১
কিতাবুস্ সালাত
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৩১
সুন্নাত সালাতের বিবরণ
ফরয সালাতের আগে ও পরে নবী ﷺ প্রতিদিন ১২ রাক‘আত সুন্নাত পড়তেন। এ সালাতকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (তাকিদপূর্ণ সুন্নাত) বলে। এ সালাতের অনেক গুরুত্ব ও ফযীলত রয়েছে। হাদীসে এসেছে,
عَنْ أُمِّ حَبِيْبَةَ زَوْجِ النَّبِىِّ -ﷺ - أَنَّهَا قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ -ﷺ - يَقُوْلُ : مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يُصَلِّى لِلّٰهِ كُلَّ يَوْمٍ ثِنْتَىْ عَشْرَةَ رَكْعَةً تَطَوُّعًا غَيْرَ فَرِيْضَةٍ إِلَّا بَنَى اللهُ لَه بَيْتًا فِى الْجَنَّةِ
নবী ﷺ এর স্ত্রী উম্মে হাবীবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছি, যদি কোন মুসলিম বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে প্রতিদিন ফরয সালাত ব্যতীত ১২ রাক‘আত নফল সালাত (যাকে আমরা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বলি) আদায় করে, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন। [সহীহ মুসলিম, হা/১৭২৯; আবু দাউদ, হা/১২৫২; তিরমিযী, হা/৪১৫।]
এ বার রাক‘আত সালাত হচ্ছে,
১. ফজরের ফরয সালাতের পূর্বে দু’রাক‘আত।
২. যোহরের পূর্বে চার রাক‘আত ও পরে দু’রাক‘আত।
৩. মাগরিবের পর দু’রাক‘আত এবং
৪. এশার পর দু’রাক‘আত।
ফজরের সুন্নাত
সুন্নাতে মুয়াক্কাদার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ফজরের দুই রাক‘আত সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ ﷺ এ সুন্নাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন। এমনকি সফর অবস্থায়ও তিনি এ সুন্নাত ছাড়তেন না। তিনি বলেন, ফজরের দু’রাক‘আত সুন্নাত দুনিয়া এবং দুনিয়ার মাঝখানে যা কিছু রয়েছে সবকিছু থেকে উত্তম। [সহীহ মুসলিম, হা/১৭২১; তিরমিযী, হা/৪১৬; নাসাঈ, হা/১৭৫৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬৩২৯; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/১১০৭; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৫৭১; জামেউস সগীর, হা/৫৮৩০; মিশকাত, হা/১১৬৩।]
রাসূলুল্লাহ ﷺ ফজরের দু’রাক‘আত সুন্নাত হালকাভাবে আদায় করতেন। [মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/২৬৪; সহীহ বুখারী, হা/৬১৯; সহীহ মুসলিম, হা/১৭১১; মিশকাত, হা/১১৬০।] রাসূলুল্লাহ ﷺ ফজরের দু’রাক‘আত সুন্নাতের প্রথম রাক‘আতে সূরা কাফিরূন এবং দ্বিতীয় রাক‘আতে সূরা ইখলাস পাঠ করতেন। [সহীহ মুসলিম, হা/১৭২৩; আবু দাউদ, হা/১২৫৮; তিরমিযী, হা/৮৬৯; নাসাঈ, হা/৯৪৫; মুসত্মাখরাজে আবু আওয়ানা, হা/১৭২৭; মিশকাত, হা/৮৩২।]
ফজরের দু’রাক‘আত সুন্নাত আদায় করার পর ডান কাতে শয়ন করে একটু বিশ্রাম নেয়া মুস্তাহাব। রাসূলুল্লাহ ﷺ রাতে দীর্ঘক্ষণ তাহাজ্জুদ আদায় করতেন। শেষে যখন ফজরের সময় হতো তখন ফজরের সুন্নাত আদায় করে ডান কাতে শয়ন করে একটু বিশ্রাম নিতেন। যতক্ষণ না মুয়াজ্জিন ইকামত দিতেন। [মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/২৬২; সহীহ বুখারী, হা/৬২৬; সহীহ মুসলিম, হা/১৭৫১; আবু দাউদ, হা/১৩৩৮; নাসাঈ, হা/৬৮৫; মিশকাত, হা/১১৮৮।]
যারা ঘরে সুন্নাত পড়বে তাদের জন্য এই আমল। মসজিদে সুন্নাত আদায় করে শয়ন করার প্রমাণ নেই।
ফজরের সুন্নাত ফরয সালাতের পর আদায় করা যায় :
বিশুদ্ধমতে ফজরের ফরয আদায়ের পর পূর্বের দু’রাক‘আত সুন্নাত আদায় করা শরীয়তসম্মত। এটা ফজরের পর সালাত আদায়ের নিষিদ্ধতার অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে সুযোগ থাকলে এবং ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকলে তা আদায় করার জন্য সূর্য উঠার পর পর্যন্ত অপেক্ষা করা উত্তম। [ফতওয়ায়ে আরকানুল ইসলাম, ফঃ নং/২৮৫।]
যোহরের সুন্নাত :
যোহরের পূর্বে কোন বর্ণনায় এসেছে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করা সুন্নাত। আবার কোন বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ যোহরের পূর্বে চার রাক‘আত সুন্নাত পড়তেন এবং পরে দু’রাক‘আত পড়তেন। [সহীহ বুখারী, হা/১১৬৯; নাসাঈ, হা/১৭৯৫; ইবনে মাজাহ, হা/১১৪০; মুসনাদে আহমাদ, হা/৫৭৫৮।]
এজন্য কোন সময় দু’রাক‘আত এবং কোন সময় চার রাক‘আত পড়ে দু’হাদীসের উপর আমল করা যায়।
কেউ যদি যোহরের পূর্বে সুন্নাত আদায় করতে না পারে তবে ফরযের পর তা আদায় করতে পারবে। [তিরমিযী, হা/৪২৬; শারহুস সুন্নাহ, হা/৮৯০।]
আসরের সুন্নাত :
আসরের পূর্বে কোন সুন্নাতে মুয়াক্কাদা নেই। তবে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করা মুস্তাহাব। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, প্রত্যেক দু’আযানের মধ্যে সালাত আছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রত্যেক আযান এবং ইকামতের মধ্যে কমপক্ষে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করা মুস্তাহাব। [সহীহ বুখারী, হা/৬২৪; সহীহ মুসলিম, হা/৮৩৮।]
আসরের ফরয আদায়ের পর কোন সুন্নাত বা নফল সালাত নেই।
মাগরিবের সুন্নাত :
যে ব্যক্তি ইচ্ছা করবে সে মাগরিবের ফরযের পূর্বে দু’রাক‘আত সুন্নাত পড়তে পারবে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, তোমরা মাগরিবের পূর্বে সালাত আদায় করো, তোমরা মাগরিবের পূর্বে সালাত আদায় করো। তৃতীয়বারে বললেন, যে চায় তার জন্য। [সহীহ বুখারী, হা/১১২৯; আবু দাউদ, হা/১২৮১।]
তাছাড়া অন্য হাদীসে এসেছে, প্রত্যেক আযান ও ইকামতের মধ্যে সালাত রয়েছে। এ হাদীস দ্বারাও মাগরিবের পূর্বে দু’রাক‘আত সালাত আদায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়।
মাগরিবের পরে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করা সুন্নাত। এ সালাতে প্রথম রাক‘আতে সূরা কাফিরূন এবং দ্বিতীয় রাক‘আতে সূরা ইখলাস পাঠ করা উত্তম। [তিরমিযী, হা/৪৩১; ইবনে মাজাহ, হা/১১৬৬।]
এশার সুন্নাত :
পূর্বের উল্লেখিত হাদীসের আলোকে এশার সালাতের পূর্বে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করা মুস্তাহাব এবং এশার পরে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করা সুন্নাত।
সুন্নাত সালাত আদায় করার জন্য স্থান পরিবর্তন করা উত্তম :
মু‘আবিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমরা যেন এক সালাতের সাথে অন্য সালাতকে মিলিয়ে না দেই। যতক্ষণ পর্যন্ত কথা না বলি বা বের না হয়ে যাই। [সহীহ মুসলিম, হা/২০৭৯; আবু দাউদ, হা/১১৩১; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬৯৫৭; জামেউস সগীর, হা/১৩৪৩৫।]
এ হাদীস থেকে আলেমগণ বলেন, ফরয ও সুন্নাতের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য মধ্যবর্তী সময়ে কথা বলা বা স্থান পরিবর্তন করা উচিত। [ফতওয়ায়ে আরকানুল ইসলাম, ফঃ নং/২৮৮।]
সুন্নাতের সময় অতিবাহিত হয়ে গেলে তা পরে আদায় করা যায় :
যদি সুন্নাত সালাতের সময় অতিবাহিত হয়ে যায়, তাহলে তা পরে আদায় করা যায়।
উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ যোহরের ফরযের পর ব্যস্ততার কারণে দু’রাক‘আত সুন্নাত আদায় করতে না পারলে, আসরের পর তা আদায় করতেন। [সহীহ বুখারী, হা/১২৩৩; সহীহ মুসলিম, হা/১৩৭০; আবু দাউদ, হা/১২৭৫; জামেউস সগীর, হা/১৩৮৫৪; মিশকাত, হা/১০৪৩।]
নফল বা সুন্নাত সালাত আদায়কালে ইকামত হয়ে গেলে করণীয় :
ইকামত দেয়ার সময় যদি কেউ নফল বা সুন্নাত সালাতের শেষ রাক‘আতে থাকে তবে সে হালকা করে সেই রাক‘আত পূর্ণ করে নেবে। আর যদি সালাত বেশি বাকী থাকে তবে সালাত ছেড়ে দিতে হবে। কারণ রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যখন কোন সালাতের ইকামত দেয়া হয় তখন উক্ত ফরয সালাত ছাড়া আর কোন সালাত নেই। [সহীহ মুসলিম, হা/১৬৭৮-৭৯; আবু দাউদ, হা/১২৬৮; তিরমিযী, হা/৪২১; নাসাঈ, হা/৮৬৫; ইবনে মাজাহ, হা/১১৫১; মুসনাদে আহমাদ, হা/৮৩৬১; মিশকাত, হা/১০৫৮।]
عَنْ أُمِّ حَبِيْبَةَ زَوْجِ النَّبِىِّ -ﷺ - أَنَّهَا قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ -ﷺ - يَقُوْلُ : مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يُصَلِّى لِلّٰهِ كُلَّ يَوْمٍ ثِنْتَىْ عَشْرَةَ رَكْعَةً تَطَوُّعًا غَيْرَ فَرِيْضَةٍ إِلَّا بَنَى اللهُ لَه بَيْتًا فِى الْجَنَّةِ
নবী ﷺ এর স্ত্রী উম্মে হাবীবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছি, যদি কোন মুসলিম বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে প্রতিদিন ফরয সালাত ব্যতীত ১২ রাক‘আত নফল সালাত (যাকে আমরা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বলি) আদায় করে, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন। [সহীহ মুসলিম, হা/১৭২৯; আবু দাউদ, হা/১২৫২; তিরমিযী, হা/৪১৫।]
এ বার রাক‘আত সালাত হচ্ছে,
১. ফজরের ফরয সালাতের পূর্বে দু’রাক‘আত।
২. যোহরের পূর্বে চার রাক‘আত ও পরে দু’রাক‘আত।
৩. মাগরিবের পর দু’রাক‘আত এবং
৪. এশার পর দু’রাক‘আত।
ফজরের সুন্নাত
সুন্নাতে মুয়াক্কাদার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ফজরের দুই রাক‘আত সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ ﷺ এ সুন্নাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন। এমনকি সফর অবস্থায়ও তিনি এ সুন্নাত ছাড়তেন না। তিনি বলেন, ফজরের দু’রাক‘আত সুন্নাত দুনিয়া এবং দুনিয়ার মাঝখানে যা কিছু রয়েছে সবকিছু থেকে উত্তম। [সহীহ মুসলিম, হা/১৭২১; তিরমিযী, হা/৪১৬; নাসাঈ, হা/১৭৫৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬৩২৯; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/১১০৭; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৫৭১; জামেউস সগীর, হা/৫৮৩০; মিশকাত, হা/১১৬৩।]
রাসূলুল্লাহ ﷺ ফজরের দু’রাক‘আত সুন্নাত হালকাভাবে আদায় করতেন। [মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/২৬৪; সহীহ বুখারী, হা/৬১৯; সহীহ মুসলিম, হা/১৭১১; মিশকাত, হা/১১৬০।] রাসূলুল্লাহ ﷺ ফজরের দু’রাক‘আত সুন্নাতের প্রথম রাক‘আতে সূরা কাফিরূন এবং দ্বিতীয় রাক‘আতে সূরা ইখলাস পাঠ করতেন। [সহীহ মুসলিম, হা/১৭২৩; আবু দাউদ, হা/১২৫৮; তিরমিযী, হা/৮৬৯; নাসাঈ, হা/৯৪৫; মুসত্মাখরাজে আবু আওয়ানা, হা/১৭২৭; মিশকাত, হা/৮৩২।]
ফজরের দু’রাক‘আত সুন্নাত আদায় করার পর ডান কাতে শয়ন করে একটু বিশ্রাম নেয়া মুস্তাহাব। রাসূলুল্লাহ ﷺ রাতে দীর্ঘক্ষণ তাহাজ্জুদ আদায় করতেন। শেষে যখন ফজরের সময় হতো তখন ফজরের সুন্নাত আদায় করে ডান কাতে শয়ন করে একটু বিশ্রাম নিতেন। যতক্ষণ না মুয়াজ্জিন ইকামত দিতেন। [মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/২৬২; সহীহ বুখারী, হা/৬২৬; সহীহ মুসলিম, হা/১৭৫১; আবু দাউদ, হা/১৩৩৮; নাসাঈ, হা/৬৮৫; মিশকাত, হা/১১৮৮।]
যারা ঘরে সুন্নাত পড়বে তাদের জন্য এই আমল। মসজিদে সুন্নাত আদায় করে শয়ন করার প্রমাণ নেই।
ফজরের সুন্নাত ফরয সালাতের পর আদায় করা যায় :
বিশুদ্ধমতে ফজরের ফরয আদায়ের পর পূর্বের দু’রাক‘আত সুন্নাত আদায় করা শরীয়তসম্মত। এটা ফজরের পর সালাত আদায়ের নিষিদ্ধতার অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে সুযোগ থাকলে এবং ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকলে তা আদায় করার জন্য সূর্য উঠার পর পর্যন্ত অপেক্ষা করা উত্তম। [ফতওয়ায়ে আরকানুল ইসলাম, ফঃ নং/২৮৫।]
যোহরের সুন্নাত :
যোহরের পূর্বে কোন বর্ণনায় এসেছে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করা সুন্নাত। আবার কোন বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ যোহরের পূর্বে চার রাক‘আত সুন্নাত পড়তেন এবং পরে দু’রাক‘আত পড়তেন। [সহীহ বুখারী, হা/১১৬৯; নাসাঈ, হা/১৭৯৫; ইবনে মাজাহ, হা/১১৪০; মুসনাদে আহমাদ, হা/৫৭৫৮।]
এজন্য কোন সময় দু’রাক‘আত এবং কোন সময় চার রাক‘আত পড়ে দু’হাদীসের উপর আমল করা যায়।
কেউ যদি যোহরের পূর্বে সুন্নাত আদায় করতে না পারে তবে ফরযের পর তা আদায় করতে পারবে। [তিরমিযী, হা/৪২৬; শারহুস সুন্নাহ, হা/৮৯০।]
আসরের সুন্নাত :
আসরের পূর্বে কোন সুন্নাতে মুয়াক্কাদা নেই। তবে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করা মুস্তাহাব। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, প্রত্যেক দু’আযানের মধ্যে সালাত আছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রত্যেক আযান এবং ইকামতের মধ্যে কমপক্ষে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করা মুস্তাহাব। [সহীহ বুখারী, হা/৬২৪; সহীহ মুসলিম, হা/৮৩৮।]
আসরের ফরয আদায়ের পর কোন সুন্নাত বা নফল সালাত নেই।
মাগরিবের সুন্নাত :
যে ব্যক্তি ইচ্ছা করবে সে মাগরিবের ফরযের পূর্বে দু’রাক‘আত সুন্নাত পড়তে পারবে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, তোমরা মাগরিবের পূর্বে সালাত আদায় করো, তোমরা মাগরিবের পূর্বে সালাত আদায় করো। তৃতীয়বারে বললেন, যে চায় তার জন্য। [সহীহ বুখারী, হা/১১২৯; আবু দাউদ, হা/১২৮১।]
তাছাড়া অন্য হাদীসে এসেছে, প্রত্যেক আযান ও ইকামতের মধ্যে সালাত রয়েছে। এ হাদীস দ্বারাও মাগরিবের পূর্বে দু’রাক‘আত সালাত আদায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়।
মাগরিবের পরে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করা সুন্নাত। এ সালাতে প্রথম রাক‘আতে সূরা কাফিরূন এবং দ্বিতীয় রাক‘আতে সূরা ইখলাস পাঠ করা উত্তম। [তিরমিযী, হা/৪৩১; ইবনে মাজাহ, হা/১১৬৬।]
এশার সুন্নাত :
পূর্বের উল্লেখিত হাদীসের আলোকে এশার সালাতের পূর্বে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করা মুস্তাহাব এবং এশার পরে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করা সুন্নাত।
সুন্নাত সালাত আদায় করার জন্য স্থান পরিবর্তন করা উত্তম :
মু‘আবিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমরা যেন এক সালাতের সাথে অন্য সালাতকে মিলিয়ে না দেই। যতক্ষণ পর্যন্ত কথা না বলি বা বের না হয়ে যাই। [সহীহ মুসলিম, হা/২০৭৯; আবু দাউদ, হা/১১৩১; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬৯৫৭; জামেউস সগীর, হা/১৩৪৩৫।]
এ হাদীস থেকে আলেমগণ বলেন, ফরয ও সুন্নাতের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য মধ্যবর্তী সময়ে কথা বলা বা স্থান পরিবর্তন করা উচিত। [ফতওয়ায়ে আরকানুল ইসলাম, ফঃ নং/২৮৮।]
সুন্নাতের সময় অতিবাহিত হয়ে গেলে তা পরে আদায় করা যায় :
যদি সুন্নাত সালাতের সময় অতিবাহিত হয়ে যায়, তাহলে তা পরে আদায় করা যায়।
উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ যোহরের ফরযের পর ব্যস্ততার কারণে দু’রাক‘আত সুন্নাত আদায় করতে না পারলে, আসরের পর তা আদায় করতেন। [সহীহ বুখারী, হা/১২৩৩; সহীহ মুসলিম, হা/১৩৭০; আবু দাউদ, হা/১২৭৫; জামেউস সগীর, হা/১৩৮৫৪; মিশকাত, হা/১০৪৩।]
নফল বা সুন্নাত সালাত আদায়কালে ইকামত হয়ে গেলে করণীয় :
ইকামত দেয়ার সময় যদি কেউ নফল বা সুন্নাত সালাতের শেষ রাক‘আতে থাকে তবে সে হালকা করে সেই রাক‘আত পূর্ণ করে নেবে। আর যদি সালাত বেশি বাকী থাকে তবে সালাত ছেড়ে দিতে হবে। কারণ রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যখন কোন সালাতের ইকামত দেয়া হয় তখন উক্ত ফরয সালাত ছাড়া আর কোন সালাত নেই। [সহীহ মুসলিম, হা/১৬৭৮-৭৯; আবু দাউদ, হা/১২৬৮; তিরমিযী, হা/৪২১; নাসাঈ, হা/৮৬৫; ইবনে মাজাহ, হা/১১৫১; মুসনাদে আহমাদ, হা/৮৩৬১; মিশকাত, হা/১০৫৮।]