hadith book logo

কিতাবুস্ সালাত

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৬

তায়াম্মুমের বিবরণ

اَلتَّيَمُّمُ (তায়াম্মুম) এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে, ইচ্ছা করা বা সংকল্প করা।

আর পারিভাষিক অর্থে পানি না পাওয়া গেলে অযু বা গোসলের পরিবর্তে পবিত্র মাটি দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের ইসলামী পদ্ধতিকে তায়াম্মুম বলে।

এটা উম্মতে মুহাম্মদীর বিশেষত্ব। মহান আল্লাহ তা‘আলা উম্মতে মুহাম্মদীর প্রতি বিশেষ অনুগ্রহস্বরূপ তায়াম্মুমের বিধান দিয়েছেন। তিনি বলেন,

﴿وَاِنْ كُنْتُمْ مَّرْضٰۤى اَوْ عَلٰى سَفَرٍ اَوْ جَآءَ اَحَدٌ مِّنْكُمْ مِّنَ الْغَآئِطِ اَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَآءَ فَلَمْ تَجِدُوْا مَآءً فَتَيَمَّمُوْا صَعِيْدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوْا بِوُجُوْهِكُمْ وَاَيْدِيْكُمْ مِّنْهُ - مَا يُرِيْدُ اللهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُمْ مِّنْ حَرَجٍ وَّلٰكِنْ يُّرِيْدُ لِيُطَهِّرَكُمْ وَلِيُتِمَّ نِعْمَتَهٗ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ﴾

যদি তোমরা অসুস্থ হও অথবা সফরে থাক কিংবা (প্রস্রাব) পায়খানা ও স্ত্রী মিলনের পর পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করবে এবং তা দ্বারা তোমাদের মুখমন্ডল ও হাত মাসাহ করবে। আল্লাহ তোমাদেরকে কষ্ট দিতে চান না বরং তিনি তোমাদেরকে পবিত্র করতে চান এবং তোমাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ পূর্ণ করতে চান, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর। (সূরা মায়েদা- ৬)

হাদীসে এসেছে,

عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ - ﷺ : فُضِّلْنَا عَلَى النَّاسِ بِثَلَاثٍ جُعِلَتْ صُفُوْفُنَا كَصُفُوْفِ الْمَلَائِكَةِ وَجُعِلَتْ لَنَا الْأَرْضُ كُلُّهَا مَسْجِدًا وَجُعِلَتْ تُرْبَتُهَا لَنَا طَهُوْرًا إِذَا لَمْ نَجِدِ الْمَاءَ

হুযায়ফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, সকল মানুষের উপর আমাদেরকে ৩ টি বিষয়ের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে। সেগুলো হলো-

১. আমাদের সালাতে দাঁড়ানোর কাতার করা হয়েছে ফেরেশতাদের কাতারের মতো।

২. পৃথিবীর সমস্ত জমিন আমাদের জন্য সালাতের স্থান করে দেয়া হয়েছে।

৩. যখন আমরা পানি পাব না তখন মাটিকে আমাদের জন্য পবিত্রতা অর্জনের উপকরণ করা হয়েছে। [সহীহ মুসলিম, হা/১১৯৩; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হা/২৬৪; বায়হাকী, হা/১০০১; মিশকাত, হা/৫২৬।]

অপর হাদীসে এসেছে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ فَضَّلَنِىْ عَلَى الْأَنْبِيَاءِ أَوْ قَالَ : أُمَّتِىْ عَلَى الْأُمَمِ بِأَرْبَعٍ : أَرْسَلَنِىْ إِلَى النَّاسِ كَافَّةً ، وَجَعَلَ الْأَرْضَ كُلَّهَا لِىْ وَلِأُمَّتِىْ طَهُوْرًا وَمَسْجِدًا فَأَيْنَمَا أَدْرَكَتِ الرَّجُلَ مِنْ أُمَّتِىْ الصَّلَاةُ فَعِنْدَه مَسْجِدُه وَعِنْدَه طَهُوْرُه وَنُصِرْتُ بِالرُّعْبِ يَسِيْرُ بَيْنَ يَدَىَّ مَسِيْرَةَ شَهْرٍ يُقْذَفُ فِى قُلُوْبِ أَعْدَائِىْ ، وَأُحِلَّتْ لِى الْغَنَائِمُ

নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা আমাকে অন্য বর্ণনায় আমার উম্মতকে অন্যান্য সকল উম্মতের উপর চারটি বিষয়ে প্রাধান্য দিয়েছেন।

১. আমাকে পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য প্রেরণ করেছেন।

২. পৃথিবীর সমস্ত জমিন আমার এবং আমার উম্মতের জন্য মসজিদ ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম বানিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং আমার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি যেখানেই সালাতের সময় পাবে সে স্থানই তার জন্য মসজিদ ও পবিত্রতার মাধ্যম হবে।

৩. ভয় দ্বারা আমাকে সাহায্য করা হয়েছে। এক মাসের দূরত্বে থেকেও শত্রুরা আমাকে ভয় করে।

৪. গনীমতের মালকে আমার জন্য হালাল করে দেয়া হয়েছে। [মুসনাদে আহমাদ, হা/২২১৯০; বায়হাকী, হা/৯৯৯।]

যেসব কারণে তায়াম্মুম করা যাবে :

নিম্নোক্ত কারণে তায়াম্মুম করা যাবে :

(১) যদি পবিত্র পানি না পাওয়া যায়।

(২) পানি পেতে গেলে যদি সালাত কাযা হওয়ার ভয় থাকে।

(৩) পানি ব্যবহারে যদি রোগ বৃদ্ধির আশংকা থাকে।

(৪) পানি ব্যবহারে যদি কোন বিপদ বা জীবনের ঝুঁকি থাকে। [সূরা মায়েদা ৫/৬; মিশকাত, হা/৫২৭, ৫৩০।]