hadith book logo

কিতাবুস্ সালাত

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪৩

কাতার সোজা করা

কাতার সোজা করা সালাতের পূর্ণতার অংশ এবং সালাতের সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত। কাতার সোজা না করলে আল্লাহ তা‘আলা মুসল্লিদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে দেন। আবু মাসঊদ আনসারী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ সালাতের শুরুতে আমাদের কাঁধগুলো হাত দিয়ে পরস্পরের সাথে মিলিয়ে দিতেন এবং বলতেন, তোমরা কাতার সোজা করো এবং বিভক্ত হয়ে দাঁড়িয়ো না। নতুবা তোমাদের অন্তরগুলো বিভক্ত হয়ে যাবে। [সহীহ মুসলিম, হা/১০০০; নাসাঈ, হা/৮১২; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭১৪৩; মিশকাত হা/১০৮৮।]

সামনের কাতারগুলো আগে পূর্ণ করতে হবে। কেননা ফেরেশতাগণ আল্লাহর সম্মুখে এভাবেই কাতার করে থাকেন। [আবু দাউদ হা/৬৬১; সহীহ ইবনে হিববান, হা/২১৬২; মুসনাদুল বাযযার, হা/৪২৮৯; বায়হাকী, হা/৪৯৭০।]

কাতার কীভাবে সোজা করবে :

কাঁধে কাঁধ ও পায়ে পা মিলিয়ে কাতার সোজা করতে হবে। আর এভাবে কাতারে দাঁড়ালে খুব সহজেই কাতার সোজা হয়ে যায়। তাছাড়া কাতার সোজা করার জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ-ও এ পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন। সুতরাং এটা সুন্নাত। কিমত্মু বর্তমান সমাজে অনেক মুসল্লিকেই দেখা যায় যে, তারা নিজেদের দুই পায়ের মাঝে চার আঙ্গুল ফাঁক করে কাতারে দাঁড়ান, পাশের মুসল্লির কাঁধের সাথে কাঁধ ও পায়ের সাথে পা মিলান না। ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল সব সময় একই জায়গায় চেপে রাখেন। এভাবে কাতারে দাঁড়ানোর কোন প্রমাণ সহীহ হাদীসসমূহে নেই। উপরমত্মু রাসূলুল্লাহ ﷺ মুক্তাদিগণকে সালাতে কাঁধের সাথে কাঁধ এবং পায়ের সাথে পা মিলিয়ে কাতার সোজা করে দাঁড়ানোর আদেশ দিয়েছেন। [আবু দাউদ, হা/৬৬৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/৫৭২৪; বায়হাকী, হা/৪৯৬৭; জামেউস সগীর, হা/২০৬৭; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৭৪৩; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৪৯৫।]

মসজিদে কাতারের জন্য দাগ টানা থাকলে দাগের মাথায় বুড়ো আঙ্গুল না রেখে পায়ের গোড়ালি দাগের সাথে রাখলে কাতার সঠিকভাবে সোজা হবে।