১
মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?
লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪২
ইরানের কৃষককুল
নিত্য নতুন করভারে জনগণের কোমর ভেঙে গিয়েছিল। বহু কৃষকই কৃষিকাজ ও ক্ষেত-খামার ছেড়ে দিয়েছিল। এসব করের হাত থেকে পরিত্রাণ লাভ এবং বাধ্যতামূলক সামরিক বাহিনীতে যোগদানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাবার আশায়, যার প্রতি তাদের আদৌ কোন আগ্রহ ছিল না, তারা খানকাহ ও উপাসনালয়ে গিয়ে আশ্রয় নিত। কেননা যেই লক্ষ্যে ও উদ্দেশে যুদ্ধ সংঘটিত হতো সেসব লক্ষ্য ও উদ্দেশের ব্যাপারে তাদের আদৌ আকর্ষণ ছিল না। ফলে বেকারত্ব ও অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পায় এবং অবৈধ পন্থায় টাকা-পয়সা উপার্জনের ব্যাধি সর্বত্র বিস্তার লাভ করে। সাসানী আমলে ইরান’ নামক গ্রন্থের লেখক রাষ্ট্রের খাদ্য উৎপাদন ও আমদানী রাজস্বের প্রধান মাধ্যম ইরানের কৃষককুল সম্পর্কে লেখেনঃ
“কৃষকদের অবস্থা ছিল খুবই করুণ। তাদের ভাগ্য ছিল তাদের জমির সঙ্গে বাঁধা। বেগার শ্রমসহ সর্বপ্রকার শ্রমের কাজই তাদের থেকে গ্রহণ করা হতো। ঐতিহাসিক আম্মিয়ান মার্সেলিনিউস বলেন, ‘বিশাল সৈন্যবাহিনীর পেছনে ঐসব হতভাগ্য কৃষককে পদব্রজে চলতে হতো। চিরস্থায়ী গোলামিই ছিল যেন ঐসব কৃষকের বিধিলিপি। এজন্য তাদের কোন প্রকার বেতন কিংবা পারিশ্রমিক দিয়ে উৎসাহিত করা হতো না।১ জমিদারদের সাথে কৃষকদের সম্পর্ক ছিল অনেকটা সেইরূপই যেরূপ সম্পর্ক থাকে মনিবের সঙ্গে ক্রীতদাসের।”২
[১. সাসানী আমলে ইরান, ৪২৪ পৃঃ। ]
[২. প্রাগুক্ত। ]
“কৃষকদের অবস্থা ছিল খুবই করুণ। তাদের ভাগ্য ছিল তাদের জমির সঙ্গে বাঁধা। বেগার শ্রমসহ সর্বপ্রকার শ্রমের কাজই তাদের থেকে গ্রহণ করা হতো। ঐতিহাসিক আম্মিয়ান মার্সেলিনিউস বলেন, ‘বিশাল সৈন্যবাহিনীর পেছনে ঐসব হতভাগ্য কৃষককে পদব্রজে চলতে হতো। চিরস্থায়ী গোলামিই ছিল যেন ঐসব কৃষকের বিধিলিপি। এজন্য তাদের কোন প্রকার বেতন কিংবা পারিশ্রমিক দিয়ে উৎসাহিত করা হতো না।১ জমিদারদের সাথে কৃষকদের সম্পর্ক ছিল অনেকটা সেইরূপই যেরূপ সম্পর্ক থাকে মনিবের সঙ্গে ক্রীতদাসের।”২
[১. সাসানী আমলে ইরান, ৪২৪ পৃঃ। ]
[২. প্রাগুক্ত। ]