hadith book logo

কিতাবুস্ সালাত

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩

১ম পর্ব كِتَابُ الطَّهَارَةِ (কিতাবুত তাহারাত) পবিত্রতা অধ্যায় পবিত্রতার সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ

اَلطَّهَارَةُ শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে, পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি।

আর পারিভাষিক অর্থে তাহারাত হচ্ছে, যে অপবিত্রতা সালাত আদায় করতে বাধা প্রদান করে তা দূর করা।

পবিত্রতা দু’প্রকার। একটি হলো আত্মিক পবিত্রতা, অপরটি হলো শারীরিক পবিত্রতা।

১. আত্মিক পবিত্রতা :

আত্মার সাথে সম্পৃক্ত অপরাধমূলক কার্যাবলি হতে আত্মাকে পবিত্র করার মাধ্যমে আত্মিক পবিত্রতা অর্জন করতে হয়। যেমন- শিরকী ও বিদ‘আতী আকীদাহ পোষণ করা, সন্দেহ পোষণ করা, মুনাফিকী করা, রিয়া বা লোক দেখানো মনোভাব পোষণ করা, অহংকার করা, হাসাদ বা হিংসা করা, শত্রুতা পোষণ করা এবং কৃপণতা করা ইত্যাদি।

 শিরক হলো আল্লাহর সাথে অন্যের ইবাদাত করা, আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলির সাথে অপরকে অংশীদার সাব্যস্ত করা। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে সিজদা করা, কুরবানী করা, মান্নত করা, সাহায্য প্রার্থনা করা ইত্যাদি। শিরক থেকে অমত্মরকে পবিত্র করার উপায় হলো, পরিপূর্ণভাবে তাওহীদ অর্থাৎ আল্লাহর একত্ববাদকে মেনে নেয়া।

 বিদ‘আত হলো, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সুন্নাত অথবা সাহাবায়ে কেরামের সুন্নাত বর্জন করে নতুনভাবে কোন ইবাদাত আবিষ্কার করা। সুন্নাতের অনুসরণের মাধ্যমে বিদ‘আত থেকে বাঁচা যায়। আর সুন্নাতের অনুসরণ বর্জন করলে মানুষ বিদ‘আতে লিপ্ত হয়ে যায়।

 সন্দেহ হলো ঈমানের মৌলিক বিষয়সমূহের উপর পরিপূর্ণ দৃঢ়তা না থাকা। এ থেকে অমত্মরকে পবিত্র করার উপায় হলো, ঈমানের বিষয়সমূহের প্রতি দৃঢ়ভাবে আস্থা বা বিশ্বাস স্থাপন করা।

 নিফাক বা মুনাফিকী হলো বাহ্যিকভাবে ঈমান প্রকাশ করা কিন্তু অন্তরে কুফরী গোপন রাখা। এ রোগ থেকে অমত্মরকে পবিত্র করার উপায় হলো, বাহ্যিক ও আভ্যমত্মরীণভাবে ইসলামের সকল বিধিবিধান মেনে নেয়া এবং সত্যতার সাথে তা গ্রহণ করা।

 রিয়া হলো মানুষের প্রশংসা লাভের আশায় কোন ইবাদাত করা অথবা মানুষের সমালোচনার ভয়ে কোন ইবাদাত ত্যাগ করা। আর এসব ছোট শিরকের অন্তর্ভুক্ত। এর প্রতিকার হলো, ইখলাস তথা আমত্মরিকতার সাথে আল্লাহর ইবাদাত করা।

 অহংকার হলো গোঁড়ামিবশত সত্যকে গ্রহণ না করা, মানুষকে হেয়প্রতিপন্ন করা ও নিজেকে বড় মনে করা। এ থেকে অমত্মরকে পবিত্র করার উপায় হলো, বিনয় ও নম্রতা অবলম্বন করা।

 হাসাদ হলো অপরের সাথে হিংসা করা, মুসলিমদের সাথে শত্রুতামূলক আচরণ করা এবং তাদের অকল্যাণ কামনা করা। এ থেকে অমত্মরকে পবিত্র করার উপায় হলো, মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সহানুভূতি ও আমত্মরিকতা বজায় রাখা।

এ সকল অপরাধমূলক বিষয় হতে আত্মাকে মুক্ত রাখতে পারলে আত্মার পবিত্রতা অর্জিত হবে। আত্মা যখন পবিত্র হবে তখনই ইবাদাতের স্বাদ অনুভব করা যাবে এবং সালাতের মাহাত্ম্য বুঝা যাবে। আর তখনই সালাত বান্দাকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপযোগী করে তুলবে। অপরদিকে এ সকল পাপ কাজ করতে থাকলে অন্তর কলুষিত হয়ে যায়। ইবাদাত-বন্দেগীতে আকর্ষণ থাকে না এবং ইবাদাতের স্বাদও পাওয়া যায় না। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সকলের আত্মাকে পবিত্র রাখার তাওফীক দান করুন। আমীন!

যে সকল পাপ মানুষের আত্মাকে অপবিত্র করে এবং ঈমানকে ধ্বংস করে দেয়, সে সম্পর্কে বিসত্মারিত জানতে পড়ুন আমাদের বই ‘‘যেসব কারণে ঈমান ক্ষতিগ্রসত্ম হয়।’’

২. শারীরিক পবিত্রতা :

বাহ্যিক নাপাকী হতে শরীরকে পবিত্র করার মাধ্যমে শারীরিক পবিত্রতা অর্জন করতে হয়। আর এ নাপাকী দু’প্রকার :

 ছোট নাপাকী, যা থেকে পবিত্রতা অর্জন করার জন্য অযু করতে হয়।

 বড় নাপাকী, যা থেকে পবিত্রতা অর্জন করার জন্য গোসল করতে হয়।

আর কেউ যদি অযু ও গোসল করতে সক্ষম না হয়, তাহলে তাকে তায়াম্মুম করতে হয়।

শারীরিক পবিত্রতা অর্জনের পদ্ধতি :

ইসলামে শারীরিক পবিত্রতা অর্জনের পদ্ধতি তিনটি। আর তা হলো,

১. গোসল করা।

২. অযু করা এবং

৩. তায়াম্মুম করা।