hadith book logo

মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?

লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৬৫

শিল্প-প্রযুক্তিগত ও সামরিক প্রস্তুতি

মুসলিম বিশ্বের কাজ এখানেই শেষ হচ্ছে না। যদি তার ইসলামের পয়গাম প্রচারের আকাক্ষা থাকে এবং সে যদি দুনিয়ার নেতৃত্ব ও পথ প্রদর্শনের অপরিহার্য দায়িত্ব পালন করতে চায় তাহলে তাকে বিশিষ্ট শক্তি ও প্রশিক্ষণ, জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-প্রযুক্তি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সমরশাস্ত্রে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিতে হবে। তাকে জীবনের প্রতিটি শাখায়, প্রতিটি বিভাগে ও নিজের প্রতিটি প্রয়োজনে পাশ্চাত্যের হাত থেকে মুক্ত ও আত্মনির্ভরশীল হতে হবে এবং তা এই পর্যায়ের হতে হবে, নিজের পরিধানের বস্ত্র ও জীবন ধারণের খাদ্যে সে যেন স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়। নিজেদের প্রয়োজনীয় অস্ত্র যেন সে নিজেই তৈরি করতে পারে। নিজেদের জীবনের যাবতীয় ব্যাপারের এন্তেজাম সে যেন নিজেই করতে পারে এবং তা যেন নিজেদের হাতেই থাকে।

নিজেদের যমীনের বুকে লুক্কায়িত খনিজ সম্পদ নিজেরাই যেন উত্তোলন করতে পারে এবং তা থেকে উপকৃত হতে পারে। নিজেদের সরকার নিজেদের সম্পদ ও নিজেদের লোক দিয়েই যেন পরিচালনা করে। তার চতুর্দিকে বিশাল বিস্তৃত সমুদ্রগুলোতে তাদেরই সামুদ্রিক জাহাজ ও নৌবহর যেন বিচরণ করে। শত্রুর মুকাবিলা নিজেদের ডুকইয়ার্ডে নির্মিত যুদ্ধ জাহাজ, কামান ও অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে করবে। তাদের আমদানীর চেয়ে রফতানী যেন বেশি হয় এবং পাশ্চাত্যের দেশগুলোর কাছে ঋণ গ্রহণের জন্য যেন হাত পাততে না হয় আর তাদের কারোর পতাকাতলে যেন না যেতে হয় এবং কোন ব্লক কিংবা শিবিরে যোগ দিতে যেন বাধ্য না হয়।

যতদিন পর্যন্ত মুসলিম বিশ্ব জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, রাজনীতি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে পাশ্চাত্যের মুখাপেক্ষী থাকবে পাশ্চাত্য তাদের রক্ত শোষণ করতে থাকবে, তাদেরই ভূখণ্ডের জীবনী-শক্তি তারা বের করে নেবে, তাদের ব্যবসা-উপকরণ ও শিল্পজাত দ্রব্যাদি প্রতিদিন মুসলিম দেশগুলোর বাজার ও পকেটগুলোতে হানা দিতে থাকবে এবং নিজেদের সরকার চালাতে, গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো পূরণ করতে, নিজেদের সেনাবাহিনীকে ট্রেনিং দিতে পাশ্চাত্যের লোকগুলোর দ্বারস্থ হতে থাকবে, সেখানকার বাণিজ্য ও শিল্পজাত দ্রব্যাদি চাইতে থাকবে, তাদেরকে নিজেদের অভিভাবক, উস্তাদ, মুরুব্বী, শাসক ও সর্দার মনে করবে, তাদের নির্দেশ ও তাদের মতামত ছাড়া কোন কাজ করবে না ততদিন পর্যন্ত তারা পাশ্চাত্যের মুকাবিলা করা তো দূরের কথা, তাদের চোখের দিকে তাকিয়ে কথাও বলতে পারবে না।

এই জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্প-প্রযুক্তি ছিল জীবনের সেই শাখা যে সম্পর্কে মুসলিম বিশ্ব অতীতে অলসতা ও গাফিলতির আশ্রয় গ্রহণ করেছিল যার শাস্তি হিসেবে তাকে দীর্ঘ ও অবমাননাকর জীবনের স্বাদ ভোগ করতে হয় এবং তার ওপর পাশ্চাত্যের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয় যারা পৃথিবীর বুকে ধ্বংস ও বরবাদী, হত্যা, খুন-খারাবী ও আত্মহত্যার রাজত্ব কায়েম করে। এখন আবার এই সময়ও যদি মুসলিম বিশ্ব জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-প্রযুক্তির আবিষ্কার-উদ্ভাবনে ও নিজেদের ব্যাপারগুলোতে স্বাধীনতা সম্পর্কে গাফিলতির আশ্রয় নেয় এবং এবারও যদি তার দ্বারা এই ভুল সংঘটিত হয়ে যায় তাহলে দুনিয়ার ভাগ্যে দুর্ভাগ্য লিখে দেওয়া হবে এবং মানবতার পরীক্ষার মুদ্দতকাল আরও দীর্ঘ হয়ে যাবে।