১
কিতাবুস্ সালাত
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৯১
আঊযুবিল্লাহ পড়া
সালাত মানুষকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়। বিশেষ করে বান্দা সিজদায় গেলে সবচেয়ে বেশি আল্লাহর নিকটবর্তী হয়। শয়তান এটা সহ্য করতে পারে না। কারণ আল্লাহ তা‘আলা আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করে তাকে সম্মানিত করার জন্য ফেরেশতা ও জিনদেরকে সিজদা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। শয়তান এতে রাজী হয়নি। এই একটি সিজদার হুকুম অস্বীকার করার কারণে আল্লাহ তাকে তাড়িয়ে দেন এবং চির জাহান্নামী করে দেন। এখন মানুষকে সালাতে দেখলে শয়তানের হিংসা বেড়ে যায়। বান্দা আল্লাহকে সিজদা করুক- এটা সে চায় না। তাছাড়া বান্দার সালাত নষ্ট করার জন্য সে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উপস্থিত হয়ে বলে, ‘‘এটা মনে করো, ওটা মনে করো’’। [সহীহ বুখারী, হা/৬০৮; সহীহ মুসলিম, হা/৮৮৫; মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/১৫২।] এজন্য আল্লাহ তা‘আলা শয়তান থেকে আশ্রয় চাওয়ার আদেশ দিয়ে বলেন,
﴿فَاِذَا قَرَأْتَ الْقُرْاٰنَ فَاسْتَعِذْ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ﴾
তুমি যখন কুরআন পড়, তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। (সূরা নাহল- ৯৮)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বিভিন্ন বাক্যের মাধ্যমে শয়তান থেকে আশ্রয় চাইতেন। যেমন-
اَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ
উচ্চারণ : আঊযু বিল্লা-হি মিনাশ্ শাইত্বানির রাজীম।
শাব্দিক অর্থ : اَعُوْذُ আমি আশ্রয় চাই, بِاللهِ আল্লাহর কাছে, مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ বিতাড়িত শয়তান হতে।
অর্থ : আমি বিতাড়িত শয়তান হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই।
রাসূলুল্লাহ ﷺ সালাতের মধ্যে নিম্নের বাক্যের মাধ্যমে শয়তান থেকে আশ্রয় চাইতেন।
أَعُوْذُ بِاللهِ السَّمِيْعِ الْعَلِيْمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ مِنْ هَمْزِهٖ وَنَفْخِهٖ وَنَفْثِهٖ
উচ্চারণ : আঊযু বিল্লা-হিস সামী‘ইল ‘আলীমি মিনাশ্ শায়ত্বা-নির রাজীম, মিন হাম্যিহী ওয়া নাফ্খিহী ওয়া নাফ্সিহী।
শাব্দিক অর্থ : أَعُوْذُ আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি بِاللهِ আল্লাহর নিকট السَّمِيْعِ যিনি সবকিছু শ্রবণ করেন الْعَلِيْمِ সবকিছু জানেন مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ বিতাড়িত শয়তান হতে مِنْ هَمْزِهٖ তার কুমন্ত্রণা হতে, وَنَفْخِهٖ তার ফুঁৎকার হতে وَنَفْثِهٖ এবং তার প্ররোচনা হতে।
অর্থ : আমি সর্বজ্ঞ ও সর্বশ্রোতা আল্লাহর নিকট শয়তানের কুমন্ত্রণা, ফুঁৎকার ও প্ররোচনা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। [আবু দাউদ, হা/৭৭৫; তিরমিযী, হা/২৪২; ইবনে মাজাহ, হা/৮০৭; মিশকাত, হা/১২১৭; সহীহ ইবনে হিববান, হা/১৭৭৯; দার কুতনী, হা/১১৫৪; বায়হাকী, হা/২১৮৫।]
মনে রাখতে হবে যে, শয়তান থেকে বাঁচতে হলে কেবল ‘আউযুবিল্লাহ’ মুখে পড়াই যথেষ্ট নয়। যেসকল কাজকর্মে শয়তান খুশী হয়, সেসব কাজকর্মও ছাড়তে হবে এবং আল্লাহর পছন্দনীয় কাজসমূহ পালন করতে হবে। যেমন- একজন লোক রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে, হঠাৎ করে সামনে তার দুশমন উপস্থিত হলো যে তাকে হত্যা করতে প্রস্তুত। এখন যদি লোকটি না পালায় ঐ স্থানে থেকে বলে, ‘‘আমি আশ্রয় চাই’’ তবে সে বাঁচতে পারবে না। তাই শয়তান যেসব কাজের নির্দেশ দেয় তা করতে নেই। আর শয়তান যেদিকে ডাকবে সেদিকে যেতে নেই। এটা করতে পারলেই ‘‘আঊযুবিল্লাহ’’ পড়া সার্থক হবে।
﴿فَاِذَا قَرَأْتَ الْقُرْاٰنَ فَاسْتَعِذْ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ﴾
তুমি যখন কুরআন পড়, তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। (সূরা নাহল- ৯৮)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বিভিন্ন বাক্যের মাধ্যমে শয়তান থেকে আশ্রয় চাইতেন। যেমন-
اَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ
উচ্চারণ : আঊযু বিল্লা-হি মিনাশ্ শাইত্বানির রাজীম।
শাব্দিক অর্থ : اَعُوْذُ আমি আশ্রয় চাই, بِاللهِ আল্লাহর কাছে, مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ বিতাড়িত শয়তান হতে।
অর্থ : আমি বিতাড়িত শয়তান হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই।
রাসূলুল্লাহ ﷺ সালাতের মধ্যে নিম্নের বাক্যের মাধ্যমে শয়তান থেকে আশ্রয় চাইতেন।
أَعُوْذُ بِاللهِ السَّمِيْعِ الْعَلِيْمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ مِنْ هَمْزِهٖ وَنَفْخِهٖ وَنَفْثِهٖ
উচ্চারণ : আঊযু বিল্লা-হিস সামী‘ইল ‘আলীমি মিনাশ্ শায়ত্বা-নির রাজীম, মিন হাম্যিহী ওয়া নাফ্খিহী ওয়া নাফ্সিহী।
শাব্দিক অর্থ : أَعُوْذُ আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি بِاللهِ আল্লাহর নিকট السَّمِيْعِ যিনি সবকিছু শ্রবণ করেন الْعَلِيْمِ সবকিছু জানেন مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ বিতাড়িত শয়তান হতে مِنْ هَمْزِهٖ তার কুমন্ত্রণা হতে, وَنَفْخِهٖ তার ফুঁৎকার হতে وَنَفْثِهٖ এবং তার প্ররোচনা হতে।
অর্থ : আমি সর্বজ্ঞ ও সর্বশ্রোতা আল্লাহর নিকট শয়তানের কুমন্ত্রণা, ফুঁৎকার ও প্ররোচনা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। [আবু দাউদ, হা/৭৭৫; তিরমিযী, হা/২৪২; ইবনে মাজাহ, হা/৮০৭; মিশকাত, হা/১২১৭; সহীহ ইবনে হিববান, হা/১৭৭৯; দার কুতনী, হা/১১৫৪; বায়হাকী, হা/২১৮৫।]
মনে রাখতে হবে যে, শয়তান থেকে বাঁচতে হলে কেবল ‘আউযুবিল্লাহ’ মুখে পড়াই যথেষ্ট নয়। যেসকল কাজকর্মে শয়তান খুশী হয়, সেসব কাজকর্মও ছাড়তে হবে এবং আল্লাহর পছন্দনীয় কাজসমূহ পালন করতে হবে। যেমন- একজন লোক রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে, হঠাৎ করে সামনে তার দুশমন উপস্থিত হলো যে তাকে হত্যা করতে প্রস্তুত। এখন যদি লোকটি না পালায় ঐ স্থানে থেকে বলে, ‘‘আমি আশ্রয় চাই’’ তবে সে বাঁচতে পারবে না। তাই শয়তান যেসব কাজের নির্দেশ দেয় তা করতে নেই। আর শয়তান যেদিকে ডাকবে সেদিকে যেতে নেই। এটা করতে পারলেই ‘‘আঊযুবিল্লাহ’’ পড়া সার্থক হবে।