১
কিতাবুস্ সালাত
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৭৬
সালাতের পোশাক
সালাতের সময় উত্তম পোশাক পরিধান করার নির্দেশ :
﴿يَا بَنِيْۤ اٰدَمَ خُذُوْا زِيْنَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَّكُلُوْا وَاشْرَبُوْا وَلَا تُسْرِفُوْاۚ اِنَّهٗ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِيْنَ﴾
হে বনী আদম! তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় সুন্দর পোশাক পরিধান করো; আর তোমরা আহার করো এবং পান করো, তবে অপচয় করো না। নিশ্চয় তিনি অপচয়কারীকে পছন্দ করেন না। (সূরা আ‘রাফ- ৩১)
সালাতে দাঁড়ানোর সময় সামর্থ্যানুযায়ী পরিপূর্ণ ও ভালো পোশাক পরে নিতে হবে, যার মাধ্যমে লজ্জাস্থান আবৃত হওয়ার সাথে সাথে সৌন্দর্যের প্রকাশও ঘটবে এবং অন্তত এতটুকু মহত্তর মানে পৌঁছতে হবে, যার ফলে পোশাক তাক্বওয়ার পোশাকে পরিণত হয়।
পুরুষদের পোশাক :
১. একজন পুরুষকে তার সামর্থ্যানুযায়ী শালীনতাপূর্ণ পোশাক পরতে হবে- এটাই বিধান। যে কোন পোশাক যা সামাজিকভাবে শোভনীয় তা সালাতের জন্যও গ্রহণীয়।
২. সালাতের সময় উভয় কাঁধ ঢাকা জরুরি। [সহীহ বুখারী, হা/৩৫৫; আবু দাউদ, হা/৬২০।]
৩. এত টাইট পোশাক পরিধান করা যাবে না, যাতে শরীরের ভাঁজ ফুটে উঠে এবং বসতে ও সালাত পড়তে কষ্ট হয়।
৪. পুরুষের পোশাক যেন মহিলাদের পোশাকের অনুরূপ না হয়।
৫. পোশাক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হতে হবে।
৬. সুন্দর পোশাক পরিধানে কোন আপত্তি নেই, কারণ আল্লাহ সৌন্দর্য পছন্দ করেন, তবে এরূপ পোশাক পরিধান করে অহংকার প্রকাশ করলে তার পরিণাম ভালো নয়। নবী ﷺ বলেছেন, হালালের মধ্যে যা ইচ্ছা খাও, যেমন ইচ্ছা পরিধান করো, তবে তাতে যেন দুটি জিনিস না থাকে, অপচয় এবং অহংকার। [সহীহ বুখারী, কিতাবুল লিবাস; ইবনে মাজাহ, হা/৩৬০৫।]
৭. সাজ-সজ্জার মাধ্যমে শরীরের শোভা বর্ধন করার ক্ষেত্রে সীমা অতিক্রম করবে না; আবার ব্যক্তির মর্যাদার চেয়ে নিম্নমানের পোশাকও পরবে না।
৮. অমুসলিমদের সাদৃশ্য হয় এমন পোশাক পরিধান করা যাবে না। [আবু দাউদ, হা/৪০৪৩; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২৭২৩; মিশকাত হা/৪৩৪৭।]
৯. পুরুষদের জন্য রেশমের পোশাক পরিধান করা হারাম । [সহীহ বুখারী, হা/৫৮২৯; সহীহ মুসলিম, হা/৫৫১০; মিশকাত হা/৪৩২১, ৪৩৮১।]
১০. পুরুষদের জন্য যে কোন পোশাক টাখনুর নীচে পরাও হারাম। [সহীহ বুখারী, হা/৫৭৮৭; নাসাঈ, হা/৫৩৩১;মুসনাদে আহমাদ, হা/৯৩০৮।]
মহিলাদের পোশাক :
১. মহিলাদের পোশাক এমন হতে হবে, যাতে হাতের কব্জি ও পায়ের টাখনুর নিচের অংশ ছাড়া সম্পূর্ণ শরীর আবৃত থাকে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿يَاۤ اَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِّاَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَآءِ الْمُؤْمِنِيْنَ يُدْنِيْنَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيْبِهِنَّ ذٰلِكَ أَدْنٰۤى أَنْ يُّعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ وَكَانَ اللهُ غَفُوْرًا رَّحِيْمًا﴾
হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মুমিন নারীদেরকে বলো, তারা যেন তাদের চাঁদরের কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। (সূরা আহযাব- ৫৯)
২. মাথা কাপড় দিয়ে ঢাকা ছাড়া অর্থাৎ চুল সম্পূর্ণ না ঢাকলে সাবালিকা মহিলার সালাত কবুল হয় না।
৩. মহিলাদের পোশাক যেন পুরুষের পোষাকের অনুরূপ না হয়।
৪. এমন পোশাক পরিধান করা যাবে না, যা শরীরের সাথে একদম লেগে থাকে এবং শরীরের উঁচু-নীচু প্রকাশ পায়।
﴿يَا بَنِيْۤ اٰدَمَ خُذُوْا زِيْنَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَّكُلُوْا وَاشْرَبُوْا وَلَا تُسْرِفُوْاۚ اِنَّهٗ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِيْنَ﴾
হে বনী আদম! তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় সুন্দর পোশাক পরিধান করো; আর তোমরা আহার করো এবং পান করো, তবে অপচয় করো না। নিশ্চয় তিনি অপচয়কারীকে পছন্দ করেন না। (সূরা আ‘রাফ- ৩১)
সালাতে দাঁড়ানোর সময় সামর্থ্যানুযায়ী পরিপূর্ণ ও ভালো পোশাক পরে নিতে হবে, যার মাধ্যমে লজ্জাস্থান আবৃত হওয়ার সাথে সাথে সৌন্দর্যের প্রকাশও ঘটবে এবং অন্তত এতটুকু মহত্তর মানে পৌঁছতে হবে, যার ফলে পোশাক তাক্বওয়ার পোশাকে পরিণত হয়।
পুরুষদের পোশাক :
১. একজন পুরুষকে তার সামর্থ্যানুযায়ী শালীনতাপূর্ণ পোশাক পরতে হবে- এটাই বিধান। যে কোন পোশাক যা সামাজিকভাবে শোভনীয় তা সালাতের জন্যও গ্রহণীয়।
২. সালাতের সময় উভয় কাঁধ ঢাকা জরুরি। [সহীহ বুখারী, হা/৩৫৫; আবু দাউদ, হা/৬২০।]
৩. এত টাইট পোশাক পরিধান করা যাবে না, যাতে শরীরের ভাঁজ ফুটে উঠে এবং বসতে ও সালাত পড়তে কষ্ট হয়।
৪. পুরুষের পোশাক যেন মহিলাদের পোশাকের অনুরূপ না হয়।
৫. পোশাক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হতে হবে।
৬. সুন্দর পোশাক পরিধানে কোন আপত্তি নেই, কারণ আল্লাহ সৌন্দর্য পছন্দ করেন, তবে এরূপ পোশাক পরিধান করে অহংকার প্রকাশ করলে তার পরিণাম ভালো নয়। নবী ﷺ বলেছেন, হালালের মধ্যে যা ইচ্ছা খাও, যেমন ইচ্ছা পরিধান করো, তবে তাতে যেন দুটি জিনিস না থাকে, অপচয় এবং অহংকার। [সহীহ বুখারী, কিতাবুল লিবাস; ইবনে মাজাহ, হা/৩৬০৫।]
৭. সাজ-সজ্জার মাধ্যমে শরীরের শোভা বর্ধন করার ক্ষেত্রে সীমা অতিক্রম করবে না; আবার ব্যক্তির মর্যাদার চেয়ে নিম্নমানের পোশাকও পরবে না।
৮. অমুসলিমদের সাদৃশ্য হয় এমন পোশাক পরিধান করা যাবে না। [আবু দাউদ, হা/৪০৪৩; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২৭২৩; মিশকাত হা/৪৩৪৭।]
৯. পুরুষদের জন্য রেশমের পোশাক পরিধান করা হারাম । [সহীহ বুখারী, হা/৫৮২৯; সহীহ মুসলিম, হা/৫৫১০; মিশকাত হা/৪৩২১, ৪৩৮১।]
১০. পুরুষদের জন্য যে কোন পোশাক টাখনুর নীচে পরাও হারাম। [সহীহ বুখারী, হা/৫৭৮৭; নাসাঈ, হা/৫৩৩১;মুসনাদে আহমাদ, হা/৯৩০৮।]
মহিলাদের পোশাক :
১. মহিলাদের পোশাক এমন হতে হবে, যাতে হাতের কব্জি ও পায়ের টাখনুর নিচের অংশ ছাড়া সম্পূর্ণ শরীর আবৃত থাকে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿يَاۤ اَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِّاَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَآءِ الْمُؤْمِنِيْنَ يُدْنِيْنَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيْبِهِنَّ ذٰلِكَ أَدْنٰۤى أَنْ يُّعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ وَكَانَ اللهُ غَفُوْرًا رَّحِيْمًا﴾
হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মুমিন নারীদেরকে বলো, তারা যেন তাদের চাঁদরের কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। (সূরা আহযাব- ৫৯)
২. মাথা কাপড় দিয়ে ঢাকা ছাড়া অর্থাৎ চুল সম্পূর্ণ না ঢাকলে সাবালিকা মহিলার সালাত কবুল হয় না।
৩. মহিলাদের পোশাক যেন পুরুষের পোষাকের অনুরূপ না হয়।
৪. এমন পোশাক পরিধান করা যাবে না, যা শরীরের সাথে একদম লেগে থাকে এবং শরীরের উঁচু-নীচু প্রকাশ পায়।