hadith book logo

কিতাবুস্ সালাত

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪

পবিত্রতা অর্জনের গুরুত্ব

তাহারাত তথা পবিত্রতা অর্জন করা অত্যমত্ম জরুরি। একজন মুমিনের সর্বপ্রথম দায়িত্ব হলো ঈমানদার হওয়া। কোন ব্যক্তি যখন ঈমানদার হয় তখন তার উপর সালাত আদায় করা ফরয হয়ে যায়। কিমত্মু সালাত আদায়ের পূর্বশর্ত হচ্ছে পবিত্রতা অর্জন করা। এজন্য পবিত্রতা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুমিনের একামত্ম কর্তব্য। কুরআন ও হাদীসে এ ব্যাপারে অনেক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ﴾

আর আপনার পোশাক পবিত্র করুন। (সূরা মুদ্দাস্সির- ৪)

এ আয়াতে সকল মুসলিমকে পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পবিত্রতা অর্জন করা ঈমানের অর্ধেক :

عَنْ أَبِيْ مَالِكٍ اَ لْأَشْعَرِيِّ ، قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ‏ : ‏ اَلطُّهُوْرُ شَطْرُ الْإِيْمَانِ

আবু মালিক আল আশ‘আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, পবিত্রতা হলো ঈমানের অর্ধাংশ। [সহীহ মুসলিম, হা/৫৫৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/২২৯৫৩; দারেমী, হা/৬৫৩; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১৮৯; মিশকাত, হা/২৮১।]

পবিত্রতা অর্জন না করলে সালাত কবুল হয় না :

عَنْ أَنَسِ ، قَالَ : سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ : لَا يَقْبَلُ اللهُ صَلَاةً بِغَيْرِ طُهُوْرٍ ، وَلَا صَدَقَةً مِنْ غُلُوْلٍ

আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা পবিত্রতা ছাড়া সালাত কবুল করেন না এবং চুরির মালের সাদাকাও কবুল করেন না। [সহীহ মুসলিম, হা/৫৫৭; আবু দাউদ, হা/৫৯; তিরমিযী, হা/১; নাসাঈ, হা/১৩৯; ইবনে মাজাহ, হা/২৭৩।]

এ হাদীসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, পবিত্রতা অর্জন না করলে কোন ব্যক্তির সালাত শুদ্ধ হয় না। অথচ সালাত হচ্ছে ঈমানের একটি মূল ভিত্তি। যার উপর কোন ব্যক্তির মুসলিম হওয়া নির্ভর করে। আর তা সম্পাদন করতে যেহেতু পবিত্রতা অর্জন করাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে তা থেকে অতি সহজেই বুঝা যায় যে, পবিত্রতা অর্জন করা অতিব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

অপর হাদীসে এসেছে,

عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ : لَا تُقْبَلُ صَلَاةُ مَنْ أَحْدَثَ حَتّٰى يَتَوَضَّأَ

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি অপবিত্র হবে সে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তার সালাত কবুল হবে না। [সহীহ বুখারী, হা/১৩৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/৮০৬৪; মিশকাত, হা/৩০০।]

আল্লাহ তা‘আলা পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে ভালোবাসেন :

কুবার অধিবাসী মুসলিমগণ ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জন করত। তাই তাদের প্রশংসা করে আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,

﴿فِيْهِ رِجَالٌ يُّحِبُّوْنَ اَنْ يَّتَطَهَّرُوْاؕ وَاللهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِيْنَ﴾

তথায় এমন লোক আছে, যারা পবিত্রতা অর্জন করতে ভালোবাসে; আর আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে পছন্দ করেন। (সূরা তাওবা- ১০৮)

অন্য আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আরো বলেন,

﴿اِنَّ اللهَ يُحِبُّ التَّوَّابِيْنَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِيْنَ﴾

নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাকারীদেরকে ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অবলম্বন কারীদেরকেও ভালোবাসেন। (সূরা বাকারা- ২২২)

অপবিত্র থাকা কবরের শাস্তির কারণ :

আবদুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী ﷺ দুটি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। তখন তিনি বললেন, এ কবর দুটির মধ্যে শাসিত্ম হচ্ছে। তবে তারা বড় কোন অপরাধের জন্য শাসিত্ম ভোগ করছে না। বরং তাদের একজন এমন ছিল যে, সে প্রস্রাবের সময় পর্দা করত না। অন্য বর্ণনায় আছে, সে প্রস্রাবের ছিটা থেকে সাবধান থাকত না। আর অন্য জনের অভ্যাস ছিল সে চোগলখুরি করে বেড়াত। [সহীহ বুখারী, হা/২১৮; সহীহ মুসলিম, হা/৭০৩; আবু দাউদ, হা/২০; তিরমিযী, হা/৭০।]