hadith book logo

কিতাবুস্ সালাত

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৯

গোসল কখন ফরয হয়

নিম্নোক্ত কারণে গোসল ফরয হয় :

১. বীর্যপাত হলে :

নারী-পুরুষ যেই হোক না কেন ঘুমের অবস্থায় হোক অথবা জাগ্রত অবস্থায় হোক যে কোন অবস্থায় বীর্যপাত হলে তাকে গোসল করতে হবে। হাদীসে এসেছে,

عَنْ أَبِىْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِىِّ عَنِ النَّبِىِّ -ﷺ - أَنَّهٗ قَالَ : إِنَّمَا الْمَاءُ مِنَ الْمَاءِ

আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) নবী ﷺ হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নিশ্চয় পানির পরিবর্তে পানি। অর্থাৎ বীর্যপাত হলে গোসল করতে হয়। [সহীহ মুসলিম, হা/৮০২; আবু দাউদ, হা/২১৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/১১২৬১।]

عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّ أُمَّ سُلَيْمٍ قَالَتْ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّ اللهَ لَا يَسْتَحِيْ مِنَ الْحَقِّ هَلْ عَلَى الْمَرْأَةِ غُسْلٌ إِذَا احْتَلَمَتْ قَالَ نَعَمْ، إِذَا رَأَتِ الْمَاءَ

উম্মে সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা উম্মে সুলাইম এসে রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বললেন, হে আললাহর রাসূল! নিশ্চয় আল্লাহ সত্য বলতে লজ্জাবোধ করেন না। (আমার প্রশ্ন হচ্ছে) মহিলাদের স্বপ্নদোষ হলেও কি তাদেরকে গোসল করতে হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ- যখন সে পানি দেখতে পাবে। [সহীহ বুখারী, হা/৬০৯১; সহীহ মুসলিম, হা/৭৩৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬৬২১; মিশকাত, হা/৪৩৩।]

২. স্ত্রীর যৌনাঙ্গে পুরুষাঙ্গ প্রবেশ করলে :

স্ত্রীর যৌনাঙ্গে পুরুষাঙ্গ প্রবেশ করলেই গোসল ফরয হয়ে যাবে। চাই বীর্যপাত হোক অথবা না হোক। আবু হুরায়রা (রাঃ) নবী ﷺ হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যখন কেউ তার স্ত্রীর উপর বসে অতঃপর দুই লজ্জাস্থান মিলিত হয় তখন গোসল ওয়াজিব হয়ে যায়। [সহীহ মুসলিম, হা/৮১২; মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/১০২।]

মাসআলা :

 যদি পুরুষাঙ্গ স্ত্রীর যোনিতে প্রবেশ ছাড়াই শুধু স্পর্শ করে তাহলে সর্বসম্মতিক্রমে তাদের উপর গোসল ফরয হবে না।

 স্ত্রীকে আলিঙ্গন করার ফলে বীর্যপাত হলে যার বীর্যপাত হবে কেবল তার উপর গোসল আবশ্যক হবে।

 স্বামী-স্ত্রী মিলন করে স্ত্রী গোসল করার পর যদি তার যোনি থেকে স্বামীর বীর্য বের হতে দেখে, তাহলে তার উপর পুনরায় গোসল ওয়াজিব নয়। তবে এ ক্ষেত্রে তার উপর অযু করা আবশ্যক হবে।

 যদি কোন স্বামী তার স্ত্রীকে সহবাসের জন্য ডাকে, তবে গোসল করার পানি না থাকার অজুহাতে তাকে সহবাসে বাধা দিবে না; বরং সহবাস করবে। এরপর যদি গোসল করতে সক্ষম হয় তাহলে গোসল করবে নতুবা তায়াম্মুম করবে এবং সালাত আদায় করবে।

৩. মেয়েদের হায়েয ও নিফাস শেষ হলে :

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَيَسْاَلُوْنَكَ عَنِ الْمَحِيْضِؕ قُلْ هُوَ اَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَآءَ فِى الْمَحِيْضِ وَلَا تَقْرَبُوْهُنَّ حَتّٰى يَطْهُرْنَۚ فَاِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوْهُنَّ مِنْ حَيْثُ اَمَرَكُمُ اللهُؕ اِنَّ اللهَ يُحِبُّ التَّوَّابِيْنَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِيْنَ﴾

(হে নবী!) তারা তোমাকে হায়েয সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বলো, তা খুবই কষ্টদায়ক। সুতরাং তোমরা হায়েযের সময় সহবাস করা থেকে দূরে থাকো। তারা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তোমরা তাদের সাথে মেলামেশা করো না। আর যখন তারা পবিত্র হয়ে যায়, তখন তোমরা আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় তাদের সাথে মেলামেশা করো। নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাকারীদেরকে ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অবলম্বন কারীদেরকেও ভালোবাসেন। (সূরা বাকারা- ২২২)

عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ امْرَأَةً سَأَلَتِ النَّبِيَّ ﷺ عَنْ غُسْلِهَا مِنَ الْمَحِيضِ فَأَمَرَهَا كَيْفَ تَغْتَسِلُ قَالَ خُذِي فِرْصَةً مِنْ مِسْكٍ فَتَطَهَّرِي بِهَا

আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন এক মহিলা রাসূলুল্লাহ ﷺ কে হায়েয থেকে পবিত্রতার গোসল প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলে তিনি হায়েয থেকে কীভাবে পবিত্রতার গোসল করতে হবে সে সম্পর্কে বর্ণনা করেন। তিনি বললেন, প্রথমে সুগন্ধি (মিশক) মিশ্রিত তুলা অথবা পশমী কাপড়ের একটি টুকরা লও। তারপর তা দ্বারা পবিত্রতা লাভ করো। [সহীহ বুখারী, হা/৩১৪; নাসাঈ, হা/২৫১; মিশকাত, হা/৪৩৭।]