hadith book logo

কিতাবুস্ সালাত

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬৫

আযানের জবাব দেয়া ও দু‘আ পড়ার ফযীলত

عَنْ اَبَا هُرَيْرَةَ يَقُوْلُ كُنَّا مَعَ رَسُوْلِ اللهِ -ﷺ - فَقَامَ بِلَالٌ يُنَادِىْ فَلَمَّا سَكَتَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ -ﷺ - : مَنْ قَالَ مِثْلَ هٰذَا يَقِيْنًا دَخَلَ الْجَنَّةَ

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে ছিলাম। এমন সময় সালাতের ওয়াক্ত হলে বিলাল (রাঃ) দাঁড়িয়ে আযান দিলেন। আযান শেষে রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, যে ব্যক্তি বিশ্বাসের সাথে আযানের শব্দগুলো বলবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। [নাসায়ী, হা/৬৮২; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৭৩৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/৮৬০৯; সহীহ ইবনে হিববান, হা/১৬৬৭; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২৪৬; মিশকাত, হা/৬৭৬।]

তাওহীদের বাণী সম্বলিত বাক্যগুলো বিশ্বাস করার পর যে ব্যক্তি তা মুখেও উচ্চারণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। উল্লেখ্য যে, অন্য বর্ণনায় ‘হাইয়া আলাস সালাহ্’ এবং ‘হাইয়া আলাল ফালাহ্’ এর স্থলে ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ্’- বাক্য উচ্চারণ করার কথাও বলা হয়েছে। [নাসায়ী, হা/৬৭৪; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৭৩৫।]

আযান শোনার পর দরূদ ও দু‘আ পড়ার ফযীলত :

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ اَنَّهٗ سَمِعَ النَّبِىَّ -ﷺ - يَقُوْلُ : اِذَا سَمِعْتُمُ الْمُؤَذِّنَ فَقُوْلُوْا مِثْلَ مَا يَقُوْلُ ثُمَّ صَلُّوْا عَلَىَّ فَاِنَّهٗ مَنْ صَلّٰى عَلَىَّ صَلَاةً صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا ثُمَّ سَلُوا اللهَ لِىَ الْوَسِيْلَةَ فَاِنَّهَا مَنْزِلَةٌ فِى الْجَنَّةِ لَا تَنْبَغِىْ اِلَّا لِعَبْدٍ مِنْ عِبَادِ اللهِ وَاَرْجُو اَنْ اَكُوْنَ اَنَا هُوَ فَمَنْ سَاَلَ لِىَ الْوَسِيْلَةَ حَلَّتْ لَهُ الشَّفَاعَةُ

আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী ﷺ কে বলতে শুনেছেন, তোমরা যখন মুয়াজ্জিনকে আযান দিতে শুন, তখন সে যা বলে তোমরা তাই বলো। অতঃপর আমার উপর দরূদ পাঠ করো। কেননা, যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরূদ পাঠ করে আল্লাহ তা‘আলা এর বিনিময়ে তার উপর ১০ বার রহমত বর্ষণ করেন। অতঃপর আমার জন্য আল্লাহর কাছে অসীলা প্রার্থনা করো। কেননা, অসীলা জান্নাতের একটি সম্মানজনক স্থান। এটা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে একজনকেই দেয়া হবে। আশা করি, আমিই হব সে বান্দা। যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে আমার জন্য অসীলা প্রার্থনা করবে, তার জন্য (আমার) শাফা‘আত ওয়াজিব হয়ে যাবে। [সহীহ মুসলিম, হা/৮৭৫; আবু দাউদ, হা/৫২৩; তিরমিযী, হা/৩৬১৪; নাসাঈ, হা/৬৭৮; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/৪১৮; সহীহ ইবনে হিববান, হা/১৬৯০; সিলসিলাহ সহীহাহ, হা/৩২৬৮; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২৫০; মিশকাত, হা/৬৫৭।]

আযান শোনার পর দু‘আ :

১. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি আযান শোনার পর নীচের দু‘আ পড়বে, তার জন্য শাফা‘আত করা আমার উপর ওয়াজিব হয়ে যাবে :

اَللّٰهُمَّ رَبَّ هٰذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ اٰتِ مُحَمَّدَنِ الْوَسِيْلَةَ وَالْفَضِيْلَةَ وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَّحْمُوْدَنِ الَّذِيْ وَعَدْتَّهٗ

উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা রাববা হা-যিহিদ্ দা‘ওয়াতিত্তা-ম্মাহ, ওয়াসসালা-তিল ক্বা-ইমাহ, আ-তি মুহাম্মাদানিল ওয়াসীলাতা ওয়ালফাযীলাহ, ওয়াব‘আছ্হু মাক্বা-মাম্ মাহমূদা নিল্লাযী ওয়া‘আত্তাহ্।

শাব্দিক অর্থ : اَللّٰهُمَّ হে আল্লাহ! رَبَّ তুমিই রব هٰذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ এই পরিপূর্ণ আহবানের وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ ও প্রতিষ্ঠিত সালাতের। اٰتِ مُحَمَّدَنِ মুহাম্মাদ ﷺ কে দান করো اَلْوَسِيْلَةَ অসীলা নামক স্থান وَالْفَضِيْلَةَ এবং মর্যাদা। وَابْعَثْهُ আর তাকে অধিষ্ঠিত করো مَقَامًا مَّحْمُوْدًا সেই প্রশংসিত স্থানে اَلَّذِيْ وَعَدْتَّهٗ যার ওয়াদা তুমি তাকে দিয়েছ।

অর্থ : হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহবান ও প্রতিষ্ঠিত সালাতের তুমিই রব। মুহাম্মাদ ﷺ কে দান করো অসীলা নামক স্থান ও মর্যাদা। আর তাকে অধিষ্ঠিত কর সেই প্রশংসিত স্থানে যার ওয়াদা তুমি তাকে দিয়েছ। [সহীহ বুখারী, হা/৬১৪; আবু দাউদ, হা/৫২৯; তিরমিযী, হা/২১১; ইবনে মাজাহ, হা/৭২২; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৪৮৫৯; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২৫৩; মিশকাত, হা/৬৫৯।]

২. সা‘দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ ﷺ হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি আযান শুনার পর নিচের দু‘আটি পাঠ করবে তার গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।

أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهٗ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهٗ وَرَسُوْلُهٗ رَضِيْتُ بِاللهِ رَبًّا وَّبِمُحَمَّدٍ رَسُوْلًا وَّبِالْاِسْلَامِ دِيْنًا

উচ্চারণ : আশহাদু আল্লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্দাহু লা শারীকা লাহু ওয়া আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহু ওয়ারাসূলুহ, রাযীতু বিল্লা-হি রাববাও ওয়া বিমুহাম্মাদিন রাসূলাও ওয়া বিল ইসলা-মি দ্বীনা।

শাব্দিক অর্থ : أَشْهَدُ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, أَنْ لَّا إِلٰهَ কোন মাবূদ নেই إِلَّا اللهُ আল্লাহ ব্যতীত وَحْدَهٗ তিনি একক, لَا شَرِيْكَ لَهٗ তাঁর কোন শরীক নেই وَأَنَّ مُحَمَّدًا এবং মুহাম্মাদ ﷺ عَبْدُهٗ তাঁর বান্দা وَرَسُوْلُهٗ এবং তাঁর রাসূল। رَضِيْتُ আমি সন্তুষ্ট হয়েছি بِاللهِ رَبًّا আল্লাহকে রব হিসেবে, وَّبِمُحَمَّدٍ رَسُوْلًا মুহাম্মাদ ﷺ কে রাসূল হিসেবে وَّبِالْاِسْلَامِ دِيْنًا এবং ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পেয়ে।

অর্থ : আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন মাবূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই এবং মুহাম্মাদ ﷺ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আমি আল্লাহকে রব, মুহাম্মাদ ﷺ কে রাসূল এবং ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছি। [সহীহ মুসলিম, হা/৮৭৭; আবু দাউদ, হা/৫২৫; তিরমিযী, হা/২১০।]

আযানের দু‘আর শব্দে বাড়াবাড়ি ঠিক নয় :

আযানের দু‘আর ক্ষেত্রে সহীহ বর্ণনা অনুযায়ী যে শব্দগুলো এসেছে তার মধ্যে ‘ওয়া‘আত্তাহ্’ পর্যমত্মই দু‘আ সমাপ্ত করা হয়েছে। কিন্তু ‘ইন্নাকা লা-তুখলিফুল মী‘আদ’ এ অংশটি ইমাম বায়হাকী তার সুনানুল কুবরা গ্রন্থে হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন। [সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/২০০৯।]

আবার অনেকে আযানের দু‘আর মধ্যে নিজেদের থেকে কিছু শব্দ বৃদ্ধি করে দিয়েছেন। যেমন- ‘‘ওয়াদ্দারাজাতার রাফী‘আহ্, ওয়ার যুক্বনা শাফা-‘আতাহূ ইয়াওমাল ক্বিয়ামাহ্’’ ইত্যাদি। এ শব্দগুলো হাদীসে নেই। যেখানে নবী ﷺ থেকে স্পষ্ট বর্ণনা আছে সেখানে দু‘আর মধ্যে শব্দ বৃদ্ধি করে বলা ঠিক নয়। যেভাবে নবী ﷺ শিখিয়েছেন সেভাবেই পড়া উচিত।

আযানের সময় নবী ﷺ এর নাম শুনে আঙ্গুলে চুমু খাওয়া বিদআত :

অনেকে আযানের সময় মুয়াজ্জিন যখন ‘‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ’’ বলে থাকেন তখন আঙ্গুলে চুমু খায় এবং এ সময় দরূদ পাঠ করে। এ আমল হাদীস সম্মত নয়। হাদীসের আমল হচ্ছে, মুয়াজ্জিন যা বলেন, উত্তরে তাই বলতে হবে। বিধায়, ‘‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ’’ বলার সময় এই শব্দটি বলতে হবে। এ সময় দরূদ পাঠ করা যাবে না। বরং হাদীসে আযানের শেষে দরূদ পড়ার কথা বলা হয়েছে।