১
কিতাবুস্ সালাত
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৫
ইস্তিঞ্জা বা মলমূত্র থেকে পাক হওয়া
ইস্তিঞ্জার পরিচয় :
ইস্তিঞ্জার আভিধানিক অর্থ হচ্ছে, পরিত্রাণ পাওয়া। একে ইস্তিঞ্জা এজন্যই বলে যে, এর মাধ্যমে নাপাক দূরীভূত করা হয়।
পরিভাষায় : পানি, মাটি, পাথর, টিসু বা অনুরূপ কিছু দ্বারা দু’রাস্তা দিয়ে নির্গত নাপাকী দূর করাকে ইস্তিঞ্জা বলে।
ইস্তিঞ্জার হুকুম :
দু’রাস্তা দিয়ে স্বভাবগতভাবে যা নির্গত হয়, যেমন- মযী, প্রস্রাব-পায়খানা ইত্যাদির ক্ষেত্রে ইস্তিঞ্জা করা ওয়াজিব।
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ -ﷺ - قَالَ : إِذَا ذَهَبَ أَحَدُكُمْ إِلَى الْغَائِطِ فَلْيَذْهَبْ مَعَهُ بِثَلَاثَةِ أَحْجَارٍ يَسْتَطِيْبُ بِهِنَّ فَإِنَّهَا تُجْزِئُ عَنْهُ
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন পায়খানায় যায় তখন সে যেন তার সাথে তিনটি পাথর নিয়ে যায়, যা দ্বারা সে পবিত্রতা অর্জন করবে এবং এটাই তার জন্য যথেষ্ট। [শাওয়াহেদের কারণে হাসান; আবু দাউদ, হা/৪০; নাসাঈ, হ১/১৮; মুসনাদে আহমাদ, ৬/১০৮-১৩৩।]
যেসব বসত্মু দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা বৈধ :
১. জমাটবদ্ধ পদার্থ যেমন পাথর, মাটি, নেকড়া এবং টিসু ইত্যাদি যা দ্বারা নাপাকী দূর করা যায় এমনসব বসত্মু দ্বারা ইসিত্মঞ্জা করা বৈধ।
عَنْ سَلْمَانَ قَالَ قِيلَ لَهُ قَدْ عَلَّمَكُمْ نَبِيُّكُمْ -ﷺ - كُلَّ شَىْءٍ حَتّٰى الْخِرَاءَةَ . قَالَ فَقَالَ أَجَلْ لَقَدْ نَهَانَا أَنْ نَسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةَ لِغَائِطٍ أَوْ بَوْلٍ أَوْ أَنْ نَسْتَنْجِىَ بِالْيَمِيْنِ أَوْ أَنْ نَسْتَنْجِىَ بِأَقَلَّ مِنْ ثَلَاثَةِ أَحْجَارٍ أَوْ أَنْ نَسْتَنْجِىَ بِرَجِيعٍ أَوْ بِعَظْمٍ
সালমান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তাকে জিজ্ঞেস করা হলো যে, তোমাদের নবী ﷺ তোমাদেরকে সবকিছুই শিক্ষা দিয়ে থাকেন। এমনকি মলত্যাগের বিষয়ও। তখন তিনি বললেন, হ্যাঁ- নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে ক্বিবলামুখী হয়ে প্রস্রাব-পায়খানা করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আরো বলেছেন, আমরা যেন ডান হাত দিয়ে ইস্তিঞ্জা না করি, তিনটি পাথরের কমে যেন ইস্তিঞ্জা না করি এবং গোবর ও হাড্ডি দ্বারা যেন ইস্তিঞ্জা না করি (এসব ব্যাপারেও নিষেধাজ্ঞারোপ করেছেন)। [সহীহ মুসলিম, হা/৬২৯; আবু দাউদ, হা/৭; তিরমিযী, হা/১৬; নাসাঈ, হা/৪১।]
যদি তিনটি পাথর বা এ জাতীয় কোন কিছু দ্বারা নাপাকমুক্ত হওয়া যায় তবে তাই যথেষ্ট। কিমত্মু যদি এতে পাক না হয় তবে তিনটির বেশি নেয়া ওয়াজিব হবে, যতক্ষণ না নাপাকী দূরীভূত হবে।
২. পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা :
عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي مَيْمُوْنَةَ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُوْلُ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَدْخُلُ الْخَلَاءَ فَأَحْمِلُ أَنَا وَغُلَامٌ إِدَاوَةً مِنْ مَاءٍ وَعَنَزَةً يَسْتَنْجِيْ بِالْمَاءِ
আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন পায়খানায় যেতেন, তখন আমি এবং ছোট এক বালক তাঁর জন্য পানির পাত্র এবং ‘আনাজাহ’ [‘আনাজাহ’ বলা হয় এমন লাঠিকে, যা লাঠি হতে বড় এবং বর্শা হতে ছোট, যার মাথায় ছিল বর্শার মতো লৌহ শলাকা।] নামক লাঠি নিয়ে যেতাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ ﷺ উক্ত পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করতেন। [সহীহ বুখারী, হা/১৫২; সহীহ মুসলিম, হা/৬৪৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৭৭৭; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হা/৮৭।]
পাথর দ্বারা ইস্তিঞ্জা করার চেয়ে পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করাই উত্তম। আল্লাহ তা‘আলা পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করার জন্য কুবাবাসীর প্রশংসা করেছেন। হাদীসে এসেছে,
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِىِّ -ﷺ - قَالَ : نَزَلَتْ هٰذِهِ الْآيَةُ فِى أَهْلِ قُبَاءَ ﴿ فِيْهِ رِجَالٌ يُحِبُّوْنَ أَنْ يَّتَطَهَّرُوْا﴾ قَالَ كَانُوْا يَسْتَنْجُوْنَ بِالْمَاءِ فَنَزَلَتْ فِيْهِمْ هٰذِهِ الْآيَةُ
আবু হুরায়রা (রাঃ) নবী ﷺ হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, এ আয়াতটি কুবাবাসীদের প্রশংসায় বর্ণিত হয়েছে- ‘‘এখানে কিছু লোক রয়েছে, যারা পবিত্রতাকে পছন্দ করে’’ [সূরা তাওবা- ১০৮।] তারপর রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, তারা পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করে। ফলে আল্লাহ তা‘আলা তাদের ব্যাপারে এ আয়াত অবতীর্ণ করেন। [আবু দাউদ, হা/৪৪; তিরমিযী, হা/৩১০০; ইবনে মাজাহ, হা/৩৫৭; সনদ যঈফ, তবে শাওয়াহেদের কারণে তা শক্তিশালী হয়েছে।]
ইস্তিঞ্জার আভিধানিক অর্থ হচ্ছে, পরিত্রাণ পাওয়া। একে ইস্তিঞ্জা এজন্যই বলে যে, এর মাধ্যমে নাপাক দূরীভূত করা হয়।
পরিভাষায় : পানি, মাটি, পাথর, টিসু বা অনুরূপ কিছু দ্বারা দু’রাস্তা দিয়ে নির্গত নাপাকী দূর করাকে ইস্তিঞ্জা বলে।
ইস্তিঞ্জার হুকুম :
দু’রাস্তা দিয়ে স্বভাবগতভাবে যা নির্গত হয়, যেমন- মযী, প্রস্রাব-পায়খানা ইত্যাদির ক্ষেত্রে ইস্তিঞ্জা করা ওয়াজিব।
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ -ﷺ - قَالَ : إِذَا ذَهَبَ أَحَدُكُمْ إِلَى الْغَائِطِ فَلْيَذْهَبْ مَعَهُ بِثَلَاثَةِ أَحْجَارٍ يَسْتَطِيْبُ بِهِنَّ فَإِنَّهَا تُجْزِئُ عَنْهُ
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন পায়খানায় যায় তখন সে যেন তার সাথে তিনটি পাথর নিয়ে যায়, যা দ্বারা সে পবিত্রতা অর্জন করবে এবং এটাই তার জন্য যথেষ্ট। [শাওয়াহেদের কারণে হাসান; আবু দাউদ, হা/৪০; নাসাঈ, হ১/১৮; মুসনাদে আহমাদ, ৬/১০৮-১৩৩।]
যেসব বসত্মু দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা বৈধ :
১. জমাটবদ্ধ পদার্থ যেমন পাথর, মাটি, নেকড়া এবং টিসু ইত্যাদি যা দ্বারা নাপাকী দূর করা যায় এমনসব বসত্মু দ্বারা ইসিত্মঞ্জা করা বৈধ।
عَنْ سَلْمَانَ قَالَ قِيلَ لَهُ قَدْ عَلَّمَكُمْ نَبِيُّكُمْ -ﷺ - كُلَّ شَىْءٍ حَتّٰى الْخِرَاءَةَ . قَالَ فَقَالَ أَجَلْ لَقَدْ نَهَانَا أَنْ نَسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةَ لِغَائِطٍ أَوْ بَوْلٍ أَوْ أَنْ نَسْتَنْجِىَ بِالْيَمِيْنِ أَوْ أَنْ نَسْتَنْجِىَ بِأَقَلَّ مِنْ ثَلَاثَةِ أَحْجَارٍ أَوْ أَنْ نَسْتَنْجِىَ بِرَجِيعٍ أَوْ بِعَظْمٍ
সালমান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তাকে জিজ্ঞেস করা হলো যে, তোমাদের নবী ﷺ তোমাদেরকে সবকিছুই শিক্ষা দিয়ে থাকেন। এমনকি মলত্যাগের বিষয়ও। তখন তিনি বললেন, হ্যাঁ- নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে ক্বিবলামুখী হয়ে প্রস্রাব-পায়খানা করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আরো বলেছেন, আমরা যেন ডান হাত দিয়ে ইস্তিঞ্জা না করি, তিনটি পাথরের কমে যেন ইস্তিঞ্জা না করি এবং গোবর ও হাড্ডি দ্বারা যেন ইস্তিঞ্জা না করি (এসব ব্যাপারেও নিষেধাজ্ঞারোপ করেছেন)। [সহীহ মুসলিম, হা/৬২৯; আবু দাউদ, হা/৭; তিরমিযী, হা/১৬; নাসাঈ, হা/৪১।]
যদি তিনটি পাথর বা এ জাতীয় কোন কিছু দ্বারা নাপাকমুক্ত হওয়া যায় তবে তাই যথেষ্ট। কিমত্মু যদি এতে পাক না হয় তবে তিনটির বেশি নেয়া ওয়াজিব হবে, যতক্ষণ না নাপাকী দূরীভূত হবে।
২. পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা :
عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي مَيْمُوْنَةَ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُوْلُ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَدْخُلُ الْخَلَاءَ فَأَحْمِلُ أَنَا وَغُلَامٌ إِدَاوَةً مِنْ مَاءٍ وَعَنَزَةً يَسْتَنْجِيْ بِالْمَاءِ
আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন পায়খানায় যেতেন, তখন আমি এবং ছোট এক বালক তাঁর জন্য পানির পাত্র এবং ‘আনাজাহ’ [‘আনাজাহ’ বলা হয় এমন লাঠিকে, যা লাঠি হতে বড় এবং বর্শা হতে ছোট, যার মাথায় ছিল বর্শার মতো লৌহ শলাকা।] নামক লাঠি নিয়ে যেতাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ ﷺ উক্ত পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করতেন। [সহীহ বুখারী, হা/১৫২; সহীহ মুসলিম, হা/৬৪৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৭৭৭; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হা/৮৭।]
পাথর দ্বারা ইস্তিঞ্জা করার চেয়ে পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করাই উত্তম। আল্লাহ তা‘আলা পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করার জন্য কুবাবাসীর প্রশংসা করেছেন। হাদীসে এসেছে,
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِىِّ -ﷺ - قَالَ : نَزَلَتْ هٰذِهِ الْآيَةُ فِى أَهْلِ قُبَاءَ ﴿ فِيْهِ رِجَالٌ يُحِبُّوْنَ أَنْ يَّتَطَهَّرُوْا﴾ قَالَ كَانُوْا يَسْتَنْجُوْنَ بِالْمَاءِ فَنَزَلَتْ فِيْهِمْ هٰذِهِ الْآيَةُ
আবু হুরায়রা (রাঃ) নবী ﷺ হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, এ আয়াতটি কুবাবাসীদের প্রশংসায় বর্ণিত হয়েছে- ‘‘এখানে কিছু লোক রয়েছে, যারা পবিত্রতাকে পছন্দ করে’’ [সূরা তাওবা- ১০৮।] তারপর রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, তারা পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করে। ফলে আল্লাহ তা‘আলা তাদের ব্যাপারে এ আয়াত অবতীর্ণ করেন। [আবু দাউদ, হা/৪৪; তিরমিযী, হা/৩১০০; ইবনে মাজাহ, হা/৩৫৭; সনদ যঈফ, তবে শাওয়াহেদের কারণে তা শক্তিশালী হয়েছে।]