hadith book logo

কিতাবুস্ সালাত

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৩৬

পুরুষ ও মহিলাদের সালাতের পার্থক্য

পুরুষ ও মহিলাদের সালাতের মধ্যে পদ্ধতিগতভাবে কোন পার্থক্য নেই। রাসূলুল্লাহ ﷺ নারী-পুরুষ সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা সেভাবে সালাত আদায় করো, যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ। [সহীহ বুখারী, হা/৬৩১; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৬৩; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/৩৯৭; সহীহ ইবনে হিববান, হা/১৬৫৮; মিশকাত হা/৬৮৩।]

মসজিদে নববীতে নারী-পুরুষ সকলে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর পেছনে একই নিয়মে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ও জুমু‘আ আদায় করেছেন। [সহীহ বুখারী, হা/৮৬৬; নাসাঈ, হা/১৩৩৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬৭৩০; সহীহ ইবনে হিববান, হা/২২৩৩; মিশকাত হা/৯৪৮, ১৪০৯।]

ইমাম বুখারী (রহ.) তাঁর সাহীহুল বুখারীতে ‘‘তাশাহ্হুদে বসার পদ্ধতি’’ নামক বাবের পর উল্লেখ করেন,

وَكَانَتْ أُمُّ الدَّرْدَاءِ تَجْلِسُ فِيْ صَلَاتِهَا جَلْسَةً الرَّجُلِ وَكَانَتْ فَقِيْهَةً

অর্থাৎ উম্মুদ দারদা (রাঃ) সালাতে পুরুষদের ন্যায় বসতেন। আর তিনি ছিলেন একজন ফকীহা তথা মাসআলার ব্যাপারে অভিজ্ঞ।

নারীদের রুকূ করার সময় মাথা সামান্য নীচু করা ও সিজদার সময় হাত ও পেট একত্রে জড়িয়ে রাখার হাদীস গ্রহণযোগ্য নয়। [বায়হাকী, হা/৩০১৬; সিলসিলা যঈফাহ, হা/২৬৫২ পৃঃ।]

অনুরূপ নারীরা বুকে হাত বাঁধবে আর পুরুষরা নাভির নীচে হাত বাঁধবে- এ ব্যাপারে কোন সহীহ হাদীস পাওয়া যায়নি। বরং সহীহ হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সুন্নাতের আলোকে নারী-পুরুষ সকলেই বুকের উপর হাত বাঁধবে।

অনেকের ধারণা পুরুষদের সালাত শেষ হওয়ার আগে ঘরে মহিলাদের সালাত হবে না। এ ধারণা সঠিক নয়। সালাতের সময় হলেই মহিলারা সালাত আদায় করতে পারবে।

পুরুষ ও মহিলাদের সালাতের ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু পার্থক্য রয়েছে। আর তা হলো :

১. জামাআতে উপস্থিত হওয়ার ক্ষেত্রে :

পুরুষদের জন্য জামাআতে সালাত আদায় করা ওয়াজিব। কিন্তু মহিলাদের জন্য তা ওয়াজিব নয়। সুতরাং তারা ইচ্ছা করলে জামাআতে উপস্থিত হতে পারে, আবার ইচ্ছা করলে উপস্থিত নাও হতে পারে। কিমত্মু তারা যদি জামাআতে উপস্থিত হওয়ার জন্য মসজিদে গমন করতে চায় তবে তাদেরকে বাধা দেয়া নিষেধ। [মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/৪৬৫; সহীহ বুখারী, হা/৯০০; সহীহ মুসলিম, হা/১০১৮; আবু দাউদ, হা/৫৬৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/৪৬৫৫।]

২. লোকমা দেয়ার ক্ষেত্রে :

ইমাম সালাতের মধ্যে ভুল করলে পুরুষরা ‘‘সুবহানাল্লাহ’’ বলে লোকমা দেবে। কিমত্মু মহিলারা হাতের উপর হাত মেরে শব্দ করবে।

৩. কাতার করার ক্ষেত্রে :

পুরুষদের শ্রেষ্ঠ কাতার হলো প্রথম কাতার। পক্ষান্তরে মহিলাদের শ্রেষ্ঠ কাতার হলো পেছনের কাতার।

৩. সতর ঢাকার ক্ষেত্রে :

পুরুষদের জন্য সালাতের মধ্যে নাভি থেকে হাঁটু পর্যমত্ম এবং উভয় কাঁধ ঢেকে রাখতে হবে। পক্ষান্তরে নারীদের ক্ষেত্রে তাদের মুখমন্ডল ও হাতের কব্জি ব্যতীত শরীরের অন্যান্য সকল অঙ্গ ঢেকে রাখতে হবে।

৪. নির্জনতার ক্ষেত্রে :

পুরুষরা ফরয সালাত প্রকাশ্যে মসজিদে আদায় করবে। কিমত্মু মহিলাদের জন্য যথাসম্ভব নির্জনতা অবলম্বন করাই উত্তম।

৫. আযান ও ইকামতের ক্ষেত্রে :

পুরুষদের জামাআতের উদ্দেশ্যে আযান ও ইকামত দেয়ার নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে এ ব্যাপারে ছাড় দেয়া হয়েছে। তবে ইকামত দেয়ার অনুমতি রয়েছে।

৬. ইমামের দাঁড়ানোর স্থানের ক্ষেত্রে :

পুরুষদের জামাআতে প্রথম কাতারের সামনে মাঝ বরাবর ইমামকে একাকী দাঁড়াতে হয়। আর মহিলাদের জামাআতে ইমামকে প্রথম কাতারের মাঝখানে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে হবে, পুরুষের মতো একাকী নয়।

৭. কাতারে একাকী দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে :

পুরুষ একজন হলে ইমামের সাথে ডান পার্শ্বে দাঁড়াতে হয়; কিমত্মু মহিলা একজন হলে ইমামের পেছনে দাঁড়াতে হয়। [সহীহ বুখারী, হা/৭২৭; নাসাঈ, হা/৮৬৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২১০২; বায়হাকী, হা/৫০০৩; মিশকাত, হা/১১০৮।]