hadith book logo

মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?

লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৭৩

ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে স্বায়ত্তশাসন

মুসলিম বিশ্বের মতই আরব জাহানের জন্যও জরুরী হলো, আরব দেশগুলো তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি, শিল্প, কৃষি ও শিক্ষার ক্ষেত্রে পরিপূর্ণরূপে স্বাধীন স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল হবে। সেখানকার বসবাসকারীরা সেই সব জিনিসই ব্যবহার করবে যা তাদের মাটিতে উৎপন্ন হয় এবং যেগুলো তাদের শিল্প ও শ্রমের ফসল। জীবনের প্রতিটি শাখা ও বিভাগে তারা পাশ্চাত্য থেকে। মুক্ত ও স্বাধীন হবে। নিজেদের সব রকমের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি, শিল্পজাত সামগ্রী, খাদ্য-বস্ত্র, অস্ত্রশস্ত্র, মেশিনারিজ, সামরিক যন্ত্রপাতি কোন জিনিসের জন্যই তারা যেন অন্যের কাছে হাত না পাতে এবং কোনভাবেই তাদের করুণাভিখারী ও অনুগ্রহভাজী না হয়।

এই মুহূর্তে অবস্থা হলো, আরব জাহান যদি কতকগুলো অনিবার্য অবস্থানের দরুন পাশ্চাত্যের সঙ্গে যুদ্ধে নামতেই চায় তাহলে তারা এজন্যই যুদ্ধ করতে পারবে না, তারা তাদের কাছে ঋণী ও তাদের সাহায্যের মুখাপেক্ষী। যেই কলমটি দিয়ে তারা চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করে সেই কলমটিও কোন পাশ্চাত্য দেশেরই তৈরী। যদি তারা মুকাবিলা করতেই চায় তবে যুদ্ধক্ষেত্রে সেই গুলিটাই ব্যবহার করবে যা পশ্চিমা দেশগুলোরই কোন না কোন কারখানাতে উৎপাদিত। আরব বিশ্বের নিমিত্ত এ এক বিরাট বড় ট্রাজেডী যে, তারা তাদের সম্পদের বিপুল ভাণ্ডার ও শক্তির উৎস থেকে ফায়দা লাভ করতে পারে না। জীবনের রক্ত তাদের উপকৃত করার পরিবর্তে তাদেরই শিরা-উপশিরা হয়ে অন্যের শরীরে গিয়ে পৌঁছে। তাদের সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ জোটে পাশ্চাত্যের এজেন্ট ও তাদেরই সামরিক অফিসারদের হাতে এবং সরকারের অপরাপর শাখা ও বিভাগও তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন। আরব জাহানের জন্য জরুরী হলো, তারা তাদের প্রয়োজনের ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ, স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতিক সংগঠন, আমদানী-রফতানী, জাতীয় শিল্প, সামরিক প্রশিক্ষণ, যন্ত্রপাতি, সমরাস্ত্র তৈরির ব্যাপার সম্পূর্ণ নিজেদের হাতে থাকবে। এমন সব লোকের প্রশিক্ষণ দিতে হবে যারা হুকুমতের দায়িত্ব সামলাতে পারে এবং যারা সরকারী দায়িত্ব পরিপূর্ণ জ্ঞান, বিষয়গত নৈপুণ্য, সততা, আমানতদারী ও কল্যাণ কামনার সঙ্গে সম্পাদন করবেন।