১
কিতাবুস্ সালাত
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৩৩
যেসব কারণে সালাত বাতিল হয় না
১. সিজদার জায়গা হতে কিছু সরানো :
প্রয়োজনে সিজদার জায়গা হতে ধুলা, পাথর বা অন্যকিছু সরাতে পারবে। তবে তা একবার সুযোগ রয়েছে, বার বার নয়। [সহীহ বুখারী, হা/১২০৭; সহীহ মুসলিম, হা/১২৫০; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৫৫৫০; বায়হাকী, হা/৩৩৬২।]
২. হাই উঠলে তা বন্ধ করা :
সালাতে হাই উঠলে মুখে হাত রেখে যথাসাধ্য তা বন্ধ করার চেষ্টা করতে হবে। কেননা এটা শয়তানের কাজ। শয়তান এরূপ দেখে হাসতে থাকে। [সহীহ বুখারী, হা/৬২২৬; আবু দাউদ, হা/৫০২৮; ইবনে মাজাহ, হা/৯৬৮।]
৩. মোবাইল বেজে উঠলে তা বন্ধ করা :
সালাতরত অবস্থায় মোবাইল বেজে উঠলে বা মোবাইল বন্ধ করতে ভুলে গেলে তা বন্ধ করা যাবে।
৪. কাঁদা :
আবদুল্লাহ ইবনে শিখখীর (রাঃ) বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট এলাম। তখন তিনি সালাত আদায় করছিলেন। আর তাঁর ভেতর থেকে চুলোর উপর হাঁড়িতে পানি ফোটার মতো কান্নার শব্দ বের হচ্ছিল। অন্য বর্ণনায় আছে, যাতার শব্দের মতো কান্নার শব্দ বের হচ্ছিল। [আবু দাউদ, হা/৯০৪; নাসাঈ, হা/১২১৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬৩৫৫; মিশকাত, হা/১০০০।]
৫. থুথু ফেলা :
যদি সালাতরত অবস্থায় থুথু ওঠে, তবে তা বাম পায়ের নীচে ফেলতে হবে এবং সালাম ফিরানোর পর তা মুছে ফেলতে হবে। অথবা রুমালে থুথু ফেলে পকেটেও রেখে দেয়া যাবে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, তোমাদের মধ্যে কেউ সালাতে দাঁড়ালে সে যেন তার সম্মুখ দিকে থুথু না ফেলে। কারণ সে যতক্ষণ সালাতে থাকে ততক্ষণ আল্লাহর সাথে মুনাজাত করে। আর তার ডান দিকেও যেন থুথু না ফেলে। বরং সে যেন তার বাম দিকে অথবা তার পায়ের নিচে ফেলে, যা সে পরে দাফন করে দেবে। [সহীহ বুখারী, হা/৪১২; সহীহ মুসলিম, হা/৭৭০৫; আবু দাউদ, হা/৪৮৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/১১৮৯৮।]
৬. চুলকানো :
দেহে অস্বস্তিকর চুলকানি শুরু হলে সালাত আদায় করা অবস্থাতেও চুলকানো বৈধ। কারণ না চুলকালে সালাত আদায়কারীর একাগ্রতা নষ্ট হয়।
৭. প্রয়োজনবোধে চলা :
একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজ গৃহে দরজার খিল বন্ধ করে নফল সালাত আদায় করছিলেন। তখন আয়েশা (রাঃ) এসে খুলতে বললে তিনি চলে গিয়ে তার জন্য দরজা খুলে দিলেন। অতঃপর পুনরায় নিজের মুসাল্লায় ফিরে গেলেন। অবশ্য দরজা ছিল কিবলার দিকেই। [তিরমিযী, হা/৬০১; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪০৭৩; মিশকাত, হা/১০০৫।]
৮. শিশুকে কোলে নিয়ে সালাত আদায় করা :
আবু কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের মাঝে আসলেন। তখন আবুল আসের শিশুকন্যা উমামা তাঁর কাঁধে ছিল। অতঃপর তিনি সালাত আদায় করলেন। যখন তিনি রুকূ করতেন, তখন তাকে নিচে নামিয়ে নিতেন। আবার যখন তিনি সিজদা থেকে উঠতেন, তখন তাকে কাঁধে তুলে নিতেন। [সহীহ বুখারী, হা/৫৯৯৬; নাসাঈ, হা/১২০৫; মু‘জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১৮৫০৭; মু‘জামুল আওসাত, হা/১৪০; মিশকাত, হা/৯৮৪।]
৯. শিশুদের ঝগড়া থামানো :
আবুস সাহবা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা বনী মুত্তালিবের দুটি ছোট্ট মেয়ে মারামারি করতে করতে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সামনে এসে তাঁর হাঁটু ধরে ফেলল। তিনি সালাত পড়ছিলেন। সেই অবস্থায় তিনি উভয়কে দুদিকে সরিয়ে দিলেন। [আবু দাউদ, হা/৭১৬, ৭১৭; নাসাঈ, হা/৭২৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/২০৯৫; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/৮৯৫।]
১০. খোঁচা দিয়ে কাউকে সরে যেতে ইঙ্গিত করা :
আয়েশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সালাতরত অবস্থায় তাঁর সামনে কিবলার দিকে পা মেলে শুয়ে থাকতেন। তিনি যখন সিজদা করতেন তখন খোঁচা দিয়ে তার পা সরিয়ে নিতে ইঙ্গিত করতেন। [মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/২৫৬; সহীহ বুখারী, হা/৩৮২, ১২০৯; সহীহ মুসলিম, হা/১১৭৩।]
১১. ইমামের কিরাআত সংশোধন করা :
ইমাম সাহেব যদি কোন আয়াত ভুলে যান বা থেমে যান অথবা ভুল পড়েন তাহলে লোকমা দিয়ে তা মনে করিয়ে দেয়া বা সংশোধন করে দেয়া যাবে। ইমাম সাহেবকে সতর্ক করতে পুরুষদের জন্য ‘সুবহা-নাল্লা-হ’ বলা এবং মহিলাদের জন্য হাতে শব্দ করা জায়েয রয়েছে। [সহীহ বুখারী, হা/১২১৮; সহীহ মুসলিম, হা/৯৭৬; আবু দাউদ, হা/৯৪১; মিশকাত, হা/৯৮৮।]
১২. প্রয়োজনে কাপড় বা পাগড়ীর উপর সিজদা করা :
অতি গ্রীষ্ম বা শীতের সময় সিজদার স্থানে কপাল রাখা কষ্টকর হলে চাদর, আস্তীন বা পাগড়ীর বাড়তি অংশ ঐ স্থানে রেখে সিজদা করা বৈধ। [সহীহ বুখারী, হা/৩৮৫; সহীহ মুসলিম, হা/২৬৮৬; আবু দাউদ, হা/২৪১১; ইবনে মাজাহ, হা/১৬৬৩।।]
১৩. জুতা পরিধান করে সালাত আদায় করা :
আবদুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে খালি পায়ে ও জুতা পায়ে উভয় অবস্থাতেই সালাত আদায় করতে দেখেছি। [আবু দাউদ, হা/৬৫৩; ইবনে মাজাহ, হা/১০৩৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/৬৯২৮।]
অবশ্য জুতায় ময়লা বা নাপাকী লেগে থাকলে তা পরিধান করে সালাত হয় না।
১৪. মাসহাফ হাতে রেখে দেখে কুরআন পাঠ করা :
নফল সালাতে দীর্ঘ কিয়ামের জন্য উপযুক্ত পরিমাণ সূরা মুখস্ত না থাকলে অথবা তারাবীর সালাত পড়ানোর জন্য হাফেজ না থাকলে কুরআন দেখে পাঠ করা যায়। [সহীহ বুখারী, কৃতদাসের ইমামত অধ্যায়, ১/১৭৮।]
প্রয়োজনে সিজদার জায়গা হতে ধুলা, পাথর বা অন্যকিছু সরাতে পারবে। তবে তা একবার সুযোগ রয়েছে, বার বার নয়। [সহীহ বুখারী, হা/১২০৭; সহীহ মুসলিম, হা/১২৫০; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৫৫৫০; বায়হাকী, হা/৩৩৬২।]
২. হাই উঠলে তা বন্ধ করা :
সালাতে হাই উঠলে মুখে হাত রেখে যথাসাধ্য তা বন্ধ করার চেষ্টা করতে হবে। কেননা এটা শয়তানের কাজ। শয়তান এরূপ দেখে হাসতে থাকে। [সহীহ বুখারী, হা/৬২২৬; আবু দাউদ, হা/৫০২৮; ইবনে মাজাহ, হা/৯৬৮।]
৩. মোবাইল বেজে উঠলে তা বন্ধ করা :
সালাতরত অবস্থায় মোবাইল বেজে উঠলে বা মোবাইল বন্ধ করতে ভুলে গেলে তা বন্ধ করা যাবে।
৪. কাঁদা :
আবদুল্লাহ ইবনে শিখখীর (রাঃ) বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট এলাম। তখন তিনি সালাত আদায় করছিলেন। আর তাঁর ভেতর থেকে চুলোর উপর হাঁড়িতে পানি ফোটার মতো কান্নার শব্দ বের হচ্ছিল। অন্য বর্ণনায় আছে, যাতার শব্দের মতো কান্নার শব্দ বের হচ্ছিল। [আবু দাউদ, হা/৯০৪; নাসাঈ, হা/১২১৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬৩৫৫; মিশকাত, হা/১০০০।]
৫. থুথু ফেলা :
যদি সালাতরত অবস্থায় থুথু ওঠে, তবে তা বাম পায়ের নীচে ফেলতে হবে এবং সালাম ফিরানোর পর তা মুছে ফেলতে হবে। অথবা রুমালে থুথু ফেলে পকেটেও রেখে দেয়া যাবে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, তোমাদের মধ্যে কেউ সালাতে দাঁড়ালে সে যেন তার সম্মুখ দিকে থুথু না ফেলে। কারণ সে যতক্ষণ সালাতে থাকে ততক্ষণ আল্লাহর সাথে মুনাজাত করে। আর তার ডান দিকেও যেন থুথু না ফেলে। বরং সে যেন তার বাম দিকে অথবা তার পায়ের নিচে ফেলে, যা সে পরে দাফন করে দেবে। [সহীহ বুখারী, হা/৪১২; সহীহ মুসলিম, হা/৭৭০৫; আবু দাউদ, হা/৪৮৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/১১৮৯৮।]
৬. চুলকানো :
দেহে অস্বস্তিকর চুলকানি শুরু হলে সালাত আদায় করা অবস্থাতেও চুলকানো বৈধ। কারণ না চুলকালে সালাত আদায়কারীর একাগ্রতা নষ্ট হয়।
৭. প্রয়োজনবোধে চলা :
একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজ গৃহে দরজার খিল বন্ধ করে নফল সালাত আদায় করছিলেন। তখন আয়েশা (রাঃ) এসে খুলতে বললে তিনি চলে গিয়ে তার জন্য দরজা খুলে দিলেন। অতঃপর পুনরায় নিজের মুসাল্লায় ফিরে গেলেন। অবশ্য দরজা ছিল কিবলার দিকেই। [তিরমিযী, হা/৬০১; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪০৭৩; মিশকাত, হা/১০০৫।]
৮. শিশুকে কোলে নিয়ে সালাত আদায় করা :
আবু কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের মাঝে আসলেন। তখন আবুল আসের শিশুকন্যা উমামা তাঁর কাঁধে ছিল। অতঃপর তিনি সালাত আদায় করলেন। যখন তিনি রুকূ করতেন, তখন তাকে নিচে নামিয়ে নিতেন। আবার যখন তিনি সিজদা থেকে উঠতেন, তখন তাকে কাঁধে তুলে নিতেন। [সহীহ বুখারী, হা/৫৯৯৬; নাসাঈ, হা/১২০৫; মু‘জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১৮৫০৭; মু‘জামুল আওসাত, হা/১৪০; মিশকাত, হা/৯৮৪।]
৯. শিশুদের ঝগড়া থামানো :
আবুস সাহবা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা বনী মুত্তালিবের দুটি ছোট্ট মেয়ে মারামারি করতে করতে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সামনে এসে তাঁর হাঁটু ধরে ফেলল। তিনি সালাত পড়ছিলেন। সেই অবস্থায় তিনি উভয়কে দুদিকে সরিয়ে দিলেন। [আবু দাউদ, হা/৭১৬, ৭১৭; নাসাঈ, হা/৭২৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/২০৯৫; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/৮৯৫।]
১০. খোঁচা দিয়ে কাউকে সরে যেতে ইঙ্গিত করা :
আয়েশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সালাতরত অবস্থায় তাঁর সামনে কিবলার দিকে পা মেলে শুয়ে থাকতেন। তিনি যখন সিজদা করতেন তখন খোঁচা দিয়ে তার পা সরিয়ে নিতে ইঙ্গিত করতেন। [মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/২৫৬; সহীহ বুখারী, হা/৩৮২, ১২০৯; সহীহ মুসলিম, হা/১১৭৩।]
১১. ইমামের কিরাআত সংশোধন করা :
ইমাম সাহেব যদি কোন আয়াত ভুলে যান বা থেমে যান অথবা ভুল পড়েন তাহলে লোকমা দিয়ে তা মনে করিয়ে দেয়া বা সংশোধন করে দেয়া যাবে। ইমাম সাহেবকে সতর্ক করতে পুরুষদের জন্য ‘সুবহা-নাল্লা-হ’ বলা এবং মহিলাদের জন্য হাতে শব্দ করা জায়েয রয়েছে। [সহীহ বুখারী, হা/১২১৮; সহীহ মুসলিম, হা/৯৭৬; আবু দাউদ, হা/৯৪১; মিশকাত, হা/৯৮৮।]
১২. প্রয়োজনে কাপড় বা পাগড়ীর উপর সিজদা করা :
অতি গ্রীষ্ম বা শীতের সময় সিজদার স্থানে কপাল রাখা কষ্টকর হলে চাদর, আস্তীন বা পাগড়ীর বাড়তি অংশ ঐ স্থানে রেখে সিজদা করা বৈধ। [সহীহ বুখারী, হা/৩৮৫; সহীহ মুসলিম, হা/২৬৮৬; আবু দাউদ, হা/২৪১১; ইবনে মাজাহ, হা/১৬৬৩।।]
১৩. জুতা পরিধান করে সালাত আদায় করা :
আবদুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে খালি পায়ে ও জুতা পায়ে উভয় অবস্থাতেই সালাত আদায় করতে দেখেছি। [আবু দাউদ, হা/৬৫৩; ইবনে মাজাহ, হা/১০৩৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/৬৯২৮।]
অবশ্য জুতায় ময়লা বা নাপাকী লেগে থাকলে তা পরিধান করে সালাত হয় না।
১৪. মাসহাফ হাতে রেখে দেখে কুরআন পাঠ করা :
নফল সালাতে দীর্ঘ কিয়ামের জন্য উপযুক্ত পরিমাণ সূরা মুখস্ত না থাকলে অথবা তারাবীর সালাত পড়ানোর জন্য হাফেজ না থাকলে কুরআন দেখে পাঠ করা যায়। [সহীহ বুখারী, কৃতদাসের ইমামত অধ্যায়, ১/১৭৮।]