১
কিতাবুস্ সালাত
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১০৯
রুকূ হতে দাঁড়িয়ে যা বলতে হয়
১. আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, ইমাম যখন ‘‘সামি‘আল্লা-হু লিমান হামিদাহ্’’ বলবে, তখন তোমরা নিচের বাক্যটি বলবে- কারণ যার কথা ফেরেশতাদের কথার সাথে মিলে যাবে তার পেছনের সকল গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। [মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/১৯৭; সহীহ বুখারী, হা/৭৯৬; সহীহ মুসলিম, হা/৯৪০।]
رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ
উচ্চারণ : রাববানা লাকাল হামদ।
শাব্দিক অর্থ : رَبَّنَا হে আমাদের রব! لَكَ আপনার জন্যই الْحَمْدُ সকল প্রশংসা।
অর্থ : হে আমাদের রব! আপনার জন্যই সকল প্রশংসা।
উল্লেখ্য যে, অন্য বর্ণনায় رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ এর স্থলে رَبَّنَا وَ لَكَ الْحَمْدُ বাক্যটি উল্লেখ করা হয়েছে। [মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/১৬৩; সহীহ বুখারী, হা/৬৮৯; সহীহ মুসলিম, হা/৯৪৮।]
২. রিফা‘আ (রাঃ) হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমরা একবার নবী ﷺ এর পেছনে সালাত আদায় করছিলাম। তিনি যখন রুকূ থেকে দাঁড়ালেন, তখন পেছন থেকে এক ব্যক্তি নিচের দু‘আটি পাঠ করল। অতঃপর সালাত শেষ হলে নবী ﷺ বললেন, একটু আগে এ কথাগুলো কে বলেছে? তখন ঐ লোকটি বলল, আমি বলেছি। এবার নবী ﷺ বললেন, আমি ৩০ জনেরও অধিক ফেরেশতাকে দেখেছি তারা এ ব্যাপারে তাড়াহুড়া করছেন যে, কে কার আগে এর সওয়াব লিখবেন এবং আল্লাহর কাছে নিয়ে পৌঁছাবেন। [মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/৪৯৩; সহীহ বুখারী, হা/৭৯৯; আবু দাউদ, হা/৭৭০।]
رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا كَثِيْرًا طَيِّبًا مُّبَارَكًا فِيْهِ
উচ্চারণ : রাববানা ওয়ালাকাল হামদু হামদান কাছীরান ত্বায়্যিবান মুবা-রাকান ফীহ্।
শাব্দিক অর্থ : رَبَّنَا হে আমাদের প্রভু, وَلَكَ الْحَمْدُ তোমার জন্য সকল প্রশংসা, حَمْدًا এমন প্রশংসা যা, كَثِيْرًا অনেক, طَيِّبًا পবিত্র, مُبَارَكًا فِيْهِ যাতে রয়েছে বরকত।
অর্থ : হে আমাদের রব! তোমার জন্যই সমস্ত প্রশংসা। আর তা এত অধিক প্রশংসা, যা পবিত্র ও বরকতপূর্ণ।
৩. আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ রুকূ হতে দাঁড়ানোর পর নিচের দু‘আ পড়ে আল্লাহর প্রশংসা করতেন। [সহীহ মুসলিম, হা/১০৮৬; আবু দাউদ, হা/৮৪৭; নাসাঈ, হা/১০৬৮।]
اَللّٰهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمٰوَاتِ وَ مِلْءَ الْاَرْضِ وَمِلْءَ مَاشِئْتَ مِنْ شَىْءٍ بَعْدُ اَهْلَ الثَّنَاءِ وَ الْمَجْدِ اَحَقُّ مَا قَالَ الْعَبْدُ وَ كُلُّنَا لَكَ عَبْدٌ ‐ - اَللّٰهُمَّ لَامَانِعَ لِمَا اَعْطَيْتَ وَ لَامُعْطِىَ لِمَا مَنَعْتَ وَلَا يَنْفَعُ ذَالْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ
উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা রববানা লাকাল হামদু মিলআস সামা-ওয়া-তি ওয়া মিলআল আরযি ওয়া মিলআ মা-শি’তা মিন শায়ইন বা‘দু আহলাছ ছানা-ই ওয়াল মাজদি, আহাক্কু মা-ক্বা-লাল ‘আবদু ওয়া কুল্লুনা লাকা ‘আবদুন। আল্লা-হুম্মা লা-মা-নি‘আ লিমা- আ‘ত্বাইতা ওয়ালা- মু‘ত্বিয়া লিমা- মানা‘তা ওয়ালা- ইয়ানফা‘উ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু।
শাব্দিক অর্থঃ اَللّٰهُمَّ হে আল্লাহ! رَبَّنَا তুমি আমাদের প্রতিপালক لَكَ الْحَمْدُ তোমার প্রশংসায় مِلْءَ السَّمٰوَاتِ আসমানসমূহ পরিপূর্ণ, وَ مِلْءَ الْاَرْضِ এবং জমিনও পরিপূর্ণ, وَمِلْءَ مَاشِئْتَ مِنْ شَىْءٍ بَعْدُ এরপর তুমি যা চাও তাও পরিপূর্ণ اَهْلَ الثَّنَاءِ وَ الْمَجْدِ আপনি প্রশংসা ও মর্যাদার অধিকারী। اَحَقُّ তুমি বেশি হকদার مَا قَالَ الْعَبْدُ (তোমার প্রশংসায়) বান্দা যা বলে। وَ كُلُّنَا আর আমরা সকলেই لَكَ عَبْدٌ তোমার গোলাম। اَللّٰهُمَّ হে আল্লাহ! لَامَانِعَ বাধা দেয়ার মতো কেউ নেই لِمَا اَعْطَيْتَ তুমি যা দান কর তা। وَ لَامُعْطِىَ আর দেয়ার মতোও কেউ নেই لِمَا مَنَعْتَ তুমি যা দিতে চাও না তা। وَلَا يَنْفَعُ আর কোন উপকারে আসবে না ذَالْجَدِّ কোন সম্পদশালী مِنْكَ তোমার (আযাব) হতে الْجَدُّ তার সম্পদ।
অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমাদের প্রতিপালক, আসমান এবং জমিন সবই তোমার প্রশংসায় পরিপূর্ণ, এরপর তুমি যা চাও তাও পরিপূর্ণ। তুমিই প্রশংসা ও মর্যাদা পাওয়ার অধিকারী। তোমার প্রশংসায় বান্দা যা বলবে তুমি তার চেয়ে বেশি পাওয়ার হকদার। আমরা সকলেই তোমার গোলাম। হে আল্লাহ! তুমি কাউকে যা দান কর তা বাধা দেয়ার মতো কেউ নেই। আর কাউকে যা দিতে চাও না তা দেয়ার মতো কেউ নেই। আর কোন সম্পদশালীর সম্পদ তোমার আযাব হতে তাকে রক্ষা করতে পারবে না।
رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ
উচ্চারণ : রাববানা লাকাল হামদ।
শাব্দিক অর্থ : رَبَّنَا হে আমাদের রব! لَكَ আপনার জন্যই الْحَمْدُ সকল প্রশংসা।
অর্থ : হে আমাদের রব! আপনার জন্যই সকল প্রশংসা।
উল্লেখ্য যে, অন্য বর্ণনায় رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ এর স্থলে رَبَّنَا وَ لَكَ الْحَمْدُ বাক্যটি উল্লেখ করা হয়েছে। [মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/১৬৩; সহীহ বুখারী, হা/৬৮৯; সহীহ মুসলিম, হা/৯৪৮।]
২. রিফা‘আ (রাঃ) হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমরা একবার নবী ﷺ এর পেছনে সালাত আদায় করছিলাম। তিনি যখন রুকূ থেকে দাঁড়ালেন, তখন পেছন থেকে এক ব্যক্তি নিচের দু‘আটি পাঠ করল। অতঃপর সালাত শেষ হলে নবী ﷺ বললেন, একটু আগে এ কথাগুলো কে বলেছে? তখন ঐ লোকটি বলল, আমি বলেছি। এবার নবী ﷺ বললেন, আমি ৩০ জনেরও অধিক ফেরেশতাকে দেখেছি তারা এ ব্যাপারে তাড়াহুড়া করছেন যে, কে কার আগে এর সওয়াব লিখবেন এবং আল্লাহর কাছে নিয়ে পৌঁছাবেন। [মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/৪৯৩; সহীহ বুখারী, হা/৭৯৯; আবু দাউদ, হা/৭৭০।]
رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا كَثِيْرًا طَيِّبًا مُّبَارَكًا فِيْهِ
উচ্চারণ : রাববানা ওয়ালাকাল হামদু হামদান কাছীরান ত্বায়্যিবান মুবা-রাকান ফীহ্।
শাব্দিক অর্থ : رَبَّنَا হে আমাদের প্রভু, وَلَكَ الْحَمْدُ তোমার জন্য সকল প্রশংসা, حَمْدًا এমন প্রশংসা যা, كَثِيْرًا অনেক, طَيِّبًا পবিত্র, مُبَارَكًا فِيْهِ যাতে রয়েছে বরকত।
অর্থ : হে আমাদের রব! তোমার জন্যই সমস্ত প্রশংসা। আর তা এত অধিক প্রশংসা, যা পবিত্র ও বরকতপূর্ণ।
৩. আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ রুকূ হতে দাঁড়ানোর পর নিচের দু‘আ পড়ে আল্লাহর প্রশংসা করতেন। [সহীহ মুসলিম, হা/১০৮৬; আবু দাউদ, হা/৮৪৭; নাসাঈ, হা/১০৬৮।]
اَللّٰهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمٰوَاتِ وَ مِلْءَ الْاَرْضِ وَمِلْءَ مَاشِئْتَ مِنْ شَىْءٍ بَعْدُ اَهْلَ الثَّنَاءِ وَ الْمَجْدِ اَحَقُّ مَا قَالَ الْعَبْدُ وَ كُلُّنَا لَكَ عَبْدٌ ‐ - اَللّٰهُمَّ لَامَانِعَ لِمَا اَعْطَيْتَ وَ لَامُعْطِىَ لِمَا مَنَعْتَ وَلَا يَنْفَعُ ذَالْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ
উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা রববানা লাকাল হামদু মিলআস সামা-ওয়া-তি ওয়া মিলআল আরযি ওয়া মিলআ মা-শি’তা মিন শায়ইন বা‘দু আহলাছ ছানা-ই ওয়াল মাজদি, আহাক্কু মা-ক্বা-লাল ‘আবদু ওয়া কুল্লুনা লাকা ‘আবদুন। আল্লা-হুম্মা লা-মা-নি‘আ লিমা- আ‘ত্বাইতা ওয়ালা- মু‘ত্বিয়া লিমা- মানা‘তা ওয়ালা- ইয়ানফা‘উ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু।
শাব্দিক অর্থঃ اَللّٰهُمَّ হে আল্লাহ! رَبَّنَا তুমি আমাদের প্রতিপালক لَكَ الْحَمْدُ তোমার প্রশংসায় مِلْءَ السَّمٰوَاتِ আসমানসমূহ পরিপূর্ণ, وَ مِلْءَ الْاَرْضِ এবং জমিনও পরিপূর্ণ, وَمِلْءَ مَاشِئْتَ مِنْ شَىْءٍ بَعْدُ এরপর তুমি যা চাও তাও পরিপূর্ণ اَهْلَ الثَّنَاءِ وَ الْمَجْدِ আপনি প্রশংসা ও মর্যাদার অধিকারী। اَحَقُّ তুমি বেশি হকদার مَا قَالَ الْعَبْدُ (তোমার প্রশংসায়) বান্দা যা বলে। وَ كُلُّنَا আর আমরা সকলেই لَكَ عَبْدٌ তোমার গোলাম। اَللّٰهُمَّ হে আল্লাহ! لَامَانِعَ বাধা দেয়ার মতো কেউ নেই لِمَا اَعْطَيْتَ তুমি যা দান কর তা। وَ لَامُعْطِىَ আর দেয়ার মতোও কেউ নেই لِمَا مَنَعْتَ তুমি যা দিতে চাও না তা। وَلَا يَنْفَعُ আর কোন উপকারে আসবে না ذَالْجَدِّ কোন সম্পদশালী مِنْكَ তোমার (আযাব) হতে الْجَدُّ তার সম্পদ।
অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমাদের প্রতিপালক, আসমান এবং জমিন সবই তোমার প্রশংসায় পরিপূর্ণ, এরপর তুমি যা চাও তাও পরিপূর্ণ। তুমিই প্রশংসা ও মর্যাদা পাওয়ার অধিকারী। তোমার প্রশংসায় বান্দা যা বলবে তুমি তার চেয়ে বেশি পাওয়ার হকদার। আমরা সকলেই তোমার গোলাম। হে আল্লাহ! তুমি কাউকে যা দান কর তা বাধা দেয়ার মতো কেউ নেই। আর কাউকে যা দিতে চাও না তা দেয়ার মতো কেউ নেই। আর কোন সম্পদশালীর সম্পদ তোমার আযাব হতে তাকে রক্ষা করতে পারবে না।