১
কিতাবুস্ সালাত
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৩৪
সালাতের মধ্যে যেসব কাজ করা নিষিদ্ধ
১. এদিক-ওদিক তাকিয়ে দেখা :
আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, লোকেরা যেন অবশ্যই সালাতের মধ্যে আকাশের দিকে তাকানো হতে বিরত হয়, নচেৎ তাদের চক্ষু ছিনিয়ে নেয়া হবে। [সহীহ বুখারী, হা/৭৫০; সহীহ মুসলিম, হা/৯৯৪; ইবনে মাজাহ, হা/১০৪৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/৮৩৮৯; মিশকাত, হা/৯৮৩।]
২. চোখ বন্ধ করা :
রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন সালাত আদায় করতেন তখন তাঁর দৃষ্টি থাকত সিজদার জায়গায়। তাশাহ্হুদে বসা অবস্থায় তিনি তর্জনী আঙ্গুলের উপর নজর রাখতেন। এ ছাড়া তিনি চোখ খুলে রাখতেন বলেই আয়েশা (রাঃ) এর দেয়ালে টাঙ্গানো ছবিযুক্ত পর্দা তাঁর সম্মুখ থেকে সরিয়ে নিতে বলেছিলেন। সুতরাং সুন্নাত হলো, চোখ খোলা রেখে সালাত আদায় করা।
তবে যদি একান্ত প্রয়োজন পড়ে; যেমন সামনে এমন কোন জিনিস থাকে, যা দৃষ্টি আকর্ষণ করে অথবা মনোযোগ কেড়ে নেয় তাহলে চোখ বন্ধ করে সালাত আদায় করা জায়েয আছে।
৩. কোন ছবি, মূর্তি সামনে রাখা :
কোন প্রাণীর বা মানুষের ছবি, মূর্তি সামনে রেখে সালাত আদায় করা ঠিক নয়। কারণ এতে শিরকের গন্ধ থাকে এবং অমুসলিমদের সাদৃশ্য হয়ে যায়।
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। (তিনি বলেন) আয়েশা (রাঃ) এর একটি (দরজার) পর্দা ছিল, যার দ্বারা তিনি ঘরকে আড়াল করতেন । নবী ﷺ ej‡jb, †n Av‡qkv! G c`©vwU Ly‡j †d‡jv| †Kbbv Gi Qwe¸‡jv mvjv‡Zi g‡a¨ Avgvi bh‡i c‡o| [সহীহ বুখারী, হা/৩৭৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৪০৫৪; জামেউস সগীর, হা/২২৮৫; মিশকাত, হা/৭৫৮।]
৪. প্রাণীর ছবিযুক্ত কাপড় পরে সালাত আদায় করা :
কোন প্রাণীর বা মানুষের ছবি অঙ্কিত কাপড় পরিধান করে সালাত আদায় করা নিষেধ।
৫. আঙ্গুলসমূহকে তাশবীক করা :
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যখন সুন্দরভাবে অযু করে মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হয় তখন সে যেন অবশ্যই তার (দুই হাতের) আঙ্গুলসমূহকে পরস্পরের মধ্যে না ঢুকায়। কারণ তখন সে সালাত অবস্থায় থাকে। [আবু দাউদ, হা/৫৬২; তিরমিযী, হা/৩৮৬; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/৪৪১; মুস্তাদরাকে হাকেম, ১/২০৬; মুসান্নাফে আবদুর রযযাক, হা/৩৩৩৪।]
৬. আঙ্গুল ফুটানো :
সালাতের মধ্যে আঙ্গুল ফুটানো মাকরূহ। কারণ, এটি একটি বাজে ও নিরর্থক কাজ এবং অপর সালাত আদায়কারীদের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটায়।
৭. কোমরে হাত রাখা :
রাসূলুল্লাহ ﷺ সালাত আদায় করার সময় কোমরে হাত রাখতে নিষেধ করেছেন। [সহীহ বুখারী, হা/১২১৯, ১২২০; সহীহ মুসলিম, হা/৫৪৫; মিশকাত, হা/৯৮১।]
৮. কুকুরের মতো বসা :
দুই পায়ের নলা খাড়া রেখে, হাত দুটিকে মাটিতে রেখে এবং দু’নিতম্বের উপর ভর করে কুকুরের মতো বসা নিষিদ্ধ।
আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমরা ধীরস্থিরভাবে সিজদা করো। আর তোমাদের মধ্যে কেউ যেন সালাতের মধ্যে কুকুরের ন্যায় হাত মাটিতে রেখে না বসে। [সহীহ বুখারী, হা/৮২২; সহীহ মুসলিম, হা/১১৩০; নাসাঈ, হা/১১১০।]
৯. টাখনুর নিচে পোশাক পরিধান করা :
পুরুষদের জন্য তাদের কাপড়, লুঙ্গি, পায়জামা, প্যান্ট প্রভৃতি টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পরিধান করা সব সময়ের জন্য নিষিদ্ধ। তাছাড়া মহান বাদশাহর সামনে সালাতে দাঁড়িয়ে অহংকারীদের মতো এমনভাবে কাপড় ঝুলিয়ে রাখা অধিকভাবে নিষিদ্ধ।
১০. মুখ ঢাকা :
সালাতরত অবস্থায় নারী-পুরুষ সকলেরই মুখমন্ডল খোলা রাখতে হবে। কেননা রাসূলুল্লাহ ﷺ সালাতরত অবস্থায় মুখ ঢাকতে নিষেধ করেছেন। [আবু দাউদ, হা/৬৪৩; ইবনে মাজাহ, মিশকাত, হা/৭৬৪।]
১১. কাপড় গুটানো :
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, আমি আদিষ্ট হয়েছি, যেন আমি ৭ অঙ্গ দ্বারা সিজদা করি এবং কাপড় ও চুল যেন না গুটাই। [সহীহ বুখারী, হা/৮১২; সহীহ মুসলিম, হা/১১২৪; নাসাঈ, হা/১১১৩; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/৭৮২।]
অবশ্য কাপড় খুলে গেলে তা পরিধান করা উক্ত নিষেধের আওতাভুক্ত নয়।
সালাত পড়তে পড়তে খুব শীত লাগলে এবং পাশে কাপড় থাকলে সালাত আদায়কারী সালাতের মধ্যেই তা গায়ে জড়িয়ে নিতে পারবে। কারণ না পরলে তার মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটবে। অনুরূপ খুব গরম লাগলেও অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় কাপড় সালাতরত অবস্থাতেই খুলে ফেলতে পারবে।
১২. কাঁধ খোলা রাখা :
কাঁধ খোলা রেখে সালাত আদায় করা নিষিদ্ধ। উমর ইবনে আবু সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে উম্মে সালামা (রাঃ) এর ঘরে একই কাপড়ে সালাত আদায় করতে দেখেছেন, যার দু’মাথা কাঁধের উপর ছিল। [সহীহ বুখারী, হা/৩৫৫; মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/৩১৭; সহীহ মুসলিম, হা/১১৮০।]
১৩. ইমামের পেছনে জোরে কিছু পাঠ করা :
অনেকে ইমামের পেছনে সূরা ফাতিহা, দু‘আ ইত্যাদি পড়ার সময় গুনগুন করে বা ফিসফিস করে। এটা ঠিক নয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, অবশ্যই সালাত আদায়কারী তার প্রতিপালকের সাথে নিরালায় আলাপ করে। সুতরাং সে কী নিয়ে আলাপ করছে তা যেন লক্ষ্য করে (অর্থের প্রতি লক্ষ্য রাখে)। আর তোমাদের কেউ যেন অপরের পাশে কুরআন জোরে না পড়ে। [মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/১৭৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/৩৯২৮; মিশকাত, হা/৮৫৬।]
১৪. খাবার সামনে রেখে সালাত আদায় করা :
খাবার সামনে উপস্থিত থাকলে এবং খাওয়ার ইচ্ছা ও আকাঙ্খা থাকলে তা খেয়ে সালাত আদায় করা উচিত। নতুবা সালাতে মনোযোগের ব্যাঘাত ঘটবে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যদি রাতের খাবার উপস্থিত করা হয় এবং সালাতের সময় উপস্থিত হয়ে যায় তাহলে আগে খাবার শেষ করে নাও। তারপর সালাত আদায় করো। [সহীহ মুসলিম, হা/১২৭০; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৩৬২৫; সহীহ ইবনে হিববান, হা/২০৬৬।]
১৫. প্রস্রাব-পায়খানা আটকে রেখে সালাত আদায় করা :
প্রস্রাব-পায়খানার চাপ থাকলে সেই অবস্থায় সালাত আদায় করা মাকরূহ। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, খাবার সামনে রেখে সালাত নেই। আর যাকে প্রস্রাব-পায়খানার বেগ পেয়েছে তারও সালাত নেই। [সহীহ মুসলিম, হা/১২৭৩; সহীহ ইবণে খুযায়মা, হা/৯৩৩; বায়হাকী, হা/৪৮১৬; মুসত্মাখরাজে আবু আওয়ানা, হা/১০১৫; জামেউস সগীর, হা/১৩৪৬৬; মিশকাত, হা/১০৫৭।]
১৬. তন্দ্রা অবস্থায় সালাত আদায় করা :
ঘুমের ভাব থাকলে সালাত আদায় করা উচিত নয়। বরং একটু ঘুমিয়ে নিয়ে সালাত আদায় করা উচিত। অবশ্য ফরয সালাতের ক্ষেত্রে জামাআত ও নির্দিষ্ট সময় খেয়াল রাখা একান্ত জরুরি।
আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, লোকেরা যেন অবশ্যই সালাতের মধ্যে আকাশের দিকে তাকানো হতে বিরত হয়, নচেৎ তাদের চক্ষু ছিনিয়ে নেয়া হবে। [সহীহ বুখারী, হা/৭৫০; সহীহ মুসলিম, হা/৯৯৪; ইবনে মাজাহ, হা/১০৪৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/৮৩৮৯; মিশকাত, হা/৯৮৩।]
২. চোখ বন্ধ করা :
রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন সালাত আদায় করতেন তখন তাঁর দৃষ্টি থাকত সিজদার জায়গায়। তাশাহ্হুদে বসা অবস্থায় তিনি তর্জনী আঙ্গুলের উপর নজর রাখতেন। এ ছাড়া তিনি চোখ খুলে রাখতেন বলেই আয়েশা (রাঃ) এর দেয়ালে টাঙ্গানো ছবিযুক্ত পর্দা তাঁর সম্মুখ থেকে সরিয়ে নিতে বলেছিলেন। সুতরাং সুন্নাত হলো, চোখ খোলা রেখে সালাত আদায় করা।
তবে যদি একান্ত প্রয়োজন পড়ে; যেমন সামনে এমন কোন জিনিস থাকে, যা দৃষ্টি আকর্ষণ করে অথবা মনোযোগ কেড়ে নেয় তাহলে চোখ বন্ধ করে সালাত আদায় করা জায়েয আছে।
৩. কোন ছবি, মূর্তি সামনে রাখা :
কোন প্রাণীর বা মানুষের ছবি, মূর্তি সামনে রেখে সালাত আদায় করা ঠিক নয়। কারণ এতে শিরকের গন্ধ থাকে এবং অমুসলিমদের সাদৃশ্য হয়ে যায়।
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। (তিনি বলেন) আয়েশা (রাঃ) এর একটি (দরজার) পর্দা ছিল, যার দ্বারা তিনি ঘরকে আড়াল করতেন । নবী ﷺ ej‡jb, †n Av‡qkv! G c`©vwU Ly‡j †d‡jv| †Kbbv Gi Qwe¸‡jv mvjv‡Zi g‡a¨ Avgvi bh‡i c‡o| [সহীহ বুখারী, হা/৩৭৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৪০৫৪; জামেউস সগীর, হা/২২৮৫; মিশকাত, হা/৭৫৮।]
৪. প্রাণীর ছবিযুক্ত কাপড় পরে সালাত আদায় করা :
কোন প্রাণীর বা মানুষের ছবি অঙ্কিত কাপড় পরিধান করে সালাত আদায় করা নিষেধ।
৫. আঙ্গুলসমূহকে তাশবীক করা :
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যখন সুন্দরভাবে অযু করে মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হয় তখন সে যেন অবশ্যই তার (দুই হাতের) আঙ্গুলসমূহকে পরস্পরের মধ্যে না ঢুকায়। কারণ তখন সে সালাত অবস্থায় থাকে। [আবু দাউদ, হা/৫৬২; তিরমিযী, হা/৩৮৬; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/৪৪১; মুস্তাদরাকে হাকেম, ১/২০৬; মুসান্নাফে আবদুর রযযাক, হা/৩৩৩৪।]
৬. আঙ্গুল ফুটানো :
সালাতের মধ্যে আঙ্গুল ফুটানো মাকরূহ। কারণ, এটি একটি বাজে ও নিরর্থক কাজ এবং অপর সালাত আদায়কারীদের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটায়।
৭. কোমরে হাত রাখা :
রাসূলুল্লাহ ﷺ সালাত আদায় করার সময় কোমরে হাত রাখতে নিষেধ করেছেন। [সহীহ বুখারী, হা/১২১৯, ১২২০; সহীহ মুসলিম, হা/৫৪৫; মিশকাত, হা/৯৮১।]
৮. কুকুরের মতো বসা :
দুই পায়ের নলা খাড়া রেখে, হাত দুটিকে মাটিতে রেখে এবং দু’নিতম্বের উপর ভর করে কুকুরের মতো বসা নিষিদ্ধ।
আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমরা ধীরস্থিরভাবে সিজদা করো। আর তোমাদের মধ্যে কেউ যেন সালাতের মধ্যে কুকুরের ন্যায় হাত মাটিতে রেখে না বসে। [সহীহ বুখারী, হা/৮২২; সহীহ মুসলিম, হা/১১৩০; নাসাঈ, হা/১১১০।]
৯. টাখনুর নিচে পোশাক পরিধান করা :
পুরুষদের জন্য তাদের কাপড়, লুঙ্গি, পায়জামা, প্যান্ট প্রভৃতি টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পরিধান করা সব সময়ের জন্য নিষিদ্ধ। তাছাড়া মহান বাদশাহর সামনে সালাতে দাঁড়িয়ে অহংকারীদের মতো এমনভাবে কাপড় ঝুলিয়ে রাখা অধিকভাবে নিষিদ্ধ।
১০. মুখ ঢাকা :
সালাতরত অবস্থায় নারী-পুরুষ সকলেরই মুখমন্ডল খোলা রাখতে হবে। কেননা রাসূলুল্লাহ ﷺ সালাতরত অবস্থায় মুখ ঢাকতে নিষেধ করেছেন। [আবু দাউদ, হা/৬৪৩; ইবনে মাজাহ, মিশকাত, হা/৭৬৪।]
১১. কাপড় গুটানো :
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, আমি আদিষ্ট হয়েছি, যেন আমি ৭ অঙ্গ দ্বারা সিজদা করি এবং কাপড় ও চুল যেন না গুটাই। [সহীহ বুখারী, হা/৮১২; সহীহ মুসলিম, হা/১১২৪; নাসাঈ, হা/১১১৩; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/৭৮২।]
অবশ্য কাপড় খুলে গেলে তা পরিধান করা উক্ত নিষেধের আওতাভুক্ত নয়।
সালাত পড়তে পড়তে খুব শীত লাগলে এবং পাশে কাপড় থাকলে সালাত আদায়কারী সালাতের মধ্যেই তা গায়ে জড়িয়ে নিতে পারবে। কারণ না পরলে তার মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটবে। অনুরূপ খুব গরম লাগলেও অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় কাপড় সালাতরত অবস্থাতেই খুলে ফেলতে পারবে।
১২. কাঁধ খোলা রাখা :
কাঁধ খোলা রেখে সালাত আদায় করা নিষিদ্ধ। উমর ইবনে আবু সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে উম্মে সালামা (রাঃ) এর ঘরে একই কাপড়ে সালাত আদায় করতে দেখেছেন, যার দু’মাথা কাঁধের উপর ছিল। [সহীহ বুখারী, হা/৩৫৫; মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/৩১৭; সহীহ মুসলিম, হা/১১৮০।]
১৩. ইমামের পেছনে জোরে কিছু পাঠ করা :
অনেকে ইমামের পেছনে সূরা ফাতিহা, দু‘আ ইত্যাদি পড়ার সময় গুনগুন করে বা ফিসফিস করে। এটা ঠিক নয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, অবশ্যই সালাত আদায়কারী তার প্রতিপালকের সাথে নিরালায় আলাপ করে। সুতরাং সে কী নিয়ে আলাপ করছে তা যেন লক্ষ্য করে (অর্থের প্রতি লক্ষ্য রাখে)। আর তোমাদের কেউ যেন অপরের পাশে কুরআন জোরে না পড়ে। [মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/১৭৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/৩৯২৮; মিশকাত, হা/৮৫৬।]
১৪. খাবার সামনে রেখে সালাত আদায় করা :
খাবার সামনে উপস্থিত থাকলে এবং খাওয়ার ইচ্ছা ও আকাঙ্খা থাকলে তা খেয়ে সালাত আদায় করা উচিত। নতুবা সালাতে মনোযোগের ব্যাঘাত ঘটবে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যদি রাতের খাবার উপস্থিত করা হয় এবং সালাতের সময় উপস্থিত হয়ে যায় তাহলে আগে খাবার শেষ করে নাও। তারপর সালাত আদায় করো। [সহীহ মুসলিম, হা/১২৭০; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৩৬২৫; সহীহ ইবনে হিববান, হা/২০৬৬।]
১৫. প্রস্রাব-পায়খানা আটকে রেখে সালাত আদায় করা :
প্রস্রাব-পায়খানার চাপ থাকলে সেই অবস্থায় সালাত আদায় করা মাকরূহ। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, খাবার সামনে রেখে সালাত নেই। আর যাকে প্রস্রাব-পায়খানার বেগ পেয়েছে তারও সালাত নেই। [সহীহ মুসলিম, হা/১২৭৩; সহীহ ইবণে খুযায়মা, হা/৯৩৩; বায়হাকী, হা/৪৮১৬; মুসত্মাখরাজে আবু আওয়ানা, হা/১০১৫; জামেউস সগীর, হা/১৩৪৬৬; মিশকাত, হা/১০৫৭।]
১৬. তন্দ্রা অবস্থায় সালাত আদায় করা :
ঘুমের ভাব থাকলে সালাত আদায় করা উচিত নয়। বরং একটু ঘুমিয়ে নিয়ে সালাত আদায় করা উচিত। অবশ্য ফরয সালাতের ক্ষেত্রে জামাআত ও নির্দিষ্ট সময় খেয়াল রাখা একান্ত জরুরি।