hadith book logo

মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?

লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২৭

পাশ্চাত্যের মেযাজ একজন প্রাচ্যবাসীর দৃষ্টিতে

প্রকৃতিগত, ঐতিহাসিক ও তাত্ত্বিক দিক দিয়ে এই বস্তুবাদিতা ইতিহাসের প্রাচীনতম কাল থেকেই পাশ্চাত্য সভ্যতা ও পশ্চিমা জীবন-যিন্দেগীর প্রাণসত্তা ও মেজে পরিণত হয়ে গিয়েছে। প্রাচ্যের অন্যতম বিচক্ষণ আলিম ও দার্শনিক বিখ্যাত পর্যটক আবদুর রহমান কাওয়াকিবী (মৃত, ১৩২০হি.) এই শতাব্দীর প্রথম দিকে তাঁর “তাবায়ে-উল-ইস্তিবাদ” (আরবি) নামক গ্রন্থে এই সত্য ও বাস্তবতা তুলে ধরেছেন এভাবেঃ

“পাশ্চাত্যের লোকেরা কতিগতভাবেই বস্তুবাদী তথা বস্তুপূজারী, স্বভাবগতভাবে কঠিন হৃদয় ও লেনদেনের ব্যাপারে কঠোর হয়ে থাকে। তারা স্বভাবত স্বার্থপর, বিদ্বেষপরায়ণ ও প্রতিশোধপরায়ণ। মনে হয়, উন্নত নীতি নৈতিকতা ও মহৎ প্রেরণার ভেতর থেকে এখন আর তাদের কাছে কিছুই অবশিষ্ট নেই যা প্রাচ্যের খ্রিস্ট ধর্ম তাদেরকে দিয়েছিল। একজন জার্মানের কথাই ধরুনঃ মেযাজগতভাবে শুষ্ক ও প্রকৃতিগতভাবে রূঢ় ও কর্কশ। তার মতে একজন দুর্বল মানুষের বেঁচে থাকার কোনই অধিকার নেই। তার কাছে শক্তি, হঁ্যা, কেবল শক্তিই শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রাধান্য লাভের একমাত্র হাতিয়ার। আর শক্তির উৎস হলো অর্থ-বিত্ত। তারা জ্ঞান-বিজ্ঞানকে অবশ্যই মর্যাদা দেয়, কিন্তু তা দেয় বিত্তের খাতিরে। তারা সম্মান লাভে আগ্রহী, কিন্তু তাও অর্থ-বিত্তের স্বার্থে। গ্রীক ও ইটালিয়ানরা প্রকৃতিগতভাবে স্বার্থপর ও স্বাধীন মত প্রকাশকারী। তাদের মতে প্রজ্ঞা বা বুদ্ধিবৃত্তি স্বাধীনতা ও বল্গাহীনতার অপর নাম। আর জীবন বলা হয় বেহায়াপনাকে, সৌন্দর্য ও পোশাক-পরিচ্ছদের অপর নাম সম্মান এবং অপরের ওপর প্রাধান্য ও বিজয় লাভ করাই হলো ইজ্জত লাভ।”

পশ্চিমা স্বভাব ও মন-মানসিকতার এটাই হলো সহীহ-শুদ্ধ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ। মরহুম কাওয়াকিবী এই দুটো জাতিগোষ্ঠীকে কেবল নমুনা হিসেবে বাছাই করেছেন। অন্যথায় আংশিক ও জাতীয় বৈশিষ্ট্যসমূহ ছাড়াও বস্তুপূজা, সীমাহীন সম্পদ প্রীতি, স্বার্থপরতা ও লেনদেনের ক্ষেত্রে কঠোরতার ব্যাপারে পশ্চিমের সমগ্র জাতিগোষ্ঠীই মূলত এক ও অভিন্ন।