্গনে টেনে নিতে, নানাবিধ ধর্ম ও মতাদর্শের বাড়াবাড়ি ও বে-ইনসাফী থেকে মুক্তি দিয়ে ইসলামের ন্যায় ও সুবিচারের দ্বারা ধন্য ও তৃপ্ত হবার সুযোগ দিতে। তাঁর কাজ ছিল সৎ কাজে উৎসাহ দান, অসৎ কাজ থেকে নিবৃত্তকরণ, পাক-পবিত্র জিনিসকে হালাল এবং নাপাক ও নোংরা জিনিসকে হারাম প্রতিপন্ন করা এবং সেই সব শেকল ও বেড়ি থেকে মুক্তকরণ যা মানুষ তার অজ্ঞতার দরুন কিংবা মযহাব ও হুকুমত জোর-যবরদস্তির করে মানুষের পায়ে পরিয়ে দিয়েছিল।
এজন্যই তাঁর সম্বোধন কেবল একটি জাতিগোষ্ঠী কিংবা কোন একটি দেশের অধিবাসীর উদ্দেশে ছিল না। তাঁর সম্বোধন ছিল তাবৎ মানব জাতির উদ্দেশে, গোটা মানব জাতির বিবেকের প্রতি। আরব জাতি সীমাতিরিক্ত পশ্চাৎপদতা, এবং রাজনৈতিক ও চারিত্রিক অধঃপতনের দরুন অবশ্যই এর হকদার ছিল যে, তার অভিযান সেখান থেকেই শুরু করা হবে এবং নবুওতী কাজের সূচনাও সেই জাতির ভেতর হবে। উম্মুল কুরা (বিশ্ব কেন্দ্র, মক্কা মুআজ্জমা) ও আরব উপদ্বীপ তার ভৌগোলিক অবস্থান ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার কারণে তাঁর চেষ্টা ও সাধনার জন্য সর্বোত্তম কেন্দ্রও ছিল এবং আরব জাতি তাদের মনস্তাত্ত্বিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের দরুন তাঁর পয়গামের সর্বোত্তম বাহক এবং তাঁর দাওয়াতের বোঝা বহনের সর্বাধিক যোগ্যতাসম্পন্ন দূত হতে পারত।
তিনি সেসব সংস্কারকের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না যারা আপন জাতি অথবা যুগের কতকগুলো সামাজিক দুর্বলতা কিংবা চারিত্রিক নষ্টামি দূর করতে সচেষ্ট হন এবং সাময়িকভাবে সেসব রোগ-ব্যাধির অপনোদনে সফলতা লাভ করেন কিংবা ব্যর্থ হয়ে জগৎ সংসার থেকে বিদায় নেন।১
[১. গান্ধীজি তার রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক জীবনের সূচনা থেকে দুটো শক্তিশালী মুলনীতি তার জীবনের লক্ষ্য হিসেবে স্থির করেছিলেন এবং এ দু'টো মূলনীতির ওপর তার সেই সব শক্তি, মেধাগত ও জ্ঞানগত যোগ্যতা ও সামর্থ্য এবং সর্বপ্রকার উপকরণ ব্যয় করেন যা এ যুগে খুব কম সংখ্যক লোেকই করে। প্রথম মুলনীতি ছিল অহিংস নীতি যেদিকে তিনি একটি স্থায়ী ধর্ম ও দর্শন হিসেবে আহ্বান জানান এবং নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। কিন্তু যেহেতু এই পন্থা মানসিক পরিবর্তন ও ধর্মের মৌলিক দাওয়াতের পন্থা থেকে পৃথক ছিল, তাই তাঁর আহ্বান সেই গভীর পরিবর্তন ও প্রভাব সৃষ্টি করেনি যা আম্বিয়া আলায়হিস সালাম তাদের সম্প্রদায় ও জাতিগোষ্ঠীর ভেতর সৃষ্টি করে যান। তিনি স্বয়ং তাঁর স্বচক্ষেই ভারতবর্ষের বুকে সেই ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রত্যক্ষ করেন যেই দাঙ্গায় তার অহিংস নীতি অত্যন্ত নির্দয়ভাবে পদদলিত করা হয় এবং বর্বরতা ও পশু শক্তির নিকৃষ্ট প্রকাশ ঘটে। এই ঘটনা গান্ধীজির জন্য কঠিন হৃদয় বিদারক ও অসহনীয় হয়ে দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত স্বয়ং তাঁকেই হিংসার শিকার হতে হয় যার বিরুদ্ধে তিনি সারাটা জীবন লড়ে ছিলেন। দ্বিতীয় মূলনীতি অস্পৃশ্যতা বা ঘূত্মার্গের পরিত্যাগ ! তার ঐ অভিযান তেমন সফল হয় নি। এসব প্রমাণ দেয় যে, আম্বিয়ায়ে কিরাম (আ)-এর রাস্তাই ছিল সঠিক ও ফলপ্রসূ এবং সেটাই সফল রাস্তা। ]
স্বয়ং আরবেই এত সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা বিদ্যমান ছিল যেগুলো সর্বোচ্চ রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতা, জাতীয় সংগঠন, ব্যবস্থাপনাগত যোগ্যতা ও সর্বোচ্চ ইচ্ছাশক্তির অপেক্ষা করছিল বছরের পর বছর ধরে। একজন সর্বোচ্চ মানের শক্তিশালী ইচ্ছাশক্তির অধিকারী নেতা আরবের স্থানীয় সংস্কার-সংশোধন ও সংগঠিত করত তাদেরকে দুনিয়ার এক বিরাট বড় শক্তি এবং এক মর্যাদাবান রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারতেন।
কিন্তু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এজন্য আবির্ভূত ও প্রেরিত হন নি যে, একটি বিকৃতি দূর করে তার স্থলে আরেকটি বিকৃতি আনবেন, একটি অন্যায় দূর করে আরেকটি অন্যায়ের জন্ম দেবেন, এক জিনিসকে এক জায়গায় বৈধ এবং অন্য জায়গায় সেটাকেই অবৈধ করবেন, এক জাতির স্বার্থপরতা ও স্বার্থান্ধতার বিরোধিতা করবেন এবং অন্য জাতির স্বার্থপরতা ও স্বার্থান্ধতাকে উৎসাহিত করবেন। তিনি দেশপূজারী লিডার ও একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আগমন করেন নি যে, একটি জাতিকে নিশ্চিহ্ন ও উজাড় করে দিতে অপর জাতিগোষ্ঠীকে আবাদ করবেন। অন্য জাতিগোষ্ঠীর সম্পদ ও স্বর্ণ-রৌপ্য দিয়ে আপন জাতি ও আপন সম্প্রদায়ের ভাণ্ডার পূর্ণ করবেন এবং মানুষকে রোম ও পারস্যের গোলামী থেকে মুক্ত করে আদনান বংশের ও কাহতান সন্তানদের গোলামীর জিঞ্জিরে আবদ্ধ করবেন।
তাঁর আবির্ভাবের উদ্দেশ্যই ছিল দুনিয়া ও দুনিয়াবাসীকে জান্নাতের সুখবর শোনানো এবং পরকালীন শাস্তির ভীতি প্রদর্শন। তিনি দাঈ ইলাল্লাহ তথা আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী, সিরাজাম মুনীরা তথা প্রদীপ্ত প্রদীপ হয়ে এসেছিলেন গোটা পৃথিবীকে আলোকোজ্জ্বল করে তুলতে। তাঁকে পাঠানো হয়েছিল দুনিয়াকে মানুষের গোলামী থেকে মুক্ত করে কেবল আল্লাহ্র গোলামীতে ন্যস্ত করতে, মানুষকে বস্তুগত জীবনের কাল কুঠরী থেকে বের করে দুনিয়া ও আখিরাতের বিস্তৃত ও প্রশস্ত অঙ্গনে টেনে নিতে, নানাবিধ ধর্ম ও মতাদর্শের বাড়াবাড়ি ও বে-ইনসাফী থেকে মুক্তি দিয়ে ইসলামের ন্যায় ও সুবিচারের দ্বারা ধন্য ও তৃপ্ত হবার সুযোগ দিতে। তাঁর কাজ ছিল সৎ কাজে উৎসাহ দান, অসৎ কাজ থেকে নিবৃত্তকরণ, পাক-পবিত্র জিনিসকে হালাল এবং নাপাক ও নোংরা জিনিসকে হারাম প্রতিপন্ন করা এবং সেই সব শেকল ও বেড়ি থেকে মুক্তকরণ যা মানুষ তার অজ্ঞতার দরুন কিংবা মযহাব ও হুকুমত জোর-যবরদস্তির করে মানুষের পায়ে পরিয়ে দিয়েছিল।
এজন্যই তাঁর সম্বোধন কেবল একটি জাতিগোষ্ঠী কিংবা কোন একটি দেশের অধিবাসীর উদ্দেশে ছিল না। তাঁর সম্বোধন ছিল তাবৎ মানব জাতির উদ্দেশে, গোটা মানব জাতির বিবেকের প্রতি। আরব জাতি সীমাতিরিক্ত পশ্চাৎপদতা, এবং রাজনৈতিক ও চারিত্রিক অধঃপতনের দরুন অবশ্যই এর হকদার ছিল যে, তার অভিযান সেখান থেকেই শুরু করা হবে এবং নবুওতী কাজের সূচনাও সেই জাতির ভেতর হবে। উম্মুল কুরা (বিশ্ব কেন্দ্র, মক্কা মুআজ্জমা) ও আরব উপদ্বীপ তার ভৌগোলিক অবস্থান ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার কারণে তাঁর চেষ্টা ও সাধনার জন্য সর্বোত্তম কেন্দ্রও ছিল এবং আরব জাতি তাদের মনস্তাত্ত্বিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের দরুন তাঁর পয়গামের সর্বোত্তম বাহক এবং তাঁর দাওয়াতের বোঝা বহনের সর্বাধিক যোগ্যতাসম্পন্ন দূত হতে পারত।
তিনি সেসব সংস্কারকের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না যারা আপন জাতি অথবা যুগের কতকগুলো সামাজিক দুর্বলতা কিংবা চারিত্রিক নষ্টামি দূর করতে সচেষ্ট হন এবং সাময়িকভাবে সেসব রোগ-ব্যাধির অপনোদনে সফলতা লাভ করেন কিংবা ব্যর্থ হয়ে জগৎ সংসার থেকে বিদায় নেন।১
[১. গান্ধীজি তার রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক জীবনের সূচনা থেকে দুটো শক্তিশালী মুলনীতি তার জীবনের লক্ষ্য হিসেবে স্থির করেছিলেন এবং এ দু'টো মূলনীতির ওপর তার সেই সব শক্তি, মেধাগত ও জ্ঞানগত যোগ্যতা ও সামর্থ্য এবং সর্বপ্রকার উপকরণ ব্যয় করেন যা এ যুগে খুব কম সংখ্যক লোেকই করে। প্রথম মুলনীতি ছিল অহিংস নীতি যেদিকে তিনি একটি স্থায়ী ধর্ম ও দর্শন হিসেবে আহ্বান জানান এবং নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। কিন্তু যেহেতু এই পন্থা মানসিক পরিবর্তন ও ধর্মের মৌলিক দাওয়াতের পন্থা থেকে পৃথক ছিল, তাই তাঁর আহ্বান সেই গভীর পরিবর্তন ও প্রভাব সৃষ্টি করেনি যা আম্বিয়া আলায়হিস সালাম তাদের সম্প্রদায় ও জাতিগোষ্ঠীর ভেতর সৃষ্টি করে যান। তিনি স্বয়ং তাঁর স্বচক্ষেই ভারতবর্ষের বুকে সেই ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রত্যক্ষ করেন যেই দাঙ্গায় তার অহিংস নীতি অত্যন্ত নির্দয়ভাবে পদদলিত করা হয় এবং বর্বরতা ও পশু শক্তির নিকৃষ্ট প্রকাশ ঘটে। এই ঘটনা গান্ধীজির জন্য কঠিন হৃদয় বিদারক ও অসহনীয় হয়ে দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত স্বয়ং তাঁকেই হিংসার শিকার হতে হয় যার বিরুদ্ধে তিনি সারাটা জীবন লড়ে ছিলেন। দ্বিতীয় মূলনীতি অস্পৃশ্যতা বা ঘূত্মার্গের পরিত্যাগ ! তার ঐ অভিযান তেমন সফল হয় নি। এসব প্রমাণ দেয় যে, আম্বিয়ায়ে কিরাম (আ)-এর রাস্তাই ছিল সঠিক ও ফলপ্রসূ এবং সেটাই সফল রাস্তা। ]