১
মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?
লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৮
মদীনাতুর রসূলে
কুরায়শরা যখন সীমা অতিক্রম করল তখন আল্লাহ তাঁর রসূল ও তার সাহাবাদেরকে হিজরত তথা দেশত্যাগের অনুমতি দিলেন। তাঁরা ইয়াছরি হিজরত করলেন যেখানে ইসলাম ইতিপূর্বেই পৌঁছে গিয়েছিল।
মক্কা থেকে আগত মুহাজিররা ইয়াছরিবের লোকদের (আনসার) সঙ্গে একেবারে মিশে গিয়েছিলেন, অথচ এদের মধ্যে কেবল এই নতুন ধর্ম ছাড়া অন্য কোন যোগসূত্র ছিল না। ইতিহাসে ধর্মের শক্তি ও প্রভাবের এটিই একক ও অসাধারণ দৃষ্টান্ত। ইয়াছরিবের আওস ও খাযরাজ গোত্র বুআছ যুদ্ধের স্মৃতি তখনও ভোলেনি এবং তাদের খুনপিয়াসী তলোয়ারের রক্ত তখনো শুকোয় নি। এমতাবস্থায় ইসলাম এসে তাদের উভয়ের মধ্যে প্রেম ও ভালবাসা সৃষ্টি করল। এই সন্ধি-সমঝোতার জন্য যদি কোন লোক দুনিয়ার তাবৎ সম্পদও ব্যয় করত তবুও তার পক্ষে তা সম্ভব ছিল না। নবী করীম (ﷺ) আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যে ভ্রাতৃ-সম্পর্ক স্থাপন করলেন। এই ভ্রাতৃ-সম্পর্ক এমনই মজবুত সম্পর্কের রূপ নেয় যার সামনে রক্তের সম্পর্কও নিষ্প্রভ এবং দুনিয়ার তাবৎ বন্ধুতুই তাৎপর্যহীন হয়ে যায়। ইতিহাসে এ ধরনের নিঃস্বার্থ প্রীতি ও ভালবাসার দ্বিতীয় নজীর খুঁজে পাওয়া যায় না।
মক্কার মুহাজির ও মদীনার আনসারসম্বলিত এই নবোখিত জামাতটি ছিল এক বিশাল ইসলামী উম্মাহর বুনিয়াদ। এই জামাতের আবির্ভাব এমন এক কঠিন সংকট সন্ধিক্ষণে হয় যখন দুনিয়া জীবন-মৃত্যুর মাঝে দোল খাচ্ছিল। এই জামাত এসে তার জীবন-যিন্দেগীর পাল্লাটা ঝুঁকিয়ে দিল এবং সেই সব সমূহ বিপদ দূর করে দিল যা তার সামনে ছিল। এই জামাতের আবির্ভাব পুনরায় মানব জাতির দৃঢ় অস্তিত্বের স্বার্থে অপরিহার্য ছিল। এজন্যই আল্লাহ্ তা'আলা যখন আনসার ও মুহাজিরদের ভ্রাতৃত্ব ও প্রীতির ওপর জোর দিলেন তখন বলেছিলেন,
( وَٱلَّذِینَ كَفَرُوا۟ بَعۡضُهُمۡ أَوۡلِیَاۤءُ بَعۡضٍۚ إِلَّا تَفۡعَلُوهُ تَكُن فِتۡنَة ࣱ فِی ٱلۡأَرۡضِ وَفَسَاد ࣱ كَبِیر ࣱ)
[Surah Al-Anfal 73]
“যদি তা না কর তাহলে ধরাপৃষ্ঠে বিরাট ফেতনা-ফাসাদ ও বিপর্যয় দেখা দেবে।” (৮:৭৩)
মক্কা থেকে আগত মুহাজিররা ইয়াছরিবের লোকদের (আনসার) সঙ্গে একেবারে মিশে গিয়েছিলেন, অথচ এদের মধ্যে কেবল এই নতুন ধর্ম ছাড়া অন্য কোন যোগসূত্র ছিল না। ইতিহাসে ধর্মের শক্তি ও প্রভাবের এটিই একক ও অসাধারণ দৃষ্টান্ত। ইয়াছরিবের আওস ও খাযরাজ গোত্র বুআছ যুদ্ধের স্মৃতি তখনও ভোলেনি এবং তাদের খুনপিয়াসী তলোয়ারের রক্ত তখনো শুকোয় নি। এমতাবস্থায় ইসলাম এসে তাদের উভয়ের মধ্যে প্রেম ও ভালবাসা সৃষ্টি করল। এই সন্ধি-সমঝোতার জন্য যদি কোন লোক দুনিয়ার তাবৎ সম্পদও ব্যয় করত তবুও তার পক্ষে তা সম্ভব ছিল না। নবী করীম (ﷺ) আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যে ভ্রাতৃ-সম্পর্ক স্থাপন করলেন। এই ভ্রাতৃ-সম্পর্ক এমনই মজবুত সম্পর্কের রূপ নেয় যার সামনে রক্তের সম্পর্কও নিষ্প্রভ এবং দুনিয়ার তাবৎ বন্ধুতুই তাৎপর্যহীন হয়ে যায়। ইতিহাসে এ ধরনের নিঃস্বার্থ প্রীতি ও ভালবাসার দ্বিতীয় নজীর খুঁজে পাওয়া যায় না।
মক্কার মুহাজির ও মদীনার আনসারসম্বলিত এই নবোখিত জামাতটি ছিল এক বিশাল ইসলামী উম্মাহর বুনিয়াদ। এই জামাতের আবির্ভাব এমন এক কঠিন সংকট সন্ধিক্ষণে হয় যখন দুনিয়া জীবন-মৃত্যুর মাঝে দোল খাচ্ছিল। এই জামাত এসে তার জীবন-যিন্দেগীর পাল্লাটা ঝুঁকিয়ে দিল এবং সেই সব সমূহ বিপদ দূর করে দিল যা তার সামনে ছিল। এই জামাতের আবির্ভাব পুনরায় মানব জাতির দৃঢ় অস্তিত্বের স্বার্থে অপরিহার্য ছিল। এজন্যই আল্লাহ্ তা'আলা যখন আনসার ও মুহাজিরদের ভ্রাতৃত্ব ও প্রীতির ওপর জোর দিলেন তখন বলেছিলেন,
( وَٱلَّذِینَ كَفَرُوا۟ بَعۡضُهُمۡ أَوۡلِیَاۤءُ بَعۡضٍۚ إِلَّا تَفۡعَلُوهُ تَكُن فِتۡنَة ࣱ فِی ٱلۡأَرۡضِ وَفَسَاد ࣱ كَبِیر ࣱ)
[Surah Al-Anfal 73]
“যদি তা না কর তাহলে ধরাপৃষ্ঠে বিরাট ফেতনা-ফাসাদ ও বিপর্যয় দেখা দেবে।” (৮:৭৩)