১
কিতাবুস্ সালাত
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬২
আযানের মর্ম অনুধাবন
আযান হচ্ছে জামাআতে সালাত আদায়ের জন্য এক অতুলনীয় আহবান এবং ইসলাম ধর্মের অন্যতম একটি প্রতীক। আযানের মাধ্যমে মুসলিমদেরকে জানানো হয় যে, এখন জামাআতের সাথে ফরয সালাত আদায়ের সময় হয়েছে। তাই আযান শোনার পর পরই সারা বিশ্বের মুমিন বান্দাগণ সব কাজ ফেলে রেখে আল্লাহর উদ্দেশ্যে জামাআতে সালাত আদায়ের জন্য মসজিদে ছুটে যান।
যখন সালাতের সময় হয়, তখন প্রত্যেক মসজিদে মুয়াজ্জিন কী কথাগুলো উচ্চারণ করেন- তা একটু লক্ষ্য করুন। আযানের শুরুতেই বিশ্বজাহানের পালনকর্তা আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়- ‘ আল্লা-হু আকবার’ ‘ আল্লা-হু আকবার’ (আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়)। আল্লাহ যখন বড় তখন তার তাওহীদের ঘোষণা দেয়া হয় এভাবে- ‘আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন প্রকৃত মাবুদ নেই)। তারপর নবী ﷺ এর রিসালাতের ঘোষণা দেয়া হয়- ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ’ (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ ﷺ আল্লাহর রাসূল)। তারপর কত সুন্দরভাবে মানুষকে সালাতের দিকে ডাকা হয়! ‘হাইয়া ‘আলাস সালাহ্’ (সালাতের দিকে আসো)। তারপর মানুষকে সফলতার দিকে আহবান করা হয়- ‘হাইয়া ‘আলাল ফালাহ’ (কল্যাণের দিকে আসো)। সবশেষে আবার আল্লাহর বড়ত্বের ঘোষণা দিয়ে এ আহবান শেষ করা হয়।
আযানের শব্দগুলোর প্রথমেই আল্লাহর বড়ত্ব ও তাঁর তাওহীদের কথা ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তারপর তাঁর রিসালাতের স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। তারপর সালাতের দিকে আহবান করা হয়েছে। তারপর কল্যাণ তথা সফলতার দিকে আহবান করা হয়েছে। কেননা প্রকৃত সফলতা এ কয়েকটি কাজের মধ্যেই নিহিত। প্রত্যেক মানুষ জীবনে সফলতা চায়। আর এ সফলতা অর্জনের জন্যই সারাজীবন সাধনা করে। এজন্য যাদের ঈমান আছে এবং যারা প্রকৃত সফলতা লাভ করতে চায়, তারা এ ডাক শুনে আর থেমে থাকতে পারে না। অফিসার অফিসে থাকতে পারে না, দোকানদার দোকানে বসে থাকতে পারে না, কাজের লোক আর কাজ করতে পারে না। পুরুষরা ছুটে চলে মসজিদের পানে, আর মহিলারা চলে যায় সালাতের স্থানে। কারণ তারা জানে যে, এখন আল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘আল্লাহ সবচেয়ে বড়’ তাঁর সামনে গিয়ে আমাকে হাযিরা দিতে হবে। আমি যদি এখন কাজের মধ্যে ব্যস্ত থাকি, তবে আমার কাজকে বড় বানিয়ে নিলাম, এটা কোন মুমিনের কাজ হতে পারে না। আর আল্লাহর ডাকে সাড়া না দিয়ে দুনিয়া অর্জনের কাজে ব্যস্ত থাকার মধ্যে কোন সফলতা থাকতে পারে না। প্রকৃত সফলতাই হচ্ছে আল্লাহর ডাকে সাড়া দেয়া। যখন আযান শুরু হয় তখন শয়তান পালিয়ে যায়। মানুষের জীবনের অনেক পাপকর্ম থেমে যায়। তাছাড়া এর বাক্যগুলোও খুবই শ্রুতিমধুর। এর প্রতিটি বাক্য মানবজাতিকে এক অজানা আকর্ষণে আকর্ষিত করে। কবি বলেন,
‘‘মর্মে মর্মে সেই সুর
বাজিল কি সুমধুর
আকুল হইল প্রাণ, নাচিল ধমনি
কী মধুর আযানের ধ্বনি।’’
যখন সালাতের সময় হয়, তখন প্রত্যেক মসজিদে মুয়াজ্জিন কী কথাগুলো উচ্চারণ করেন- তা একটু লক্ষ্য করুন। আযানের শুরুতেই বিশ্বজাহানের পালনকর্তা আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়- ‘ আল্লা-হু আকবার’ ‘ আল্লা-হু আকবার’ (আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়)। আল্লাহ যখন বড় তখন তার তাওহীদের ঘোষণা দেয়া হয় এভাবে- ‘আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন প্রকৃত মাবুদ নেই)। তারপর নবী ﷺ এর রিসালাতের ঘোষণা দেয়া হয়- ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ’ (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ ﷺ আল্লাহর রাসূল)। তারপর কত সুন্দরভাবে মানুষকে সালাতের দিকে ডাকা হয়! ‘হাইয়া ‘আলাস সালাহ্’ (সালাতের দিকে আসো)। তারপর মানুষকে সফলতার দিকে আহবান করা হয়- ‘হাইয়া ‘আলাল ফালাহ’ (কল্যাণের দিকে আসো)। সবশেষে আবার আল্লাহর বড়ত্বের ঘোষণা দিয়ে এ আহবান শেষ করা হয়।
আযানের শব্দগুলোর প্রথমেই আল্লাহর বড়ত্ব ও তাঁর তাওহীদের কথা ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তারপর তাঁর রিসালাতের স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। তারপর সালাতের দিকে আহবান করা হয়েছে। তারপর কল্যাণ তথা সফলতার দিকে আহবান করা হয়েছে। কেননা প্রকৃত সফলতা এ কয়েকটি কাজের মধ্যেই নিহিত। প্রত্যেক মানুষ জীবনে সফলতা চায়। আর এ সফলতা অর্জনের জন্যই সারাজীবন সাধনা করে। এজন্য যাদের ঈমান আছে এবং যারা প্রকৃত সফলতা লাভ করতে চায়, তারা এ ডাক শুনে আর থেমে থাকতে পারে না। অফিসার অফিসে থাকতে পারে না, দোকানদার দোকানে বসে থাকতে পারে না, কাজের লোক আর কাজ করতে পারে না। পুরুষরা ছুটে চলে মসজিদের পানে, আর মহিলারা চলে যায় সালাতের স্থানে। কারণ তারা জানে যে, এখন আল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘আল্লাহ সবচেয়ে বড়’ তাঁর সামনে গিয়ে আমাকে হাযিরা দিতে হবে। আমি যদি এখন কাজের মধ্যে ব্যস্ত থাকি, তবে আমার কাজকে বড় বানিয়ে নিলাম, এটা কোন মুমিনের কাজ হতে পারে না। আর আল্লাহর ডাকে সাড়া না দিয়ে দুনিয়া অর্জনের কাজে ব্যস্ত থাকার মধ্যে কোন সফলতা থাকতে পারে না। প্রকৃত সফলতাই হচ্ছে আল্লাহর ডাকে সাড়া দেয়া। যখন আযান শুরু হয় তখন শয়তান পালিয়ে যায়। মানুষের জীবনের অনেক পাপকর্ম থেমে যায়। তাছাড়া এর বাক্যগুলোও খুবই শ্রুতিমধুর। এর প্রতিটি বাক্য মানবজাতিকে এক অজানা আকর্ষণে আকর্ষিত করে। কবি বলেন,
‘‘মর্মে মর্মে সেই সুর
বাজিল কি সুমধুর
আকুল হইল প্রাণ, নাচিল ধমনি
কী মধুর আযানের ধ্বনি।’’