১
কিতাবুস্ সালাত
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১০৪
কিরাআতের তাৎপর্য
আমরা সূরা ফাতিহার মধ্যে আল্লাহর কাছে মুনাজাত করেছিলাম, হে আল্লাহ! আমাদেরকে সঠিক পথের সন্ধান দিন। এখন মনে করি যে, আল্লাহ আমাদের সে মুনাজাত কবুল করেছেন এবং সৎ পথ কোন্টি তা জানার জন্য তিনি আমাদেরকে কুরআন মাজীদ উপহার দিয়েছেন।
এবার তিনি যেন বলছেন, হে আমার বান্দা! তোমার দু‘আ আমি মঞ্জুর করে এ ৩০ পারা কুরআন তোমার কাছে দিয়েছি। এখন সূরা ফাতিহা থেকে নিয়ে সূরা নাস পর্যন্ত পূর্ণ কুরআনে আমি কী বললাম তা পড়ো এবং বুঝো; এটা বুঝে পড়লে কোন্টি সত্য, কোন্টি মিথ্যা, কোন্টি হক, কোন্টি বাতিল এবং কোন্টি তোমার জন্য ভালো, কোন্টি তোমার জন্য মন্দ তা তুমি ভালো করে জানতে পারবে। আমার এ বাণীসমূহ তোমাকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে আসবে। এ কুরআন হলো হেদায়াতের কিতাব-
﴿يَهْدِيْۤ اِلَى الْحَقِّ وَاِلٰى طَرِيْقٍ مُّسْتَقِيْمٍ﴾
এটা মানুষকে সঠিক এবং সোজা পথ দেখায়। (সূরা আহকাফ- ৩০)
﴿ اِنَّ هٰذَا الْقُرْاٰنَ يَهْدِيْ لِلَّتِيْ هِيَ اَقْوَمُ﴾
নিশ্চয় এ কুরআন নির্ভুল ও সোজা পথটি দেখায়। (সূরা বনী ইসরাঈল- ৯)
অতএব আমরা কুরআন থেকে যা কিছু পড়ব তার হক আদায় করতে হবে। কুরআনের একটি আয়াতও এমন নেই; যাতে শিক্ষণীয় কিছু নেই। এখন প্রশ্ন হলো, কুরআনের হক আমরা কীভাবে আদায় করব? হক আদায়ের নিয়ম হলো :
১। যেখানে আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে নিয়ামত দানের ওয়াদা দিয়েছেন আমরা তা পাওয়ার আশা করব।
২। যেখানে শাস্তির বর্ণনা দিয়েছেন, আমরা সে শাস্তিকে ভয় করব।
৩। যেখানে কিছু করার আদেশ দিয়েছেন আমরা তা পালন করব।
৪। যেখানে কিছু করতে নিষেধ করেছেন আমরা তা করব না।
৫। যেখানে তিনি উপদেশ দিয়েছেন আমরা সে উপদেশ গ্রহণ করব।
৬। যেখানে তিনি নবী-রাসূলদের কিস্সা-কাহিনী বর্ণনা করেছেন, আমরা এসব থেকে শিক্ষা গ্রহণ করব এবং আমাদের ঈমানকে আরো মজবুত করব।
এবার তিনি যেন বলছেন, হে আমার বান্দা! তোমার দু‘আ আমি মঞ্জুর করে এ ৩০ পারা কুরআন তোমার কাছে দিয়েছি। এখন সূরা ফাতিহা থেকে নিয়ে সূরা নাস পর্যন্ত পূর্ণ কুরআনে আমি কী বললাম তা পড়ো এবং বুঝো; এটা বুঝে পড়লে কোন্টি সত্য, কোন্টি মিথ্যা, কোন্টি হক, কোন্টি বাতিল এবং কোন্টি তোমার জন্য ভালো, কোন্টি তোমার জন্য মন্দ তা তুমি ভালো করে জানতে পারবে। আমার এ বাণীসমূহ তোমাকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে আসবে। এ কুরআন হলো হেদায়াতের কিতাব-
﴿يَهْدِيْۤ اِلَى الْحَقِّ وَاِلٰى طَرِيْقٍ مُّسْتَقِيْمٍ﴾
এটা মানুষকে সঠিক এবং সোজা পথ দেখায়। (সূরা আহকাফ- ৩০)
﴿ اِنَّ هٰذَا الْقُرْاٰنَ يَهْدِيْ لِلَّتِيْ هِيَ اَقْوَمُ﴾
নিশ্চয় এ কুরআন নির্ভুল ও সোজা পথটি দেখায়। (সূরা বনী ইসরাঈল- ৯)
অতএব আমরা কুরআন থেকে যা কিছু পড়ব তার হক আদায় করতে হবে। কুরআনের একটি আয়াতও এমন নেই; যাতে শিক্ষণীয় কিছু নেই। এখন প্রশ্ন হলো, কুরআনের হক আমরা কীভাবে আদায় করব? হক আদায়ের নিয়ম হলো :
১। যেখানে আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে নিয়ামত দানের ওয়াদা দিয়েছেন আমরা তা পাওয়ার আশা করব।
২। যেখানে শাস্তির বর্ণনা দিয়েছেন, আমরা সে শাস্তিকে ভয় করব।
৩। যেখানে কিছু করার আদেশ দিয়েছেন আমরা তা পালন করব।
৪। যেখানে কিছু করতে নিষেধ করেছেন আমরা তা করব না।
৫। যেখানে তিনি উপদেশ দিয়েছেন আমরা সে উপদেশ গ্রহণ করব।
৬। যেখানে তিনি নবী-রাসূলদের কিস্সা-কাহিনী বর্ণনা করেছেন, আমরা এসব থেকে শিক্ষা গ্রহণ করব এবং আমাদের ঈমানকে আরো মজবুত করব।